বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, কিন্তু আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে এখন মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিপূর্ণ ভাবে স্বাধীন হয়নি। আপনার কি বলতে পারেন, কেন এই কথা বললাম। আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখিনি, শুধু ইতিহাস বা পত্রিকা মিডিয়ায় দেখেছি। জন্মের পর বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে শুনে এসেছিলাম যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। আর সেটার বিভিন্ন প্রমাণও দেশ ও জাতির কাছে ছিলো, আর জিয়া স্বাধীণতার যে ঘোষনা দিয়েছিলেন তা দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে, আর আজ এতো দিন পরে বাংলাদেশ হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি
এবিএম খায়রুল হক ও বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম এ সালামের দায়ের করা এক জনস্বার্থ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেয়।
সেইসঙ্গে আদালত জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র"-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করেছে। এই খণ্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বাজেয়াপ্তের আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হযেছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, যারা এরকম ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত তারা সংবিধান লংঘন করেছে। যারা বিকৃত ইতিহাস রচনা করেছেন সেই প্রত্যয়ন কমিটির বিরুদ্ধে ধোকাবাজি ও সংবিধান লংঘনের অভিযোগে সরকার চাইলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
হাইকোর্ট দেশের সব মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাধ্যতামূলকভাবে সন্নিবেশ করার জন্যও সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত রায়ে বলেছে, "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র" এর তৃতীয় খন্ডে স্বাধীনতা ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পরিপন্থী ও আইন বাহির্ভূত বিবেচনায় বাতিল ঘোষণা করা হল।
"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, প্রকাশনা, দলিলপত্র পর্যালোচনা করে আদালত সেই সত্যটিই এই ঐতিহাসিক রায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।"
ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসির মামুন বলেন, "যা সত্য ছিল আদালত রায়ে তা তুলে ধরেছে। এই রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- যারা ইতিহাস বিকৃতির জন্য দায়ী সরকার তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।"
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত লে. কর্নেল জিয়াউর রহমানের লেখা জাতির জনক শিরোনামের প্রবন্ধের উল্লেখ করে আদালত বলেন, জিয়াউর রহমান ওই প্রবন্ধে ২৫ মার্চের বিস্তারিত বিবরণ দেন। কিন্তু কোথাও নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক বলে আখ্যায়িত করেন। এতে জিয়াউর রহমানের সততার প্রকাশ পায়।
১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের দেওয়া ভাষণের উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সম্পর্কে জিয়াউর রহমান তার ভাষণে বলেছিলেন 'কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে আপনাদের উদ্দেশে কথা বলার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।' কিন্তু তিনি ওই ভাষণেও নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি।
শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে এতে বলা হয়, ছাত্রনেতা থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা এবং এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার হয়েছেন। জীবনের তিন ভাগের একভাগ শেখ মুজিব কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি একাত্তুরের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতারের পর ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক সরকার তার মনোবলে একটুও চির ধরাতে পারেনি। কোনো মুচলেকায় তিনি স্বাক্ষর করেননি।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি কেবল শ্রেষ্ঠ মুুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষকই ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা একাত্তুরের ২৬ মার্চ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে গিয়েছিল। এই ঘোষণার কথা সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
"এ অবস্থায় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র'-এর তৃতীয় খন্ডে প্রকাশিত স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্য অসত্য। ইতিহাস বিকৃত করার জন্যই এই প্রকাশনা।"
এখন আমার প্রশ্ন বাংলাদেশে আর কত দিন চলবে এই ইতিহাস বিকৃতি, কারণ এখন আওয়ামীলীগ সরকারে আছে বলে তারা ইতিহাস যেভাবেই হোক মুজিবের নামের উপরে নিবে। আর যার কারণে তারা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বই প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষনাও করিয়েছে হাইকোর্টের মাধ্যমে। আবার এর পরে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসবে তখন তারা আবার এমনটা করবে, এখন বলুন বাংলাদেশের জনগন এখন কি ইতিহাস ঠিক রাখার জন্য বাংলাদেশে আবার স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে হবে, আবার কি স্বাদীনতার ঘোষক তৈরী করতে হবে নাকি আমাদের যারা আগামী প্রজন্ম আসবে তারা সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


