আমি রেগুলার মোটামুটি ভাবে সবার আগেই অফিস এ আসি।
আমার আইটি সি-টি-ও, সেও খুব সকাল সকাল অফিস এ আসে, তবে বেশীর ভাগ সময় আমার আসার ঠিক একটু পরেই আসে।
অফিসে এসে আমার নিত্তদিনের প্রথম কাজ হলো অফিস মেইল, নিজের জি-মেইল চেক করে ১-২ ঘন্টা প্রথম-আলো পেপার পড়া।
আমার অফিসে এসেই পেপার পড়া দেখে সে ভাবে আমি হয়ত কোন প্রার্থনা পড়ি,সে তো আমার ভাষা বুঝে না,মাঝে মাঝে জিজ্ঞেসও করে প্রার্থনা কিনা!
এরপর যখন লিংকডইন এ রেজিষ্টার করলাম,শুরুতে তখন সারা দিন কামের বারোটা বাজাইয়া চিন্তা করতাম
কিভাবে নেটওয়ার্ক বাড়ানো যায়, সারাদিনে চোদ্দবার সাইটে ঢুকতাম , এটা সেটা করতাম। কিছু দিনের
মধ্যে সেই ভুত গেলো...গা !যদিও প্রফেসনালদের জণ্য ওটাই সবথেকে ভাল ও উপকারী নেটওয়ার্ক সাইট।
তারপর লাগলাম টেকনিকাল আর্টিকেল লেখার পিছনে। সারাদিন অফিসে বসে কাজের ফাকে আর্টিকেল লেখা, পষ্টও
করলাম কোন এক পপুলার সাইটে। প্রথম আর্টিকেলটা রিতিমতো সেই মাসের বেস্ট আর্টিকেল হিসাবে সীকৃতও হইল। দুই মাসের
মধ্যে আর্টিকেল লেখার ভুত মাথার থেকে গেল গা! কারন এর জন্য চিন্তা ও সময়ের দরকার হয়।
যদিও ভাবছিলাম এটা কনটিনিউ করবো, কিন্তু আর হয়না। এচ্ছা আছে শুধু এটাকেই ঠিকমত কনটিনিউ করার।
তারপর লাগলাম ফেসবুকের পিছনে, হলাম রেজিষ্টার, শুরুতেই ২০০ নাম না জানা, না চেনা ছেলে মেয়েকে
ফেরেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠালাম, কেউ কেউ একসেপ্ট করলো আবার কেউ কেউ করলো না, তবে যারা একসেপ্ট
করল তারা সবাই, পাবলিকের জন্য নিবেদিত বন্ধু বলে মনে হলো, তার কারন তাদের ফ্রেন্ডলিস্টে সংখা ৫০০ - ২০০০
বা তারও বেশী দেখলাম। এরপর, কয়েকমাস পরে শুধু কয়েক জনকে ছারা তাদের সবাই কে আবার ডিলিট করলাম!
সেই ফেসবুকেও একই অবস্থা, সারাদিনে অফিসে বসে চৌদ্দবার লগইন করা, এটা সেটা দেখা, কমেন্ট করা ইত্যাদি।
যদিও এদানিং ভাবছি এটারও কনট্রল দরকার,এটাও সাভাবিক চিন্তা ও কাজকর্মে ব্যঘাত ঘটায়।
এরপর লাগলাম গুগোল ব্লগার এর পিছনে, আবার রেজিষ্টার, কিছু লেখার চেষ্টা, যদিও এখানে আমার ঘুরাঘুরি টা
খুবই কম। তবুও মাঝে মাঝে লেখার চেষ্টা করি।
তবে আরও অনেক সামাজিক সাইট ও ভিন্ন সাইটেও রেজিষ্টার করেছি ও করা আছে, সেগুলাতে খুবই রেয়ার ঢু মারি।
এরপর লাগলাম সামহোয়ারআউট(ইন) এর পিছনে। গত কয়েকদিন ধরে টানা এর পিছনে আছি। সারাদিন ধরে
অনেক সময় কাজের বারোটা বাজাইয়া, কাজের মাঝে ১০০ বার ব্লগ পড়া, লেখার চেষ্টা, কমেন্ট দেখা, জবাব দেয়া ইত্যাদি।
যদিও সবসময় নির্ধারিত কাজ আগেই শেষ করে কিংবা না থাকলেই এগুলা করি, কাজের প্রাধান্যটায় বেশী এবং আগে।
বস ও কলিগ রা কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞ্যেস করে, জাকির- এটা কি, ওটা কি, কোন ভাষা, ইত্যাদি !
আমিও তাদের কে বোঝাবার চেষ্টা করি সবসময় সবকিছু। তবে বুঝতে পারছি এটাও আমার আসল কন্সেনট্রেশানে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
তাই ভাবছি মাঝে মাঝে শুধু কিছু ভাবণা, চিন্তা, অনুভুতি ও অভিজ্ঞতা লিখে রাখব।
কারও কমেন্ট পাবার আশাই নয়, শুধু সংরক্ষনের জন্যে।
তবে সামুতে একটা ব্যাপার খুবই প্রসংসনীয়, কিছু ব্লগার এমন কিছু তথ্যভিত্তিক পষ্ট দেয় যাহা অন্নসবার জানা ও জ্ঞ্যান বিদ্ধিতে
যথেষ্ট সহায়ক।
তবে এটা আমার মনে হয়েছে যে, যারা কর্মের মধ্যে থাকে, এগুলা তাদের প্রডাক্টিভিটি বাধা গ্রস্থ্য করে।
আমার মতে, সবার ক্ষেত্রেই এটাই হওয়া সাভাবিক। যদিও চিন্তাশিল কর্মের মাঝে বিনোদনের খুবই দরকার রয়েছে।
তবে কাজের মাঝে রিলাক্স বা বিনোদন নিতে গিয়ে বাড়াবারি রকমের ভিন্ন কাজে সময় ব্যয় বা
ভিন্ন কাজে মস্তিষ্ক কে বিজি রাখা অনেকটা দায়িত্তের প্রতি অবহেলা বা নিজের প্রডাক্টিভিটির অবনতির শামিল।
তবে সামাজিক সাইট গুলো শুধুই বিনোদন না, আরও অনেক কল্যানকর কাজেও লাগে। তবে আমরা কেউ কেউ
এর পিছনে অনেক মুল্যবান সময়ও ব্যায় করি অকারনে, কেনণা এগুলার জন্য অনেক সময়ের দরকার হয়।
যার কারনে অনেক সময়, আমাদের ভিন্ন কোন ভাল কাজের চিন্তা করা বা কল্যানকর কাজ করারও সময় থাকে না!
ভাল কাজত দিনরাত ব্লগের পাতার ব্লগ লিখে সম্ভব না...!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

