somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই কি বুলি আওড়ানো ......!

২২ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেদিন প্রথম আলোতে দিন বদলের স্লোগান নিয়ে ক্যম্পেইন শুরু করেছিল, ওয়াদা সংগ্রহ অভিযান।
বিষয়টা আমার বেশ ভাল লেগেছিল। আমি দূরে থাকলেও সেদিন আমার পরিচিত বন্ধু ও সবার কাছে মেইল
দিয়ে আহবান করেছিলাম, আসুন আমরাও একে অপরের কাছে অন্তত মেইল দিয়ে কিছু ভাল কাজের
ওয়াদা করি, হয়ত আমরা অনেকে এম্নিতেই যথেষ্ট ভাল, তারপরও ওয়াদা নিজের মনের কাছে একটা বাড়তি
দায়বদ্ধতা তৈরি করে। খুব বড় কোন কাজ না হলেও ছোট কিছু কাজ,যেগুলা আমাদের সকলের নিজের সার্থে খুবই প্রয়োজন।
যেমন ধরুন (প্রথম-আলোর কথায়):

১। ইচ্ছাকৃত ভাবে এখানে সেখানে ময়লা না ফেলা।
২। যেখানে অভারব্রিজ আছে সেখানে অভারব্রিজ ব্যাবহার করা।
৩। অন্যায় কিছু দেখলে অন্তত এগিয়ে গিয়ে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা না থাকলেও অন্তত প্রতিবাদ করা,
সেটাও কোন ক্ষেত্রে সম্ভব না হলে অন্তত অন্যায় কারিকে বোঝাবার চেষ্টাকরা, ভূল ধরিয়ে দেওয়া।
তাহলে নিশ্চয় অন্যায় কারী খুন করে ফেলবে না!
৪। আমরা অনেকে লম্বা কথা বললেও, আমাদের নিজেদের পরিবারের মধ্যেই অনেকে রয়েছে ভূল নীতিতে বিষ্বাসি এবং অন্যায়
কাজে উতসাহী। নিজের পরিবারের মধ্যে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করা সহজ জেনেও আমরা দেখেও না দেখার ভান করি।
অথবা নিজের রক্তের প্রতি আলাদা রকমের ভালোবাসা থেকে নিরবে সবকিছু মেনে নিয়ে মৌনসন্মতি দিয়ে থাকি।
৫। এইরকম আরও অণেক কিছু ছোট খাটো ব্যপার রয়েছে যেগুলো করতে পকেটের পয়সা লাগে না, অনেক কষ্ট করতেও হয়না কিংবা
অধিক শক্তি বা সমর্থবান হতে হয়না, সামান্য সদিছা থাকলেই হয়।

কিন্তু অতি আফসোসের বিষয়, সেদিন আমার ১০০-১৫০ টা মেইলের একটাও জবাব পায়নি।
অথচ তাদেরই অনেক কে অনেক বড় বড় নিতিকথা বলতে দেখা যায়, অনেক সুন্দর সন্দর উপদেশও দিতে পারে।
হয়ত সেদিন তারা ভেবেছিল, ওহ! দেশের বাইরে থেকে অনেক বড় কথা বলা যায়, দেশে এসে করে দেখুক!
অথবা ভেবেছিল, ফাউল টকিংস...বেক্কল কোথাকার ! :)

আসলে আমারা অনেক সময় নিজেদেরকে প্রচলিত ব্যবস্থা থেকে বেরকরে আত্ত্ব পরিবর্তন করতে লজ্জা পাই।
যেমন ধরুন,
আপনার হাতে একটা ময়লার প্যাকেট আছে...আপনি হাতে নিয়ে জায়গা খুজছেন, উপযুক্ত জায়গায় ফেলবার জন্য।
তার চেয়ে হাতে নিয়ে খুজাখুজি না করে, হুটকরে রাস্তার মাঝে ফেলেদিন...ঝামেলা শেষ। আপনার হাতে প্যাকেট নিয়ে
খুজাখুজি দেখলে লোকজন কৌতুহলী চোখে তাকাতে পারে, আবার হাসতেও পারে। এটাই আমাদের দেশে সাভাবিক। তারচেয়ে দরকার কি!
জায়গা খুজ়াখুজি করার অথবা হাতে করে বাড়ি পর্যন্ত বয়ে নিয়ে যাবার!

সবাই রাস্তার মাঝ দিয়ে পারাপার হছে, আপণি একাএকা অভারব্রিজ দিয়ে পার হলেন, লোকজন আপনাকে পাগল বা বেক্কল ভাবতে
পারে। কেউ কেউ মনে মনে হাসতেও পারে। আপনারও সামান্য বেশী ক্যলোরি খরচ হতে পারে, তার থেকে সেটাই ভাল,
লজ্জা আর ক্যলোরি বাচিয়ে চলা!

এই ভাবেই আমারা জেনেবুঝে অসংক্ষ কাজ করি অথচ নিজেকে সামান্য পরিবর্তনেরও চেষ্টা করিনা। বুঝতে চাইনা একজনের
দেখাদেখি আরেকজন এভাবেই এক এক করেই একদিন কোটিতে গিয়ে ঠেকবে।

একজনত আবার বলেই বসেছিল, প্রথম-আলোর কথা কানে নিবেন না,
প্রথম-আলোর উদ্দেশ্য এই সেই অনেক কথা! ভালো কে ভাল ভাবে না দেখে প্রথম-আলো নিয়ে টানাটানি। খুবই হাস্যকর।

ভোটের শুরুতে অনেক কে বলতে শুনেছি, কোনো দল ভাল না, কেউ ভালোনা, সবাই চোর কাজেই কাউকেই ভোট দিব না।
আসলে তারা নিজেদেরকেই বিচ্ছিন্ন রাখতে চাই। কোন পরিবর্তনে শামিল হতে চাই না। কোনকিছু সম্ভব না ভেবে ভয় পাই।
তারা অনেকটা শিশুর মতো, ভাল কিছু মুখে তুলে দিলে খাবে, তা না হলে খুধা পেলে কান্না করবে।

অথচ আমরাই আলোচনা, তর্কের সমায় কত যুক্তি, তথ্য দিয়ে কত সুন্দর সুন্দর কথা বলি! এই করব সেই করব, এটা ঠিক না
ওটা ঠিক না,এটা এমন না ওমন হলে ভাল হত ...নানা বিজ্ঞের মত কথা। কিন্তু যখন নিজেই নিজের কথা ভাবি নিজের দিকে তাকাই
তখন দেখি ফাকা ...শুন্যতা ছারা কিছুই নাই। বুলি আওড়ানো ছাড়া কোন মুরুদ ই যেন ণাই...!
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×