somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুকেশ আম্বানির বাড়ি: ৬ জন মানুষ, ১৬৮টি গাড়ি ও ৬০০ ভৃত্যের আবাস

১৭ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৬ জন মানুষের একটি ছোট পরিবারের জন্য এমন বাড়ি খুজে পাওয়া সত্যিই কঠিন যেখানে ১৬৮টি গাড়ি এবং ৬০০ ফুলটাইম ব্যক্তিগত সহকারী সহ বসবাস করা যায়। ভারতের দ্বিতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানী তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এইসব কিছুর জন্য মানানসই একটি বাড়ি বানাবেন। স্বচ্ছ কাচেঁ ঘেরা ২৭ তলা এই বাড়িতে থাকবে গাড়ির পার্কিং, ওয়ার্কশপ, তিনটি হ্যালিপেড, থিয়েটার, জিম, সুইমিং পুল ও ব্যাবিলনের শুন্য উদ্যানের আদলে ঝুলন্ত বাগানবাড়ি। ৬০ তলা উচু এই দালানের নির্মান শেষ হবে ২০০৮ সাল নাগাদ। ইতিমধ্যে এই বাড়ি নিয়ে চলছে ভারতসহ বিশ্ব মিডিয়ায় নানা জল্পনা কল্পনা। কেউ বলছে সম্পদের অশ্লিল বহি:প্রকাশের নব সূচনা।

মুকেশ আম্বানীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। ৪৯ বছর বয়সে তার সম্পদের পরিমান ২০.১ বিলিয়ন ডলার। রিলায়েন্স গ্র“পের একাধারে চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর। পিতা ধিরুভাই আম্বানির সযতেœ গড়া এই শিল্প প্রতিষ্ঠান এনার্জি, তৈল এবং বায়োপ্রযুক্তি নিয়ে ব্যবসা করে থাকে। ধিরুভাই তার সারাজীবন সিঙ্গেল বেডরুমের এপার্টমেন্টে কাটিয়ে দিলেও পুত্র চাইছে সম্পদের একটি ই¤েপ্রশন তৈরি করতে। মুম্বাইয়ের বুক চিরে নির্মান চলছে স্পপ্নের বাড়ি এন্টিলিয়া-র।

এন্টিলিয়া-র খুটিনাটি:
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িটির উচ্চতা হবে ১৭৩.১২ মিটার, যা একটি সাধারন ৬০ তলা দালানের উচ্চতার সমান। কিন্তু এন্টিলিয়া হবে মাত্র ২৭ তলা।
ক্স প্রথম ৬ তলা নির্ধারন করা হয়েছে কার পার্কিং স্পেস হিসেবে। আমদানী করা ১৬৮টি লাক্সারী গাড়ি ব্যবহার হয় শুধুমাত্র পরিবারের প্রয়োজনে।
ক্স সপ্তম তলা রাখা হয়েছে গাড়ির সার্বিক রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ওয়ার্কশপ হিসেবে।
ক্স অষ্টম তলা হবে একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র, এখানে নির্মান করা হবে ৫০ জনের আসনক্ষমতা নিয়ে একটি মিনি থিয়েটার।
ক্স নবম তলা রিফিউজ ফ্লোর, জরুরী প্রয়োজনে উদ্ধার কাজের জন্য এটি ব্যবহার হবে। তার উপরের দুটি ফ্লোর হবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র। একটিতে থাকবে সুইমিংপুল সহ খেলাধুলার সব সরঞ্জাম। অপরটিতে নির্মান হবে আধুনিক সব উপকরন নিয়ে তৈরি সুবিশাল হেলথ জিম।
ক্স তিনটি ফ্লোর জুড়ে থাকবে নয়নাভিরাম ঝুলন্ত বাগান। নানা জাতের গাছ ও ফুলে শোভিত হবে এই সুবিশাল বাগান।
ক্স দুটি ফ্লোর রাখা হয়েছে আম্বানী পরিবারের আত্মীয়-স্বজন তথা অতিথিশালা হিসেবে।
ক্স বাড়ির উপরের দিকে চারটি ফ্লোর, যেখান থেকে আরব সাগর ও আকাশের মিলনরেখার অবারিত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, নির্ধারিত হয়েছে মুকেশ, তার স্ত্রী নিতা, তিন সন্তান এবং মুকেশের মা কোকিয়াবেন এর জন্য।
ক্স বাড়ির শীর্ষে দুটি ফ্লোরের মধ্যে একটি পরিবারের সার্বিক রক্ষনাবেক্ষনের জন্য এবং তার পরেরটি হ্যালিপেড এর নিয়ন্ত্রন কক্ষ হিসেবে ব্যবহার হবে।
ক্স বাড়ির শীর্ষে নির্মান হবে তিনটি হ্যালিপেড।

২০০২ সালে মুকেশ আম্বানি মুম্বাই নগরীতে ৪৯ হাজার বর্গফুট জায়গা কিনে নেন। এখন পর্যন্ত বাড়িটির পাচঁ তলা পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে। তবে হাজার হাজার শ্রমিকরা ব্যস্ত এখন বলরুম নির্মানে। অক্টোবরে আম্বানির জন্মদিন এই বলরুমেই উদযাপিত হতে যাচ্ছে। বাড়ি নিয়ে কোন কথা বলতে নারাজ মুকেশ আম্বানি। তবে আম্বানির পরিকল্পনার ছায়া পাওয়া যায় মুম্বাইর আর্কিটেক্ট হাফিজ কন্ট্রাক্টরের বক্তব্যে। “মুম্বাইয়ের মতো ঘনবসতি অঞ্চলে স্থান সংকট চরম আকার ধারন করেছে। মুকেশ আম্বানির মতো বিলিয়নিয়ারদের বাড়ি হয় সাধারনত ১০ থেকে ১৫ একর জায়গা জুড়ে। যেহেতু মুম্বাই নগরীতে তা সম্ভব নয়, তাই উপরে ওঠাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে। পুরো শহরের আকাশটাই তখন চলে আসবে হাতের মুঠোয়।”

স¤প্রতি ভারতের শুল্ক বিভাগের কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার সুযোগে আকাশ ছোয়া দালান আর আমদানীকৃত বিদেশী গাড়ির প্রতি কোটিপতিদের ঝোক বাড়ছে। জড়িপ বলে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার গত কয়েক বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সম্পদ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, সম্পদের প্রদর্শনেচ্ছাও তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধান মন্ত্রী মনমোহন সিং গত মাসের এক ঘোষনায় বলেছেন“পশ্চিমাদের মতো অপচয় প্রধান জীবনযাপন আমরা লালন করতে পারিনা।” কিন্তু তারপরেও থেমে নেই এই প্রতিপত্তির লড়াই।

মুম্বাই শহরে বড় বড় শিল্পপতিরা যেমন থাকেন তেমনি বাস করেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। ১৫ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে ৬.৫ মিলিয়ন মানুষের জীবন যাপন দুবেলা দুমুঠো রুটির মধ্যে সীমিত। সমাজবিজ্ঞানী জেরী পিন্টো বলেন, “ ভারত ঘুরতে এসে যে বিষয়টি সবাইকে চমকিত করে তা হলো বিত্তবানদের সম্পদের যথেচ্ছ প্রদর্শন ও দরিদ্রের সীমাহীন দুর্ভোগ...কিন্তু এ নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে কোন ক্ষোভ নেই, নতুবা কবেই শ্রেণীযুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটে যেতো।”

এ এক অদ্ভুত নগরী, যেখানে ভিখারীরা রাস্তায় বসে দেখে সবচেয়ে বিত্তবানদের সম্পদের বাড়াবাড়ি, দামী ইম্পোর্টেড গাড়ি রাস্তায় ঝড় তুলে কাদাঁ ছিটিয়ে দিয়ে যায় পথশিশুদের গায়ে। এটাই এই শহরের পরিচয়, অচিরেই যার কোন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তাই মুকেশ আম্বানীর বিশাল বাড়ি, সুইমিং পুল, জিম, ঝুলন্ত বাগান বাড়ির নির্মান একদিন শেষ হবে, লাখো ভিখারি আকাশের দিকে তাকিয়ে তার শান শওকতের কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে যাবে ঝলমলে মুম্বাইয়ের নোংরা ফুটপাতে।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×