somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোটার তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে - ৩

১০ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি এইবার ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহের দায়ত্বে ছিলাম। তো বিচিত্র সব মজার এবং দুঃখের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ধারাবাহিক তা লিখে যাব। তো বন্ধরা শুরু করি।

রাত আটটা বাজতে কিছুক্ষণ বাকি। আমি একটি বাসায় ঢোকার পরেই বিদ্যুৎ মহাশয় প্রস্হান করল। মোমবাতি জ্বালানো হল। এত ছোট রুম। অস্বস্থি লাগছিল। দুইটি রুম। প্রথম রুমের সাইজ ৫ফিট বাই ৫ফিট। একিট খাট এবং দুটি সোপা রাখা। খাটটি খুবই ছোট। ভিতরের রুমটি ৪ফিট বাই ৫ফিট। এটার ভিতরে রান্নার কাজ এবং থাকা দুইই চলে। ঘরে তিনজন। মা, মেয়ে এবং মেয়েটির এক ছেলে। মেয়েটির ফরম পূরণের কাজ চলেছ। এরই ভিতর কথা চলছে। এর পরের কথা শুনুন মেয়েটির জবানিতে।

আমি একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজী বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে এক বিদেশী কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন্ট করি। ঢাকায় হেড অফিসের কাছাকাছি একটি বাসায় থাকতাম। এসি বাসা। এসি অফিস। এসি গাড়ী। সবই কি সুন্দর চলে যাচ্ছিল।

আমি বিবাহিত। ইনি আমার মা। আমার ভাই বোন আর কেউ নেই।বাংলাদেশের একটি মোবাইল কোম্পানীর মালিকের চাচাতো বোন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মায়ের পিতার (নানার) সম্পত্তির প্রতি কোন লোভ ছিল না । নিজে নিজে মাকে নিয়ে ভালই চলছিলাম। তিনি এখন এমন অসুস্থ যে তাকে প্রতি মাসে দুবার ঢাকায় গিয়ে থেরাপি দিতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে যেতে হয়।

হঠাৎ ই সব উলট পালট হয়ে গেল। চাকরি চলে গেল। স্বামীর কথা বলব না। (বুঝতে পারলাম উনি তাদের সাথে নেই)। আমি চট্টগ্রামে চলে আসলাম। হঠাৎ খালি হাতে দিশেহারা অবস্থায় পড়ে গেলাম। নতুন চাকরির খুজতে যাব এরই মধ্যে আমার মা অসুস্থ, তাকে দেখা শুণা করতে হচ্ছে। নার্স রাখব সে রকম অবস্থা ও নেই।

নতুন করে আরেক সমস্যা সামনে দাড়াল। আমার ছেলেটি (বয়স ৮/৯ বছর) এই পরিবেশের সাথে আডজাস্ট হতে না পেরে এ্যাবনরমাল হয়ে গেল। এখন দুজন রোগী আমার ঘরে। আমি একলা মানুষ। ওদেরকে ঘরে রেখে কোথাও যেতে পারি না।

উনার কথা শেষ হলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনি এখন চলছেন কিভাবে। উনি বললেন জমানো যা ছিল তা থেকে খরছ করছি। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম এরপর কি করলাম। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, "জানিনা"।

ছেলেটির সাথে কথা বললাম। কত নরম আদুরে কথা বলছে। অথচ কি অস্বাভাবিক এ জীবন তার জন্য।

লক্ষ্যহীন পথচলা---------------------।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×