মূল লেখাটির লিংক আমি নিচে দিয়েছি।
আমি এই লেখাটির জবাব দুই পর্বে দেব। একটি মূল লেখার আরেকটি লেখার উপর কমেন্টের।
আজকে প্রথম পর্ব।
ইসলাম একটি স্বতন্ত্র ধর্ম এ বিযয়ে কোন সন্দেহ নেই এবং কোন সময়ে ছিল না। ইসলাম কোন পুরনো নীতি দর্শনের ফুলঝুড়ি ছিলনা । এবং সে রকম কিছু হ্ওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।
আল্লাহ পাক যুগে যুগে নবী পাঠিয়েছিলেন শুধু একটি ঘোষণা দেওয়ার জন্য আর তাহল "একজন শেষ নবী আসবেন, তার নাম মুহাম্মদ (সঃ) এবং তার প্রচারিত ধর্ম ইসলাম"। এবং সব নবীই তার উম্মতদের একথা প্রচার করেছিলেন।
Earnet Renan এর যে উদ্বৃতি উক্ত লেখাটিতে দেয়া হল সেখানে একটি কথা "ইতিহাসের আলোময় আবির্ভাব" এর কথা বলা হয়েছে। সত্যিই এটা ইতিহাসের আলোময় আবির্ভাব। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে আল্লাহ পাক অনেক আগে সৃষ্টি করে রেখেছিলেন এবং তিনি এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছে মাত্র। শুধু উনি আসবেন বলে এই পৃথিবীকে সৃষ্টি করে রেখেছিলেন।
দাস প্রথার কথাটিতে ইসলামের ব্যাখ্যাটা আপনার জানা নাই। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) প্রথম হযরত আনাস (রঃ) কে আজাদ করে দিয়েছিলেন। ইসলামেই দাসকে মুক্ত করে দেওয়ার ব্যাপারে প্রথম নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে নবীর ওফাতের ১২০ বছর পর তার জীবনী লিখা হয় এই তথ্যটি কোথা থেকে পেলেন উল্লেখ নাই। এবং তাও আবার হারিয়ে গেল। আবার লিখা হল। এত তথ্য আপনার কোত্থেকে জানা, সত্যিই আজিব!
এবার কোরানের কথায় আসি। ডঃ মরিস বুকাইলির "বাইবেল, কোরআন এবং বিজ্ঞান" এ বিষয়ে আধুনিক এবং ইসলাম না জানাদের জন্য পড়া বাঞ্চনীয়। এখানে কোরআনের ১৫০০ বছর আগের তথ্যগুলো কিভাবে এখন বিজ্ঞান প্রমাণ করছে তা জানা যাবে। কোরান সংকলন করার সময় যে বিভ্রান্তির কথা বলা হচ্ছে তার উত্তরে বলি কোরান যখন নাজিল হতো সেখানে তা আর একজন, দুইজন থাকত তো না অনেক সাহাবী থাকতো। তখন নাজিল হ্ওয়ার পরে নবী (সঃ) সবাইকে তা পড়ে শুনাতেন। এবং মুখস্থ করার জন্য বলতেন। আবার একজন সাহাবী উপস্থিত থাকলে ও তাকে মুখস্থ করে অন্যকে বলার জন্য বলতেন। আবার কেউ উপস্থিত না থাকলে ও তিনি এসে সাহাবীদের বলতেন এবং তা মুখস্থ করতে বলতেন। এভাবে অনেক কোরানে হাফেজ তখন ছিল। কোরান যখন লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে তখন এসব কোরানে হাফেজকে একত্র করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যা দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন পড়ে। এবং সেটা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। এতে ভ্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।
এক্ষেত্রে জার্মান এক ডাক্তারের কথা বলি, তিনি বলেন "আমি কোরানের সে আয়াত পড়ে সত্যিই অবাক হয়েছি কোরান কিভাবে ১৫০০ বছর আগে যে তত্ত্ব কথা বলেছিল আজ কিভাবে তা সত্যি হচেছ নিশ্চয়ই কোরান একটি সর্বশ্রেষ্ট এবং আসমানী গ্রন্থ।" সে আয়তটি হল "আমি তোমাদরে জন্মের অনেক আগেই তোমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছি।" এবং আমি দেখলাম শিশু তার মায়ের গর্ভে আসার সময় তার পিতার শুক্রাণু এবং মাতার ডিম্বাণুর নিষিক্ত হয়। এবং পিতা মাতার যে শারীরিক গঠন, যে অসুখ বিসুখ সবই সন্তানের নিষিক্ত হওয়ার সময়ই তার পিতা মাতার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ হয়ে যায়। কোরআন কোন এলোমেলো এবং জনরবের উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এর জন্য এই একটি কথা আপতত লিখলাম।
নবী (সঃ) যে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাতে কোন সময়ে ও তিনি শত্রু পক্ষকে আক্রমণ করেনি। এরকম কোন প্রমাণ নেই। তাই নবী যুদ্ধবাজ নেতা ছিলেন না।
নবী (সঃ) রাজনীতিবিদ ছিলেন এটা সত্যি কথা। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। মানুষের যেমন একটি অংগ না থাকলে তা পঙ্গু। তেমনি ইসলামে ও মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু্ই আছে। না হলে ইসলাম পঙ্গু হিসেবে থেকে যেত। মানুষের জীবনে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি যা প্রয়োজন সবই ইসলাম ধর্মে রয়েছে। তাই নবী (সঃ) একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ ছিলেন।
এবার হাদিস সম্পর্কে বলি। হাদীস সংগ্রহ বিষয়ে বুখারি ত্রিশ লক্ষ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এবং সেখান থেকে বিশ লক্ষ সাক্ষ্য ধ্বংস করেন। প্রথমে একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করি। একদল হাদীস সংগ্রাহক হাদীস সংগ্রহ করতে গেলেন। যে ব্যক্তিটির কাছে হাদীস আছে বলে তারা শুনেছিলেন তার কাছে যখন পৌছল তখন ব্যক্তিটি তার মেষপাল নিয়ে মাঠে বসে আছেন। এবং দেখতে পেলেন একটা মেষের মুখের কাছে একটি গাছের ডাল একবার ধরছে এবং মুখের কাছাকাছি গেলে আবার টেনে নিয়ে নিচ্ছে। এরকম তিনি কয়েকবার করলেন। তখন হাদিস সংগ্রহকারী দল তার কাছ থেকে হাদীস সংগ্রহ না করে চলে এলেন। তাদের কথা ছিল "যে ব্যক্তিটি তার প্রাণীর সাথে এরকম তামাশা করছে সে হাদীস বলার সময় ও কিছু রং মিশ্রিত করে বলতে পারে, অথবা কিছু বাদ দিয়ে ও বলতে পারে সুতরাং তার কাছে থেকে হাদীস সংগ্রহ করা যাবে না। হাদীস এবং কোরান সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে শুধু নবী (সঃ) এর কথা বললেই সংগ্রহ করা হতো না বরংচ দেখা হতো তার ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, পারিবারিক জীবন এসব ক্ষেত্রে উতরাতে পারলে তবে তারা কাছ থেকে হাদীস এবং কোরানের বাণী সংগ্রহ করা হতো। একটি হাদীস এবং একটি কোরানের বাণী শত শত এমনকি হাজার হাজার সাহাবীর জানা ছিল। তাই হাদীস এবং কোরাণের বাণী সংগ্রহ করার সময় একই হাদীস এবং কোরানের আয়াত বারবার পাওয়া যেত। তাই বুখারী যখন হাদীস সংগ্রহ করেন তখন ত্রিশ লক্ষ সাক্ষ্য গ্রহণ করলে ও ব্যক্তি জীবনের, সমাজ জীবনের এবং পারিবারিক জীবনে যাদোর সামান্যতম ও বিচু্যতি দেখা গেছে তাদের মুখে বলা বানী বাদ দেওয়া হয়েছে।
নবী (সঃ) মৃগীরোগী ছিলেন কিনা সে বিষয়ে বলি।
হযরত মূসা (আঃ) যখন আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য তুর পাহাড়ে গেলেন তখন আল্লাহ তার সাথে কথা বলতেন কিন্তু সাক্ষাত করতেন না।
মূসা (আঃ) যখন বললেন তাকে দেখা দেওয়ার জন্য তখন সামন্যতম আলো দেখে মূছা (আঃ) মূর্ছা গেলেন, তুর পাহাড় পুড়ে গেলো।
আর হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর যখন কোরআন নাজিল হতো তখন তার সর্বাঙ্গ কাঁপতে থাকতো, ঠাণ্ডা দিনেও তার শরীর দিয়ে ঘাম ছুটত। কারন কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ঐশ্বরীক বাণী বহন করা সম্ভব নয়। একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দ্বারাই এটা সম্ভব।
একদিন ওহী নাজিল হচ্ছিল তখন তিনি গাধা/ঘোড়ার উপর উপবিষ্ট ছিলেন। গাধা/ঘোড়াটি পেট মাটির সাথে লেগে যেতে লাগল। তখন সাহাবীরা বলল এ কি হচ্ছে। তখন এক সাহাবি বুঝতে পারলেন কোরান নাযিল হচ্ছে, তখন সাহাবিটি বললেন, "কোরান নাযিল হচ্ছে, তোমরা চুপ থাক"।
এই মহাগ্রন্থ যার উপর নাজিল হয়েছে তার এত কষ্ট হতো তবুও হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মতরা সত্যিই সৌভাগ্যবান যে নবীর (সঃ) এত কষ্টের পর মুসলমানার সত্য ধর্ম ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে পেয়েছেন।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

