আমরা বলি ৩০ লাখ।
আসলে কি তাই?
বরাবর ৩০ লাখ?
আমরা আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কথা বলি। কিন্তু তাদের নাম, ঠিকানা, কোথায় শহীদ হয়েছেন, কিভাবে শহীদ হয়েছেন, রাজাকারের হাতে না সম্মুখ যুদ্ধে এসব তথ্য কি আমরা সঙগ্রহ করতে পারি না? দেশের জন্য যারা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তাদের তালিকাটা কি আমরা যারা বেচেঁ আছি তারা সংগ্রহ করতে পারি না? আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকাটা সংগ্রহ করাটা কি এতই কষ্টসাধ্য?
কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। আমাদের এই স্বাধীন দেশে মক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিপক্ষ শক্তি সবাই ক্ষমতায় ছিল। কেউ শহীদদের তালিকাটা সংগ্রহ করেনি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী মুজিব সরকার, জিয়া সরকার, এরশাদ সরকার, খালেদা সরকার, হাসিনা সরকার, জোট সরকার এরপর দূনীর্তিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান কেয়ারটেকার সরকার কেউ শহীদদের তালিকা সংগ্রহের কাজটা করেনি।
কিন্তু কেন?
হয়ত একটি সত্য বেরিয়ে আসবে বলে।
১) মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছিল?
অথবা একটি মিথ্যাকে লালিত করার জন্যে।
১) ৩০ লাখ শহীদ হয়েছিল।
অথচ আমাদের যে কোন সরকার চাইলে এইকাজটা করতে পারে।
যেমন: এবার ভোটার তালিকা বা জাতীয় পরিচয় পত্রের কাজটা আমরা মনে করেছিলাম খুবই কঠিন হবে। কেননা তা সফটওয়ার এর মাধ্যমে করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখেছি তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবার আসি শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংগ্রহটা কিভাবে করা যায়।
প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা। চেয়ারম্যান নির্বাচিত মেম্বারদের দিয়ে এই কাজটা সম্পন্ন করতে পারবে।
এরপর আসে সত্যতার বিষয়। আমাদের বর্তমানে তালিকাভুক্ত যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনো জীবিত আছে তাদের দ্বারা মেম্বারদের সংগ্রীহিত তালিকাটি সত্যায়িত করা যায়। এখেনা প্রতিটি এলাকায় তালিকাভূক্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধা আছে। তাহলে এই কাজটা করতে তেমন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।
আমার উপরোক্ত লেখায় আপনি কমেন্ট করবেন?
তবে তার আগে আমার নিচের দুটি প্রশ্নের উত্তর ভেবে দেখবেন।
১) ৩০ লাখ থেকে একজন বেশি মুক্তিযোদ্ধা ও যদি শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা সেই মহান মুক্তিযোদ্ধার প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করছি না?
২) যদি ৩০ লাখ থেকে একজন ও কম হয়ে থাকেন, তাহলে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সাথে অতিরিক্ত আরেকজন প্রবেশ করিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেই সব শহীদদেরকে অবমাননা করছি না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

