somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনী ইসরাঈলের ধ্বংস কাহিনী -৩

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নবুয়ত প্রাপ্তির পর হযরত হানযালা (আঃ) প্রতিদিন শহরের ফটকে দাড়িয়ে বনী ইসরাঈলীদের বলতেন , 'হে আমার সম্প্রদায় । তোমরা এক আল্লাহ সম্পর্কে অবহিত হও , তিনি একক, তার কোন শরীক নেই । তাকে মানো, তার রবুবিয়তের স্বীকৃতি দাও ,মূর্তিপুজা ত্যাগ করো । বিতাড়িত অভিশপ্ত শয়তান তোমদের পূজায় লাগিয়েছে । তোমরা এক আল্লাহকে ভয় কর । তিনি তোমাদের স্রষ্টা , পালণকর্তা, তারই ইবাদত করো ।' কিন্তু তারা এতে কর্ণপাত করলো না বরং ঠাট্টা বিদ্রুপ করা শুরু করলো । তিণি গজব, আযাব, মৃত্যুর কথা বল্লে ওরা হাসতো । কারণ গত ৭শো বছরে তাদের কেউ মৃত্যু বরণ করেনি । মৃত্যু কি তারা জানেও না । দুংখ-কষ্টও তাদের ইতিহাসে নেই । নবী বলতেন , তোমরা ইবরাহিম, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইউসুফ এর বংশধর । তারাতো কোন পূজা করতন না, তোমরা তাদের বংশধর হয়ে পূজা কর এতে তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত ।

তার এরকম বক্তব্য এবং প্রচারের ফলে বাদশাহ তাফুর সহ পুরো দেশ উনার বিপক্ষে চলে যায় । বাদশাহ সহ সকলে উনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে এবং উপহাস করতে থাকে । নবীকে উপহাস করার পরিণতিতে আল্লাহ গজব নাজিল করেন । একদিন দুপুর না হতেই হাজার হাজার বনী ইসরাঈলী মারা যায় । বাদশাহ বলেন, ওরা ঘুমিয়ে আছে । সবাই গিয়ে দেখে ওরা পাথরের মত হয়ে গেছে , জাগার কোন সম্ভাবনা নাই । এরপরও তারা ইসলাম ধর্মে আসেনি । অত্যাচারী বাদশাহ ছিদ্রহীন ঘরে ঢুকে ১২ হাজার প্রহরী বসিয়ে দিলেন । সেখানে আজরাঈল (আঃ) বাদশাহকে দেখা দিয়ে আসে । ওইদিন তার হায়াত ছিলো । সেদিন সে প্রহরীদের ভীষণ প্রহার করলো এই কারণে যে কিভাবে আযরাঈল ভিতরে গেলো । পরদিন এক কণা ছিদ্রও বন্ধ করে দেয়া হলো । কিন্তু পরদিন ঠিকই আযরাইল (আঃ) তার জান কবজ করে নিয়ে যায় । এছাড়াও তিনি সব রক্ষী, লোক লস্কর ও রাজবাড়ীর সকলের প্রাণ সংহার করে পুকুরের পানি, জমির শস্য সব শুদ্ধ তুলে নিয়ে যান ।

এবার শেষবারের মত হানযালা (আঃ) তাদের প্রতি আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করলেন । কিন্তু তারা এবার বলতে থাকে , তোমার জন্য আমাদের এই দুর্দশা । তারা হযরত হানযালা (আঃ) কে হত্যা করতে অগ্রসর হয় । তিনি সেখান থেকে কোনরকমে পালিয়ে যান । তারপর আল্লাহ ছত্রিশ ক্রোশ দীর্ঘ এক সাপ পাঠালেন । সাপ তাদের সবাইকে বেষ্টন করে চাপ দেয় । এতে বাড়িঘর, প্রাসাদ সব ভেঙ্গে পড়ে । কুপ পনিশুন্য হয়ে ধুয়া বেরোতে থাকে । আর শহরের সব অধিবাসী মারা যায় ।

বনী ইসরাঈলীদের এই দুর্দশা দেখে মরোক্কবাসী আমলেকা সম্প্রদায় এই সুযোগে আক্রমণ চালায় । ফিলিস্তিনিদের সৈাভাগ্যের প্রতীক তাবুঁ সাকীনা সহ সব সম্পদ ছিনিয়ে নেয় । এভাবে একটা জাতি ধ্বংস হয়ে রাজ্যহারা হয়ে পড়ে ।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×