somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সনাতন ধর্ম (হিন্দু ) ও ইসলাম এর মধ্যে যোগ সম্পর্ক-৬ (যৌথ মূল্যবোধ)

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস্তব জীবনের জন্য যারা বিধান পেয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম পুরাতন হল হিন্দু এবং সর্বশেষ হল মুসলমান জাতি । খেয়াল করে দেখুন ভারতবর্ষের সকল মসজিদ ও মন্দির পূর্ব-পশ্চিম মুখী । দুবইজ তার রচিত গ্রন্হে লিখেছেন-"বড় বড় মন্দিরগুলির নির্মাণ পদ্ধতি এবং কাঠামো, নতুন পুরানো যাই হোক না কেন, দেখতে পাবেন সকল স্হানেই এদের আকৃতি-প্রকৃতি অবিকল একই ধরণের এবং একই কাঠামোর । এগুলির প্রবেশ-দ্বার সবখানেই দেখা যায় পুর্ব দিকে এবং এগুলি এমনই এক কাঠামোতে গড়া যে সকল মন্দির ও পূজামন্ডপে এ বৈশিষ্টগুলো টিকিয়ে রাখা হয়েছে । "

মুসলমানরা তো মসজিদের দিক কাবা শরীফমুখী কেন নির্মাণ করে তা তারা জানে , কিন্তু হিন্দুরা কেন কিবলার দিকে (পশ্চিম) তাদের মন্দিরের অগ্রভাগ রাখে তা তারা জানে না । ওদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠি এর বিভিন্ন কারণ বলার চেষ্টা করে বটে, কিন্তু কেউ এ বিষয়ে সঠিক জানেনা ।
The garbha griham is usually also on the main horizontal axis of the temple which generally is an east-west axis.

(বিদ্রিঃ- এক্ষেত্রে আমার এই সিরিজের কাবা শরীফ পার্টটুকু দেখলে আরও পরিস্কার হবে )
তাহলে কি এর কারণ এটা নয় যে, তাদের পুরাতন একটি সম্পর্ক রয়ে গেছে কাবা শরীফের সাথে এবং তারই এক বহিঃপ্রকাশ এটা । আজ হয়তো তারা ইতিহাস ভুলে গেছে, কিন্তু রীতিটা বাকি রয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে এর অর্ন্তনিহিত সত্য ।

আরও দেখুন মৃত ব্যাক্তির সৎকারের উদ্দেশ্যে হিন্দুগণ চিতা সাজানোর সময় মাথার দিকটা রাখে উত্তর দিকে, অপর দিকে মুসলমানদের কবরের মাথাও একই দিকে থাকে ।

হজ্জ ও ওমরা করার সময় মুসলমানগণ সাত বার তওয়াফ করে, আর বিয়ে শাদীর সময় হিন্দুগনও অগ্নি হস্তে ৭ বার বিবাহ মন্চ প্রদক্ষিণ করে শপথ করে ।

মুসলমানগণ হজ্বের সময় যে এহরাম বস্ত্র পরিধান করে তা হচ্ছে দুটি সেলাই বিহীন চাদর ঃ একটি পরার জন্য এবং অপরটি গায়ে জড়ানোর জন্য । অপরদিকে হিন্দুগনও হাজার হাজার পূর্ব থেকে তীর্থ যাত্রাকালে এই একই পোষাক ব্যবহার করে আসছে; বরং তাদের কাছে এই পোশাকটিকে এতই পবিত্র মনে করা হয় যে এই পোষাকেই পরিবর্তিত রূপ হিসেবে পুরুষগণ ধুতি এবং নারী গণ শাড়ীকে তাদের জাতীয় পোষাক হিসেবে ঠিক করে নিয়েছে ।

হজ্ব ও ওমরার সময় মুসলমানদের চুল ছাটাঁ অবশ্যকরণীয় এবং মাথা মুন্ডন করা উত্তম বলা হয়েছে, আর হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দুগণ তীর্থ যাত্রাকালে মাথা মুন্ডন করার রীতি চলে আসছে ।

মুসলমানগন আকীকা করার সময় বাচ্চার নাম রাখে এবং তার মাথা মুন্ডন করে দেয় এবং হিন্দুগনও অনেক অনেক আগে থেকে বাচ্চাদের নামকরণ-সংষ্কার বা বাচ্চাদের নাম রাখার ধর্মীয় রীতি হিসেবে তাদের মাথা মুন্ডন করে আসছে ।

আপনারা কি কোনভাবে ধারণা করতে পারেন যে, চৌদ্দ শত বছর পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এসব রীতিনীতি হিন্দুদের নিকট থেকে ধার বা অনুকরণ করেছেন (নাউজুবিল্লাহ)? বরং এটাই প্রকৃত সত্য যে, সত্য সব সময় সত্যই । তার রূপ সব সময় এই একই । কালের পরিক্রমায় তা বিকৃত হয়ে গেছে কিন্তু কিছু রেশ রয়ে গেছে । সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিকট থেকে প্রকৃত সত্য-ঘর কাবা শরীফ হারিয়ে গেলেও এই হিন্দু জাতি নিজেদের অজান্তেই এই কাবা ঘরের সাথে সংশ্লিষ্ট রীতিনীতি এবং অন্যান্য কিছু অপরিবর্তিত আকারে হলেও, আজ অবধি অনুসরণ করে চলেছে ।

এ ধরণের শত শত উদাহরণ রয়েছে যেগুলি দীর্ঘসুত্রিতা এড়ানোর জন্য এখানে উল্লেখ করা হলো না । কিন্তু এ কথা বুঝা দরকার যে, এ জাতির মধ্যে বিরাজমান এসব রীতিনীতি অত্যন্ত মূল্যবান কিছু বৈশিষ্ট । তাদের এসব হারিয়ে যাওয়া সত্যগুলিকে যদি কোন ভাবে উদ্ধার করা যায়, তাহলে অন্য যে কোন জাতির তুলনায় হিন্দুদের পক্ষে ইসলামকে বুঝা সহজ হয়ে যাবে ।
আল্লাম ইকবাল বলেছিলেন, " হতভাগা এ জাতি আজ হারিয়ে গেছে আজেবোজে কথার মাঝে । আর সত্য আজ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে অলীক কাহিনীর আবরণে ।"

--চলবে...
সূত্র--
--জগদগুরু মুহাম্মদ (সাঃ) , শায়খুল উবুদিয়া ইমাম সাইয়েদ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুহু আল-হোসাইনী । রেনেসাঁ পাবলিকেশন্স ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×