ভূমিকাঃ
ধর্ম মানে কি ? ধর্ম হল দ্বীন বা জীবন-ব্যবস্হা । যা স্রষ্টা মানুষের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন । এখন প্রশ্ন হলো ধর্ম যদি মানুষ না মানে তাহলে ক্ষতি কার ? স্রষ্টার ? না , বরং মানুষের-ই । কিভাবে ?
মানুষঃ
মানুষ হল আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি । আল্লাহ মানুষ কে জ্ঞান, বিচার, বুদ্ধি এবং বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন । আবার শয়তান ,নফস এবং কুপ্রবৃত্তি সৃষ্টি করে তার পিছনে লাগিয়ে দিয়েছেন তাকে পরীক্ষা করার জন্য । মানুষ তার জ্ঞান, বুদ্ধি, বিচার ও বিবেচনা কাজে লাগিয়ে খারাপ এবং পাপ কাজ থেকে দূরে থাকবে এবং সুন্দর ভাবে মিলে মিশে বেচে থাকবে ।
মানুষের ক্ষতি না স্রষ্টারঃ
স্রষ্টাতো মানুষের কোন কিছুর-ই মূখাপেক্ষী নন । তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ । সব মানুষ মিলেও যদি স্রষ্টাকে না মানে তাহলেও স্রষ্টার কোন ক্ষতি নেই , আবার সবাই যদি স্রষ্টাকে মানে তাহলেও স্রষ্টার কোন লাভ নেই । তাহলে , লাভ বা ক্ষতি স্রষ্টার হয় না, হয় মানুষের । মানুষ যদি স্রষ্টাকে না মানে , তখন সে কি করে , নিজের ইচ্ছামত জীবন-যাপন করে । যেমন, যে স্রষ্টাকে মানে না , তার কোন জবাবদিহিতা নেই । সে যে কোন পাপ কাজ করতে পারে , যদি সে দেখে তার কোন ধরা পড়ার ভয় নেই । সে খুন, রাহাজানি, নারী ধর্ষণ , চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি সে করবে । আপনার হয়তো বলবেন, একজন শিক্ষিত সভ্য মানুষ এগুলো করবেনা । আসলে কি তাই ? নৈতিকতা কি শিক্ষার উপর নির্ভর করে ? একটা সমাজের সব মানুষের চরিত্র বা চিন্তা -ভাবনা এক রকম হয় ? সমাজতান্ত্রিক চীনে বাচ্চাদের দুধের মধ্যে মেলামাইন মিশ্রিত পাওয়া গেছে , ভূমিকম্পে তাদের বাড়ীগুলো ধ্বসে পড়ছে , কারণ ভেজাল মিশ্রিত ইট-সিমেন্ট ।
কিভাবে মানুষের লাভঃ
একজন মানুষ, যে আল্লাহকে ভয় পায় , যে জানে তার সব কাজের জবাব স্রষ্টার কাছে দিতে হবে , সে কিন্তু খারাপ কাজ করতে ভয় পাবে , যদিও তার মধ্যে নৈতিকতা না থাকে , কিন্তু যদি সৃষ্টিকর্তায় সঠিক বিশ্বাস থাকে ।
মানুষ যখন সৃষ্টিকর্তাকে মেনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে , তখন প্রকারান্তে তার নিজের-ই উপকার করে । না মানলে সে নিজের ক্ষতি করে । চুরি, রাহাজানি, ব্যাভিচার প্রত্যেকটি খারাপ কাজের প্রতিফল খারাপ-ই হয় । ভালো কাজের প্রতিফল ভালো-ই হয় । মানুষ সমাজবদ্ধ জীব । তার ভালো কাজের ফল যেমন সে একা নয়, তার বাবা-মা, আত্নীয় স্বজন এমনকি পাড়া প্রতিবেশী পর্যন্ত ভোগ করতে পারে , তেমনি বিপরীত ভাবে খারাপ কাজের প্রতিফল পর্যন্ত অন্যরা ভোগ করে থাকে , কাজের প্রকৃতি অনুসারে ।
এজন্য দেখা গেছে স্রষ্টা যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তো ভালো করেই জানেন মানুষের প্রকৃতি এবং তাদের ভালো-মন্দ , তাই তিনি মানুষকে সেরকম জীবন-ব্যবস্হা দান করেছেন, যা পালন করে মানুষ ভালো থাকতে পারে । মানুষের জীবন একার জীবন নয় । সে যেমন একা একা ভাবে সমাজে চলে না , সেরকমভাবে সে এমন কাজও করতে পারে না যার ফলে সমাজে ক্ষতিকর প্রভাবে ফেলে । এজন্য ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা মানুষ চাইলেই যা খূশী করার অধিকার রহিত করা হয়েছে । যে কেউ চাইলে-ই ল্যাংটা হয়ে যেমন ঘুরতে পারবেনা, তেমনি পরষ্পরের মত থাকলেই দুই জন ছেলেমেয়ে বিবাহ বহির্ভূতভাবে একত্রে থাকতে পারবেনা । কারণ, তাদের কাজের কারণে তাদের তেমন সমস্যা না হলেও সমাজের সমস্যা হবে , আর সে যেহেতু সমাজের বাইরের কেউ নয়, একসময় এই খারাপ কাজের ধাক্বাটা তার কাছেও এসে লাগবে , যা সে এখন টের পাচ্ছেনা ।
ল্যাংটা হয়ে ঘুরলে কি ক্ষতি ? কোন ক্ষতি আছে কি ? কয়জনে বলতে পারবে , ল্যাংটা হয়ে ঘুরার কি ক্ষতি ? আবার দুইজনে রাজী থাকলেই সহবাস করা যাবে , এর খারাপ প্রভাবটা কি ? কয়জন মানুষের ততটুকু বোধশক্তি আছে ? বেশীরভাগের-ই নাই । ফলে ধর্ম না মানলে মানুষ তা করবে এবং এর ফলে যে ক্ষতিকর প্রভাব , সমাজ ও মানুষের চরিত্র নষ্ট হওয়ার যে আশংকা, তা সত্যিই হবে ই ।
---চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ১১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


