১. প্রথমে দেখি বিবর্তনবাদ নিয়ে স্বয়ং ডারউইন কী বলেছেন। যারা ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস বইটা পড়েছেন তারা জানেন এ বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের নাম ’ ডিফিকালটিস অন থিওরী’। অর্থাৎ বিবর্তনবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কী কী ব্যাখ্যাতীত সমস্যা রয়েছে তা আলোচনা করেছেন। ডারউইনের আশা ছিল ভবিষ্যতে হয়তো এসব ব্যাপারের ব্যাখ্যা মিলবে, কিন্তু যতই দিন গেল এসব সমস্যা আসলে ততই প্রকট হল,সেসব সমস্যার সমাধান আজ পর্যন্ত হয় নি। ডারউইন পরবর্তীতে নিজেই উপলব্ধি করলেন তার থিওরীতে এত বিভ্রান্তি রয়েছে যে সেসব থেকে বের হয়া যাবে না, তিনি তার বন্ধুদের কাছে বিভিন্ন চিঠিতে লেখেন- তিনি দিন দিন তার থিওরীর উপর আস্থা হারাচ্ছেন।
ডারউইনের ছেলে ফ্রান্সিস ডারউইন ডারউইনের চিঠিপত্র সংকলন করে বই প্রকাশ করেন -লাইফ অ্যান্ড লেটারস অব চার্লস ডারউইন- সেখানে দেখা যায় অধিকাংশ নিকট বন্ধু ও বিজ্ঞানীদের কাছে লেখা চিঠিতে ডারউইন তার থিওরী নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন । তিনি হার্ভাড ইউনিভার্সিটির বায়োলজির প্রফেসর অ্যসা গ্রে কে এক চিঠিতে লেখেন-আমি চিন্তিত যে আমার কাজ গুলো সত্যিকারের বিজ্ঞান থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। (তথ্যসূত্র ২,৩)
২. ফ্রেঞ্চ একাডেমী অব সায়েন্স এর একসময়কার প্রেসিডেন্ট পি পি গ্রাসে বিবর্তনবাদ নিয়ে লেখা-ইভলিউশন অব লিভিং অরগানিজমস-বইয়ের লেখক,
তিনি বলেছেন- আজ আমাদের কর্তব্য বিবর্তনবাদের রূপকথাকে ধ্বংস করে ফেলা..বিবর্তনবাদের এ প্রতারণা কখনো অজান্তেই হচ্ছে আবার কিছু দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এর অবাস্তবতা অস্বীকার করছে।(তথ্যসূত্র ৪)
৩. এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে ছাত্রাবস্থায় আমি যত বিবর্তনবাদের ব্যাপারে জেনেছি..এখন তার সবই তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছি।-বলেছেন প্রফেসর ডেরেক অ্যাজের , সাবেক প্রেসিডেন্ট অব ব্রিটিশ অ্যাসেসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্চমেন্ট অব সায়েন্স এবং সোয়নসী ইউনির্ভাসিটির জিওলজি ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের প্রধান। (তথ্যসূত্র ৫)
৪. পল লেমোনি, প্যারিসের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিষ্ট্রি এর সাবেক ডিরেক্টর বলেছেন-
ইভোলিউশন থিওরী আজ পুরো পৃথিবীতে ছাত্রদের শেখানো হচ্ছে অথচ জুলজি, বোটানি প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গণ এ বিষয়ে একমত যে বিবর্তনবাদের কারও কাছে কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।...এর ফলাফল বলে যে ইভোলিউশন থিওরী সম্পূর্ন অসম্ভব।(তথ্যসূত্র ৬)
৫. কোষ জেনেটিকসের অধ্যাপক ফ্রান্সিস জ্যাকব,১৯৬৫ সালে যিনি মেডিসিনের গবেষণার জন্য নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন তিনি বলেছেন- বিবর্তনের ক্রিয়ার মাধ্যমে কোন বিশেষ বিষয়ের সিদ্ধান্তে আসতে আমরা অসমর্থ।(তথ্যসূত্র ৭)
৫. ডা. কলিন প্যার্টাসন একজন বিবর্তনবিদ এবং প্যালিয়নটোলজিস্ট ( জীবাশ্মবিদ), তিনি লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর এবং মিউজিয়ম জার্নালের সম্পাদক, বিবর্তন নিয়ে তার লেখা একাধিক বই আছে, তার বিখ্যাত বই -ইভলিউশন।
১৯৮১ সালে তিনি তার Evolution and Creationism: Can You Tell Me Anything About Evolution?
বইতে লেখেন-গত বছর আমার হঠাৎ উপলব্ধি হল গত বিশ বছর ধরে আমি বিবর্তন নিয়ে কাজ করেছি,অথচ এ নিয়ে আমার কাছে একটাও প্রমাণ নেই। এটা আমাকে হতবিহ্বল করে দিল যে কী করে মানুষ এতটা দিন ভুল পথ ধরে এগিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



