somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অবাস্তব গল্প

০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলা থেকেই সেবা প্রকাশনীর ভক্ত ছিলাম। মাসুদ রানা, কুয়াশা অনেক পড়েছি, তাই আমার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিডিআর ঘটনা নিয়ে একটা গল্প লেখার চেষ্টা করলাম। এই গল্পের সব কিছুই কাল্পনিক আর কেউ কোন মিল পেলে তা নিতান্তই কাকতালীয়
......

করাচী। সময় সকাল ১১টা, ১৬ই ডিসেম্বর ২০০৯। ব্রিগেডিয়ার জ়েনারেল গুলজার খান তার অফিস এ বসে কফি খাচ্ছেন আর পত্রিকায় চোখ বোলাচ্ছেন । হঠাৎ তার চোখ চলে গেল বাংলাদেশ এর নির্বাচন এর একটা খবর এ, তার ভ্রু কুচকে গেল। মন দিয়ে লেখাটা পরলো সে।নিজের অজান্তেই তার মন চলে গেলো সুদুর অতীত এ যখন তিনি প্রথম যোগ দিয়েছিলেন ৩২ বেলুচ রেজিমেন্ট এ। তখন তিনি সাধারন ক্যাডেট, কিন্তু তার এখনো মনে আছে সেই তীব্র লজ্জার গল্প, ৩২ বেলুচ রেজিমেন্ট এর শোচনীয় পরাজয়ের গল্প পুর্ব পাকিস্তান(এখন বাংলাদেশ) এর মাটিতে। কর্মজীবনের অনেকগুলো বছর পার হয়ে এখন তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান। আই.এস.এ পুরো পাকিস্তান জুড়ে সক্রিয় আর এর পুরো কৃতিত্ব দুই জন লোকের তাদের একজন গুলজার আর একজন কর্নেল নুর-ই-আলম আফগানী, আই.এস.এ এর রাজনৈতিক শাখার প্রধান। বাংলাদেশ এর নির্বাচন এ তার অসীম আগ্রহ।


জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ,২০০৯।বাংলাদেশে পাকিস্তান দুতাবাস এর গেট দিয়ে প্রবেশ করলো খুব সাধারন একটা গাড়ি ভেতরে ঢুকলো, গাড়ির ভেতর নানা নাতি সহ একটা ছোট পরিবার, এমনি আজ অনেক গাড়ি আসছে, ১০ই মহররম এর দাওয়াত তাদের সবার। দুতাবাস এর বাইরে ফকির সেজে বসে থাকা এন.এস.আই এর লোকটার কাছে এটা তেমন কোনো বড় মনে না হলেও ভেতরের লোকেরা নিরাপদ এ মিলিত হতে পেরে খুশি হলো। দুপুরের খাবারের পর চা এর কাপ হাতে ছোট্ট রিডিং রুমটাতে শুরু হলো তাদের একান্তে আলোচনা। নানা বিষয় এর মাঝে উঠে এল নির্বাচনে পরাজয়, সামনের ৫ বছর এর কষ্টকর দিন, যুদ্ধ অপরাধের বিচার, বাংলাদেশে ভারত এর আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাস দমনে সার্কের আশু ভুমিকা ও পাকিস্তনের তথা আই.এস.এ এর করনীয় ইত্যাদি। কোন রিপোর্ট করার প্রয়োজন মনে না করায় বি.সি.আই জানতেও পারলো না কত কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ।


৩০শে জানুয়ারী ২০০৯, ফেনী। মোঃ ইলিয়াস শেখ জুম্মার নামাজ এর জন্য বের হলেন বাড়ি থেকে। আজ একটু চিন্তিত তিনি, নামাজের পর সার্জেন্ট আক্তারুজ্জামান তাকে একটু বসতে বলেছেন মসজিদে, কি যেন বলবেন। হয়ত পোষ্টিং এর ব্যাপারে আলোচনা করবেন। নামাজ শেষে তারা বসলেন আরও কয়েক জন ছিলেন, তারা সবাই বাইরের লোক কয়েকদিন আগেই তাবলীগ এর সাথে এসেছেন বি.ডি.আর এর এই মসজিদে। নানা আলোচনার মাঝে একজন বলে উঠলেন “ভাই, সামনের বি.ডি.আর সপ্তাহে আপনার সাথে পিলখানার ভিতরটা এক্তু দেখতে চাই। খুব শখ ছিল, আমার তো কেউ পরিচিত নাই, আক্তার ভাই বলল আপনি যাবেন তাই আপনাকে অনুরোধ করলাম”। “দেখি কি করতে পারি” বলে এড়িয়ে গেলেন তিনি। লোকটি কয়দিন পর এ আবার বাড়িতে আসলেন এবার ফল, খেলনা কত কিছু নিয়ে আসলেন। বাচ্চারা খুব খুশী দেখে কিন্তু দায়বদ্ধ মনে করলেন ইলিয়াস সাহেব। ভদ্র লোক এর ফোন নাম্বারটা রাখলেন। রাত এ খুব চিন্তা করতে লাগলেন কি করা যায়।


ঝিগাতলা বাজার থেকে প্রথম যে গলিটা ডান দিকে ঢুকে গেছে, সেই গলির ৩ নম্বার বাড়িটার দোতলার একটি রুম এ বসে আছেন ৫/৬ জন যুবক। মুখ এ হাল্কা দাড়ি, কঠোর প্রতিজ্ঞায় শক্ত হয়ে আছে চোয়াল, মুখ, মন সব কিছু। একজন এর ফোন বেজে উঠলো, ওপার থেকে বলা হলো পিলখানার গেটে দুই ঘন্টার মধ্যে দেখা করার জন্য, একটা ব্যবস্থা হয়েছে। বসন্তের সুন্দর বিকেল, ২৩শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯, ইলিয়াস এর সাথে দেখা করে ফিরে এলো লোকটা। জ়েনে এল যে প্রধানমন্ত্রী চলে যাবার পর সে যেতে পারবে তবে তাকে যেতে হবে ডেকোরেটর এর লোক হয়ে। ডেকোরেটর এর নাম ও বলে দিল তাকে ‘তাহের ডেকোরেটর’, শঙ্কর বাসস্ট্যান্ড এর গলির মুখে। বলল ডেকোরেটর এ বলে দেয়া আছে ওর নাম বললেই হবে।

২৪শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯, বিকাল ৫.৫০। একটা ভ্যান গাড়ি নিয়ে ৫/৬ জন লোক সহ ঢুকে পরলো লোকটা। বের হবার সময় বের হলো কেবল একজন। বাকিরা রয়ে গেল রাইফেলস স্কুল এর ক্যান্টিন এর পেছনে। রাত ভর জড়ো হলেন তারা আরো অনেকের সাথে। একই রকম ভাবে এরা সবাই আজ রাত এ এখানে লুকিয়ে আছে, অপেক্ষা শুধু আগামীকাল সকাল এর। এরই মধ্যে পোষাক জোগাড় করেছে তারা, টাকার লোভ দেখিয়ে রাজি করিয়েছে কয়েকজন কে যারা পরিচয় দিবে যে ওরা বি.ডি.আর এর কোনো একটি ইউনিট এর নতুন সদস্য, এতটুকুই। কাল বিকেল এই ওরা আবার সাধারন পোষাক এ বাইরে চলে যাবে। শুধু একটা দিন এর জন্য ওরা এত টাকা কেন দিল তা হয়ত কেউ চিন্তা করল না, টাকার সুখ ই হয়তো তখন সব।

রাত ৪.৫০ করাচী আর্মি অফিসার্স কোয়ার্টার। টেলিফোন এর শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল গুলজার খান এর, ওপাশ থেকে শোনা গেল” Sir, Operation RED-FLOWER is ready for your authorization and will start at 0230hours GMT”
উত্তর এল” Authorized”

--চলবে
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×