সকালে ফজর নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে আবার সকাল ৮টার দিকে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে শুয়ে ছিলাম। হটাৎ কানে ভেসে আসে "সব ক’টা জানালা খুলে দাও না" গানটি। আহ!! সকালটাই যেন একদিকে আনন্দ আর অন্যদিকে বেদনায় ভরে উঠে। দরজা বন্ধ থাকায় টিভি রুম থেকে গানের সাউন্ড কম আসছিল। কিন্তু গানটির অদম্য টানে আমি দ্রুত দরজা খুলে টিভি রুমে দৌড় দিই। গিয়ে আরো অবাক!! গানের শ্রোতা সদ্য আমেরিকা থেকে আগত আমার ৯ বছরের ভাতিজি সামিয়া। যার জন্মই আমেরিকাতে। যাক সকালে এমন সব অদ্ভুত ঘটনায় মনটা আবেগে ভরে উঠলো এই ভেবে যে সাবিনার গানের টানে ছোট বড় সবার হৃদয় দোলা দেয়। এরপরের গানটি শুনে আবেগে যেন একবারে স্তব্দ হয়ে গেলাম। রুনা লায়লার সেই বিখ্যাত গান "আমার দেশের মাটির গন্ধে ভরে আছে সারা মন.." শুনতে শুনতে ভাবতে শুরু করলাম এদের গানগুলি বাঁচিয়ে রাখার মত শিল্পী আজো আমাদের মাঝে জন্ম নিলোনা। এরা চলে গেলে এমন গান আমরা কার থেকে শুনবো এই ভেবে।
এখন টিভি খুললেই আসে সেই মিলার ডিসকো বান্দর আর তিশমার ডিসুম ডিসুম সং। এ যেন গান নয় মনে হয় বান্দর নাচের আসর। এদের কন্ঠশিল্পী বললে শিল্পীদেরকে অমর্যাদাই করা হবে। বরং এদেরকে বড়জোড় নর্তকী হিসেবে গোনা যায়। এরা কোন ভাল গানতো উপহার দিতে পারেনি উল্টা বাংলা গানের যে সোনালী আর সমৃদ্ধ অতীত ছিল সেটাকেও বিকৃত করে ফেলেছে। এদেরকে বয়কট করে আসুন আমরা শুদ্ধ উচ্চারনে গাওয়া বাংলা গান শুনি এবং তাদের গানের ক্যাসেট সিডি কিনে তাদেরকে সহযোগীতা করি।
পরিশেষে বলি, সাবিনা রুনা হয়তো আর আসবেনা। তবে ভাল শিল্পী একেবারে নাই বা আসে নাই সেটাও বলা যাবে। আমাদের আছে অর্নব এর মত তরুন প্রতিভা, কৃষ্ণকলি ইসলামের মত চমৎকার গলায় গায়িকা আর হায়দার হোসেনের মত দেশপ্রেমিক গলার গায়ক। সুতারাং আসুন ভালো বাংলা গান শুনি এবং বান্দরদের বয়কট করি।
তিশমার এক্স ফ্যাক্টর, কানিজ সুবর্ণার একলা আকাশ এবং মিলার রিডিফাইনড নিয়ে প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বলেন---
এই তিনটি সিডির কথা একত্রে বলব। তিশমার এক্স ফ্যাক্টর, কানিজ সুবর্ণার একলা আকাশ এবং মিলার রিডিফাইনড। এ গানগুলোর ‘নয়েজ’, উচ্চারণের বিকৃতি, চিত্কার, ফিসফিসানি এবং গানের মোড়কের জন্য সরবরাহকৃত ছবিগুলোই বলে দেয়, এগুলো অপরিণত মস্তিষ্কের তরুণ বয়সীদের দৈহিক কসরতের গান। পরিণত বুদ্ধির ভদ্রজনের জন্য নয়। এর মধ্যে মিলা ‘নিশা লাগিল রে’ প্রচলিত গানটিকে বিকৃত ও নোংরা করে দিয়েছে। ভুল উচ্চারণে ও বাচনভঙ্গিতে নজরুলের ‘ধূমকেতু’ কবিতার আবৃত্তি রীতিমতো অশ্লীল। কবি মারজুক রাসেল তিশমার কোঁথ দেওয়ার ভঙ্গিতে গাওয়ার কারণে কবিতার অর্থবিভ্রাট দেখেও কেন যে এ অ্যালবামে লিখলেন বুঝলাম না। আর ‘ড়’ ‘র’-এর উচ্চারণগত অশ্লীলতা তো আছেই। কানিজ সুবর্ণার উচ্চারণও অশিক্ষিতের মতো খারাপ। ‘ভালো’কে ‘বালো’, ‘বেড়াও’কে ‘বেরাও’, ‘জুড়ে’কে ‘জুরে’ একেবারেই অমার্জনীয়। তবু এসব হয়তো ‘হিট’ও করবে। কিছু না ‘পড়া’ এবং কিছু না ‘পরা’ যাদের কাছে একই, তাদের ‘ন্যাংটা’ বোধকে নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ কী?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

