এক নজরে হাশিম আমলা
পুরো নাম: হাশিম মাহোমেদ আমলা
ডাক নাম: হ্যাশ
জন্ম: ৩১ মার্চ ১৯৮৩, ডারবান
উচ্চতা: ৬ ফুট
ব্যাটিং: ডানহাতি
ওয়ানডে অভিষেক- বিপক্ষ বাংলাদেশ,চট্টগ্রাম।
টেস্ট- ভারত।
প্রিয় ও অন্যান্য
সতীর্থ: মাখায়া এনটিনি ও আপন ভাই ক্রিকেটার আহমেদ।
ক্রিকেটার: স্টিভ ওয়াহ, শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা, জ্যাক ক্যালিস
অন্য খেলা: টেবিল টেনিস ও দাবা
মাঠ: ডারবান, পার্থ
স্মরণীয় ইনিংস: ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৬
কঠিনতম প্রতিপক্ষ: রিকি পন্টিং ও মুত্তিয়া মুরালিধরন
অবসর কাটে: পরিবারের সঙ্গে, বই পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে ও শুনে।
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া যেকোন খেলো্যাড়ের জন্য সবসময় পরম আকাংক্ষিত ব্যাপার। যেকোন ভাবেই সবাই এই সুযোগ পেতে চাই এবং কাজে লাগাতে চাই। সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনে অনেকে নিজের স্বকিয়তাকেও ত্যাগ করতে দ্বিধা করেনা। কিন্তু দক্ষিন আফ্রিকা ক্রিকেট দলের মত একটি জায়গায় সুযোগ পেয়েও কেউ যদি স্রেফ জার্সীর জন্য না খেলতে চাই সেটা খুবই চমকপ্রদ হবে। শুরুর দিকের কথা যখন আমলাকে দলে জায়গা দেয়া হলো তখন যে একটি শর্তে মাঠে নামতে রাজী হয়েছিল। আজব ব্যাপার দল যেখানে শর্ত দেয় সেখানে খেলোয়াড় দিল দলকে শর্ত। কি সেই শর্ত? শর্তটি হলো তাঁর জার্সিতে লোগো ব্যবহার না করতে, কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি স্পনসর ‘ক্যাসল’ যে বিয়ার কোম্পানি! ইসলামে সকল প্রকার মাদক গ্রহন হারাম। আর মাদকের প্রচারে অংশগ্রহনও হারাম। তাই আমলা এই শতটি দেন। প্রথমে স্পন্সর কোং আপত্তি দিলেও পরে আমলার দৃড়তায় রাজি হয়। এছাড়া কোনো অ্যালকোহল কোম্পানির দেওয়া ম্যাচ ফি বা পুরস্কারও কখনো নেন না আমলা।

আমলার জীবনে ক্রিকেটের মতো ধর্মটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় এবং তিনি দুটোকে আলাদা করে দেখেনতো না বরং ক্রিকেটে উন্নতির জন্য কৃতিত্ব দেন ধর্মীয় অনুশাসন ও শৃঙ্খলাকে। ধর্ম বা দাড়ি নিয়ে বিব্রত ও বিরক্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেকবার, তবে আমলা কখনোই এসব নিয়ে নিজেকে বেশি চিন্তা করতে দেন না। তবে ধারাভাষ্যকার ডিন জোনস খেলা চলাকালীন একবার তাঁকে ‘টেররিস্ট’ বলে কটাক্ষ করায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। সেই ঘটনার রাতেই জোনসের ফোন পেয়ে ক্ষমা করে দেন। কারণ? ‘ইসলামের অন্যতম বড় শিক্ষা ক্ষমা!’আমলার জবাব।
সদা হাস্যজ্জল আমলাকে ভাবা হচ্ছে এশওয়েল প্রিন্সের পড়ে দৃতীয় অশেতাঙ্গ অধিনায়ক হিসেবে। স্মীথের পর তারই অধিনায়ক হবার সম্ভাবনা বেশি। ত হাসি তাঁর ট্রেডমার্ক। কথা-বার্তা, আচরণে সব সময়ই ধীরস্থির, সৌম্য। সতীর্থরা তাঁকে উত্তেজিত হতে দেখেননি কখনোই। আচরণের মতো ‘সৌম্য’ তাঁর ব্যাটিংও। মারদাঙ্গা ক্রিকেটের এই যুগে তিনি লুপ্ত হতে যাওয়া ‘শিল্পী’ প্রজাতির ব্যাটসম্যান। তাইতো তাকে অনেকে এ যুগের ডব্লু জি গ্রেসও বলে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


