
বিগত জোট সরকারের সময়ে দুর্নীতির মহোৎসবের মাঝেও যে দুজনের নামে কোন দুর্নীতির প্রমানতো দুরে থাক শক্ত অভিযোগও আসেনি সে দুজন হলো মাওলানা নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদ। মিডিয়া অনুবীক্ষন যন্ত্র লাগিয়েও এ দুজনের নামে তেমন কোনকিছু বের করতে পারেনি। তারা ক্ষমতার অনেক উপরে থেকেও দুর্নীতিতে নিজেদের জড়াননি। সেক্ষেত্রে তারা অবশ্যই সাধুবাদ পাবে। কারন তারা বিএনপির বিশাল মন্ত্রীসভার মাঝে ভিন্ন দলের দুজন মন্ত্রী ছিলেন, তারপরেও তারা বিপদগামী হননি।
অন্যদিকে মহাজোট সরকারের শরীক দুটি দলের প্রধান দুর্নীতির মহোৎসবে মেতেছেন। একজন মেতেছেন দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আরেকজন নানা সুবিধার বিনিময়ে উপটৌকন এবং নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে। একজন হলেন ধান্ধাবাজ কমিনিস্ট পার্টির প্রধান কমরেড মেনন ও আরেকজন হলেন হাবাবোবা সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া। মেনন মোটামুটি ভিকারুন্নিসা আর আইডিয়াল স্কুলকে চুষে পেলছে। ভর্তি বাণিজ্যে অতীতের সকলকে হার মানিয়েছে এই কমরেড। অথচ এই মেনন ২০০৪-২০০৫ এর কোন এক সময়ে চট্টগ্রামে এক সভায় তরুনদের এই বলে নসিহত করছিলেন যে, "নেতাদের মাঝে সত্যিকার দেশপ্রেম কমে যাওয়ায় বতমানে দুর্নীতি সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করে দেশকে দ্ধংসের কিনারায় নিয়ে গেছে, এমন সময়ে সত্যিকার দেশ্রপ্রেমিক বাম নেত্রিত্বের কোন বিকল্প নেই।" এটাই তাহলে মেননের দেশপ্রেম?? দেশের শিক্ষাব্যাবস্থা ধ্বংসকারী ভর্তি বানিজ্য পরিচালনাকারী এই কমরেড এবার ভিকারুন্নিসার লটারী বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন।
অন্যদিকে দেখলে মনে হবে বেটা ভাজা মাছটিও উল্টিয়ে খেতে পারবেনা সেই দিলীপ বড়ুয়াও পিছিয়ে নেই দুর্নীতিতে। অতি সম্প্রতি তিনি তার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে (বিসিআইসি) ক্লার্ক, এমএলএসএস, নিরাপত্তাপ্রহরীসহ ১৬১ জন লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্নীতির কারনে বঞ্চিতরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন। এ ছাড়া তারা শিল্পসচিব, বিসিআইসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার চতুর্থ সহকারী জেলা জজ আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন। দিলীপ বড়ুয়া শিল্প বিকাশে এ পর্যন কী করেছেন জানি না। তবে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন অনেক। এর মধ্যে একটি, যমুনা সারকারখানা থেকে দামি পাজেরো ও এসি নিয়েছেন তিনি। ভিসা ব্যবসা থেকে শুরু করে অনেক দুর্নীতির কাজে নাম আসছে তার।
আসলে দিলীপদা মানুষটা খারাপ না। খুব সাদামাটা মানুষ। জীবনে মন্ত্রী হবেন হয়তো ঘুনাক্ষরেও ভাবেননি। কুয়ার ব্যাঙ সমুদ্রে পড়লে যা হয় আর কি। দিলীপ বড়ুয়ার ও মেননের ক্ষেত্রেও তেমন্টি হয়েছে। তারা এখন হয়তো বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। পারছেন না বলেই কমিউনিস্ট এসব মন্ত্রীরা এসি, পাজেরো, নিয়োগ-ভর্তি বাণিজ্য, ভিসা ব্যবসার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। যখন তারা বুঝবেন, তখন আর হাতে সময় থাকবে না। তখন শুধুই জনগনের গদামে উনারা সিক্ত হবেন।
এটাও দখেুন- দুই লাখ ষাট হাজার টাকা এখন আমি কোথায় পাবো?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

