somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা যাদের মুখাপেক্ষী প্রায় প্রতি মুহূর্ত

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৈচিত্র্যহীন একঘেয়ে জীবন যাপন নিয়ে কম-বেশী অনেকেই কথা বলে থাকি আমরা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে আবার ঘুমোতে যাওয়ার মাঝখানটা প্রতিদিন প্রায় একই ছকে, একই নিয়মে চলতে থাকে। শুধু ক্ষেত্রটি আলাদা যার যার মতন। কারো কারো ক্ষেত্রে যে এর ব্যাতিক্রম নেই তা বলছি না। তবুও .......!

ক'দিন আগের এক সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে একটু বৈচিত্র্যতা পেতে আমরা বাইরে বেরুবো ঠিক করি। পরের দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন তাই ভাবলাম আশেপাশের কিছু বাচ্চাদের সাথে নিয়ে ওদের মত করেই আজ কিছুক্ষণ কাটাবো। বেরুতেই দেখি বিশাল খোলামেলা গ্যারেজটার ভেতরে ওরা খুব হৈচৈ করে খেলছে। ওরা তিনজন। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সের এই তিনটি শিশুর আশেপাশেই রয়েছে আরও তিনজন যাদের বয়স ১০ থেকে ১২বছরের মধ্য; যারা সর্বক্ষণ দায়িত্বশীল নজর রাখছে ঐ তিনটি শিশুর ওপর!

বল্লাম, 'কে কে আমাদের সাথে এখন খেলতে চায় দেখিতো?( মাঝে মাঝেই আমরা এমন একসাথে খেলি, একসাথে কেক-কুকিজ বেক করি, পার্কে নিয়ে যাই)

আমি আমি আমি; তিনজনই প্রায় ছুটে এলো আমাদের দিকে। ওদের সাথে ছুটে এলো বাকী তিনটি শিশুও, যাদের দায়িত্ব অনেক! এদের মধ্যে একজন অস্ফুটে বলেই ফেল্লো, আমরাও আপনাগো লগে যামু?

আমি ভাবি, খুব ভাল হয় যদি ওরাও সঙ্গী হতে পারে, ওরাও একটুখানি অন্যরকম সময় পাবে। চেষ্টা করে দেখি না একবার! অনুমতি মিললো না ওদের! মায়েরা খুশী হয়ে বাচ্চাদের পাঠিয়ে দিলেন আমাদের সাথে। ওরা শুধু আমাদের বৈচিত্র্যময় জীবন-যাপনের দিকে চেয়ে রইলো। এক রকম অপরাধ বোধ আর বৈচিত্র্যতার কষ্ট আমায় ঘিরে রইলো।

এ,সব নতুন কিছু নয়; বরং আমাদের প্রতিদিনের হাজারো গল্পের একটির ছোট্ট একটি দৃশ্য মাত্র! তবু আমরা কি কখনও একটিবার ওদের কথা ভাবি না? কেউ কেউ তো ভাবেন নিশ্চয়!

প্রকৃতপক্ষে ওরা তো আমাদের পরিবারেরই একজন। আমরা ক'জন ভাবি ওদের প্রকৃত শ্রমের বিনিময় মূল্য ঠিকমত দিচ্ছি কিনা, একটুখানি ভালবাসা, স্নেহ-মমতা, নিদেনপক্ষে দু'টো মিষ্টিকথা আমরা কি ওদের দিয়ে থাকি? যে খাবার আমার জন্যে আর খাদ্য বিবেচনা করছিনা তা কি করে আরেকটি মানুষের হাতে তুলে দেই?

একটি মর্মান্তিক দৃশ্য আমি অনেকবার দেখেছি!

খাবারের দোকানে টেবিল ভরা খাবার নিয়ে খাওয়ায় আর গল্পে মেতে উঠেছে সুখী পরিবার; আর তাদের শিশুটিকে যে দেখাশানা করে (১০/১২ বছর বয়সী আরেকটি প্রায় শিশু) সে দঁাড়িয়ে রয়েছে খানিকটা দুরে। মাঝে মাঝে কর্তৃর হুকুম অনুযায়ী কাছে এসে নানান দায়িত্ব পালন করে আবার দুরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। কেউ একটিবারও ভাবলো না ওর খাওয়ার কথা...! ভোজনানন্দ নিয়ে মহাতৃপ্তিতে ফিরে যায় তারা...!

এক অদ্ভুত অনুভূতি আমাকে ছঁিড়ে খঁুড়ে ফেলে। চোখ জ্ব্ালা করতে থাকে...ক্ষুদ্রতার দায়ভার নিজের ভেতরেই অনুভব করি, গড়ার চেয়ে ভাঙ্গার প্রবল ইচ্ছা আমাকে বিভ্রান্ত করে দেয় বারবার...।

আর একটু অন্যভাবে যদি ভেবে দখি? যারা আমাদের সাহায্য(প্রশ্নাতীত বিনিময়ে) করে জীবন ধারণ করে, তাদের সংখ্যা তো কম নয়; একটি বিশাল জনগোষ্ঠি এই পেশায় নির্ভরশীল বলতে পারি। ওদের জন্যে আমাদের ভাবনাটা কি হতে পারে? আমরা যদি 'কাজের লোক' বর্জন করে আত্ননির্ভরশীল হওয়ার কথা ভাবি সেতো ভাল কথা, কিন্তু ওরা কিভাবে বঁাচবে?

ওদের সম্মান-সম্মানি(!!!), নিরাপত্তা, ভালবাসা ও মমতার অধিকার সর্বোপরি সুস্থ বিনিময় নিয়ে আমাদের সচেতনতাই বা কতটুকু? উন্নয়নশীল/ কল্যানমূখী দেশ হলেও এ, দেশে হাতে গোনা দু'একজন ছাড়া, এমন কি যাদের সামান্যই সামর্থ তারা প্রায় সবাইতো ওদের উপর নির্ভরশীল এবং তা ক্রমশ: বেড়েই চলেছে দিন বদলের(সামাজিক প্রেক্ষাপট) প্রেক্ষিতে। আমরা কি প্রকৃতপক্ষে ওদের মুখাপেক্ষী নই? উভয় পক্ষেরই এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ পথ খঁুজে পাওয়া বোধ করি অনিশ্চত সময়সাপেক্ষ।

অন্যদিকে ওদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অহরহ ক্ষুন্ন হয় বাড়ির অসৎ পুরুষ সদস্যের কাছে এবং বাড়ির কর্তৃর কাছ থেকে পাওয়া লাঞ্ছনাও তাদের নিত্যপ্রাপ্য! আর এ,ভাবেই পরিবারের ছোটরা জানে, দেখে, শেখে এবং অনুকরণ করে।

আমাদের বোধ আর বিবেককে আমরা যদি জাগিয়ে রাখতে পারি, প্রতিটি পরিবার যদি এ, বিষয়টিতে আন্তরীক হই; সুফল আসবেই। এ,জন্যে পরিবারের দায়িত্বই সবার উপরে। ভাল আর মন্দের শিক্ষা আর চর্চ্চাতো পরিবার থেকেই শুরু হয়।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে আবার ঘুমোতে যাবার অনিশ্চিত সময় পর্যন্ত এরা শ্রম দিয়ে যায় আমাদের; রঙহীন, বৈচিত্র্যহীন প্রানহীন এই জীবন-যাপন নিয়ে বোধ করি আমাদের ভাবনা আর দায়িত্ববোধ কোথাও, কোন গভীরে চাপা পড়ে গেছে! তবু আমরাতো হতাশ হই আমাদের একঘেয়েমী এই জীবন-যাপনে!













সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:২৪
৯৮টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×