somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার কোলেই যেন থাকি মাগো নির্ভয়ে প্রতিদিন

০৩ রা মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধু,

চেনা দেয়ালে তোমার আগের সেই সাদা-কালো পোট্রেটটা আমরা খুব মিস করি। যদিও এখন তুমি এই গাঢ় হলুদ-সবুজ ছবিটিতে আরও বেশী করে চোখের সামনে। প্রিয় সঙ্গীদের নিয়ে আশা করছি ভাল কাটছে তোমার পরবাসি দিন-রাত্রি। তোমাদের সোনামনিটা ভাল আছেতো?

কিছুদিন আগে হঠাৎ করে মা'কে দেখতে ঢাকায় এসে আবার ফিরে গেছো তাও জেনেছি তোমার লেখা পড়ে। মা ভাল আছেন এখন? আমিও খুব বেশী 'মায়ের মেয়ে'। নিজে মা হওয়ার পরেও এখনও একটুও বদলাইনি। সুযোগ পেলেই মাকে জ্বালাই; আমার চে' ছোট ভাই-বোনদের বেশী আদোর করার অকারণ অভিযোগে। জড়িয়ে ধরে কোলে মুখ গুঁজে দিয়ে মায়ের সুগন্ধ নিয়ে আগের মতই ভুল করে বলি, মা তুমি কি মেখেছো? অন্য রকম একটা মিষ্টি গন্ধে পাগল হই সেই বরাবরের মতই। মায়েরা এমনই হন, সব মায়ের বুকেই বুঝি এমনই এক বিশেষ সৌরভ আছে। মায়ের কোলের মত এমন শান্তিময় নিরাপদ আশ্রয় আর কি আছে!

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য আর সবার মত আমাদেরও কষ্ট হলেও প্রিয় মানুষদের হারিয়ে স্বজনদের এই আহাজারি ও আর্তনাদ সহ্য করতে পারি না বলে টেলিভিশনে সংবাদ দেখিনা গত কয়েকদিন। ভাবি, বৃদ্ধের কথা, যঁাদের এই ভার নেবার মানসিক সামর্থ কোনভাবেই নেই! ভেবে আতংকিত হই আমাদের শিশুদের কথা! এ,সব বাস্তবতা যখন ওদের চোখে পড়ে, ওদের ভেতরে কি অনুভূতি তৈরি হয়! দুর্ভাগ্য ওদের! ওরা হানাহানি দেখেই বড় হবে! স্বদেশ- সেতো মা'ই। মায়ের কোলেও বারুদের গন্ধ ঢুকে পড়ে যখন তখন! কি ভয়ানক নিরাপত্তাহীনতা!

এই সময় প্রতিদিনের কাজের পাশাপাশি মনটা বিক্ষিপ্ত ও বিষাদময় থাকায় জীবনযাপনে কোথাও যেন খানিকটা সুর কেটে গেছে। এই আকাশ-বাতাস ভারি করা বেদনা, প্রার্থনা, আশা-নিরাশা, হতাশা- আশংকার বোঝা ---- এ,সব তো পূর্নবয়স্কের জন্যই যথেষ্ট ভারী। কিন্তু শিশুদের বেলায়??!!

গত সন্ধ্যার একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আমাকে বেশ এলোমেলো করছে, কাজে মন দিতে পারছি না। অনেক ভেবে পছন্দের মানুষ, কোন একজন মা'কেই বেছে নিলাম আমার সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা (কষ্ট!) ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্যে।

আমাদের মেয়ে কিন্নরি। মাত্র পাঁচ বছর বয়স। হাসিখুশি, খানিকটা লাজুক এবং শান্ত। প্রথম ভাষা নরউয়্যিজিয়ান হলেও, মাতৃভাষার শাব্দিক অর্থ যদি করা হয়, তবে মায়ের ভাষাটাও 'ও' চমৎকার বলে এবং বোঝে। পাশাপাশি ইংরেজী ও ফরাসি ভাষায়ও অভ্যস্ত হয়ে উঠছে প্রয়োজনে। যদিও বেশীরভাগ সময় নরউয়্যিজিয়ান ভাষাটাই বলে থাকে। এতটুকু মেয়ে আমার কাল সন্ধ্যায় অদ্ভুত এক কথা বলেছে ওর মা'কে। খেলতে খেলতেই হঠাৎ করে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি করে বাংলায় বল্লো, 'মা, তুমি জানো আমি তোমাকে কত ভালবাসি?' কোন উত্তরের অপেক্ষা না করে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বল্লো ' অনে---ক অনে----ক'। এ,টুকু নতুন কিছু নয়, প্রায় প্রতিদিনই একবার দু'বার ঘটে । অন্যান্য দিনের মত আমিও ওকে আদোর করে বলতে থাকি,' আমিও সোনামনি আমার, আমিও তোমাকে অনে-----ক ভালবাসি। (সাধারনত আমরা তিনজন বাসায় প্রায় কখনও ইংরেজী বলি না দরকার নেই বলে)।---- আবার আমরা একসাথে খেলতে শুরু করলাম। একটু পরে ওর ঘুমোতে যাবার প্রস্তুতি সেরে প্রতিদিনের মতই ওর পছন্দের একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করেছি। এটা ওর ঘুমের ওষুধ বলা যায়। কিন্তু মেয়ে আমাকে থামিয়ে দিয়ে খুব কাছে এসে ইংরেজীতে বল্লো, 'Don't die mamma, never die, i don't want you to'.....শেষ করলো না কথাটা। আমি সম্ভবত কিছুক্ষনের জন্য বোধ হারিয়ে ফেল্লাম। "ওর মুখের দিকে চেয়ে আছি, ছঁুয়ে আছি, কিম্বা আলতো করে বুকে তুলে নিয়েছি- জানি না! ওকে যেন দেবশিশু মনে হচ্ছে অথবা নিজেকে অন্যকিছু! মন্ত্রচালিতের মত শুধু বলি ' তুমি কি বলছো সোনামনি, আমি বুঝি না, বুঝতে পারছি না।'

একটা বিচিত্র ভাবনাময় দীর্ঘ সময় আর নিশ্চিন্তে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা একটি নিষ্পাপ মুখ আমায় জাগিয়ে রাখে সারাটারাত, জাগিয়ে রেখে দেবে প্রতিদিন।

ভালবাসা তোমাদের জন্যে।
ভাল থেকো সবসময়।



সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:২৯
৭৩টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×