
লম্পট প্রধান শিক্ষক মোঃ শামসুল ইসলাম
ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পর এবার পাবনার ঈশ্বরদীতে ধরা পড়েছেন শিক্ষক নামের আরেক কলঙ্ক। সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্রেণীকক্ষেই যৌন নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। পুলিশ গ্রেফতার করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার বাঁশেরবাদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, এলাকাবাসী,
অভিভাবক, পুলিশ ও যৌন নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার সকালে বাঁশেরবাদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক মোঃ শামসুল ইসলাম ক্লাসরুমেই ধর্ষণের চেষ্টা করে। আর্তচিৎকার শুনে সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসে ওই ছাত্রীটিকে উদ্ধার করেন। ছাত্রীটি জানায়, মাথা ব্যথার কারণে সে পিটি না করে ক্লাস শিক্ষক আবদুল মতিনের অনুমতি নিয়ে ক্লাসে গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এ সময় তার সঙ্গে সহপাঠী অশ্রু খাতুনও ক্লাসে অবস্থান করছিল। স্কুলের এক শিক্ষিকা বলেন, স্কুলে যখন সব শিক্ষার্থী পিটিতে ব্যস্ত, তখন প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে এসে অশ্রুকে মারধর করে বের করে দিয়ে ওই ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়। এক পর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় সে। মেয়েটির চিৎকারে সবাই এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। সপ্তম শ্রেণীর ক্লাস শিক্ষক মোঃ মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাথা ব্যথার কারণে তাকে রোদের মধ্যে পিটি না করে ক্লাসে বসে থাকতে অনুমতি দিয়েছিলাম। তার সঙ্গে তার সহপাঠী অশ্রুও ছিল। এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসী স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষককে একটি কক্ষে আটকে রেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ওই ছাত্রীর মা ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। মেয়েটির বাবা পাবনার মুসলিম এইড নামের একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈশ্বরদী থানার ওসি কাজী হানিফুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়ে ওই শিক্ষককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শামসুল ইসলামকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে ওই ছাত্রী ও শিক্ষককে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানায়।
অন্যদিকে, আখাউড়ায় স্কুলে ক্লাস চলাকালে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, ২৯ জুন ক্লাস চলাকালে আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক শামসুল ইসলাম (৩৫) তার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই ওই ছাত্রীকে এ রকম হয়রানি করত। সর্বশেষ ঘটনার দিন ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিষয়টি বললে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘটনাটি জানান। রোববার বিকেলে আখাউড়া থানার পুলিশ স্কুল থেকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত শিক্ষক শামসুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে। আখাউড়া থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। থানায় মামলা হয়েছে।
ব্লগে চলমান ধর্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সবচেয়ে আলোকিত দিকটি হচ্ছে "হিন্দু পরিমলের বিরুদ্ধে আন্দোলন"। যারা ধর্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, আমি তাদের কাতারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

