যারা মনে করছেন সংকট কেটে গেছে তারা ভুল করছেন। এমন হতে পারে যে এটা কেবল সূচনা। প্রিয় সহকর্মীদের হারিয়ে সেনা অফিসারদের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে তা সামাল দিতে না পারলে সে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে পারে। ষড়যন্ত্রকারীরা সম্ভবত সেটাই চায়। পুরো জাতি এখন বারুদের উপর দিয়ে হাঁটছে, একটু বেতাল হলেই বিস্ফোরণ হতে পারে- তখন এমনকি ২৫ ফেব্রুয়ারীকেও মামুলি ঘটনা বলে মনে হবে। দেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের যে কত 'পেয়ার' করে তা ১/১১ র পরই বোঝা গিয়েছে। তারা যদি নিজেদের দোষে আবারও সেই অবস্থায় পতিত হয় সাধারণ মানুষের তাতে কিছু আসবে যাবেনা।
তাই এখনি সশস্ত্রবাহিনীর সকল অস্ত্রাগারে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করা হোক। সাধারণ সেপাহীরা যে কত বিশৃংখল আর বিভ্রান্ত হতে পারে পুরো জাতি তা প্রত্যক্ষ করেছে। তাই কর্মকর্তাদেরই এই দায়িত্ব নিতে হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক অফিসারকে সার্বক্ষনিক ভাবে একাজে নিয়োজিত করতে হবে। বিডিআরের অস্ত্রাগারের দায়িত্বে ছিলেন মাত্র একজন মেজর (সম্ভবতঃ মেজর সালাম)। অথচ বাকী প্রায় ১৩০ জন অফিসারের মধ্যে যদি অন্ততঃ ১০ জন দরবার হলে চিরাচরিত বক্তৃতা না শুনে অস্ত্রাগার পাহারা দিতেন তাহলে হয়ত এ ঘটনা এড়ানো যেত। নিদেনপক্ষে নিহত অফিসারগণ কিছু দুস্কৃতিকারীদেরকে সংগে করে নিয়ে যেতে পারতেন। দেশের সবচেয়ে দক্ষ, অস্ত্রচালনায় পারদর্শী সন্তানেরা একটি গুলিও ছোঁড়ার সুযোগ না পেয়ে অসহায় মৃত্যু বরণ করলেন এটা ভাবতেই বুকটা ভারী হয়ে আসে।
দেশে সিপাহী আর অফিসারের বিরোধ নতুন নয় এবং এ জাতীয় ঘটনায় প্রাণহানীও নতুন নয়। আবারও এরকম কিছু ঘটার আশাংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না। দেশের নেতৃবৃন্দকে বলবো এখনো সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি, এখনো অনেক কিছুই করার আছে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সংসদে অপ্রয়োজনীয় বাহাস বিতর্ক না করে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
পাদটীকাঃ আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপর আমি কেন যেন একেবারেই ভরসা পাইনা। কত বাহাদুরীর সাথে আত্নসমর্পণ করিয়ে, অস্ত্রাগারে তালা মেরে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে গেলেন! অথচ ততক্ষণে প্রায় ১০ হাজার বিডিআরের সবাই পালিয়েছে, পরদিন মাঠেঘাটে পড়ে থাকতে দেখা গেল গাদাগাদা গুলি, বন্দুক আর গ্রেনেড। একেবারে মন থেকে কথাটা বললাম, সত্যিই ভরসা পাইনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

