এতদিন জানতাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের লগি-বৈঠাধারী কর্মীরাই এই হত্যাকান্ড ঘটাইছে। কিন্তু এখন নিজামীর কথাবার্তায় সন্দেহে পইড়া গেছি, সত্যিই তো কারা ঘটাইলো এই ঘটনা?
সত্য ঘটনা আল্লাহই ভাল জানেন তবে মাঝে মাঝে মনে হয় জামাত নেতৃবৃন্দই জেনেশুনে (বা নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা করে) এই রকম একটা পরিণতির দিকে তাদের কর্মীদের ঠেলে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে পরিচয় হওয়া কয়েকজনের সাথে কথা বলে এরকমই ধারণা মনে হয়েছে আমার।
২৮শে অক্টোবরের যে হত্যাকান্ড ঘটলো তার একটা বড় কারণ জামাতের সমাবেশের 'টাইমিং', স্থান নির্বাচন, জামাত নেতৃবৃন্দের হঠকারী স্বিদ্ধান্ত আর দূরদর্শিতার অভাব। (কিংবা হতে পারে এমনটাই তারা চেয়েছিলেন)
বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করি। ঐদিন পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিলো সকাল ১১ টায়। আর বিএনপি- জামাতের সমাবেশ ছিলো বিকেল ৩টায় কিন্তু পৃথক পৃথক স্থানে। বিএনপির সমাবেশ তাদের অফিসের সামনে নয়া পল্টনে আর জামাতেরটা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে। একই জোটের শরীক এই দুই দল যদি সেদিন একসাথে সমাবেশ করে তাহলে এরকম একটা ঘটনা হয়ত ঘটেনা। কিন্তু জামাত-শিবির তাদের মাসল (শক্তি) দেখাতে গেছে (এবং ভাল মত ধরাও খেয়েছে)। যদি বিএনপি- জামাতও মহাজোটের মত একই সময়ে, অর্থাৎ সকাল ১১টায় সমাবেশ ডাকতো তাহলেও হয়ত এই ঘটনা এড়ানো যেত।
সকাল ১১টায় সমাবেশ থাকায় ১০টা- ১১টার দিকেই পল্টন ময়দান থেকে শুরু করে মুক্তাঙ্গন, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা তখন আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের নেতাকর্মীদের ভীড়ে লোকারণ্য। উত্তর গেটে জা-শি'র নেতাকর্মীরা তখনো আসেনি কারণ তাদের সমাবেশ আরো কয়েক ঘন্টা পরে। কিন্তু একেবারে খালি ছিলোনা উত্তর গেট। সমাবেশের মঞ্চ আর প্যান্ডেল তৈরীর কাজে সহায়তা বা তদারকি করার জন্য তখন শ'দুয়েক জা-শি কর্মী ছিলো। মূলত: এরাই সেদিন 'সাপ মারা' মাইরের শিকার হয়। পল্টন আর দৈনিক বাংলা, দুইদিক থেকেই মহাজোটের হাজার হাজার কর্মী পিষে ফেলে ঐ কয়েকশ জা-শি' কর্মীকে। তখন যারা পল্টনের বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালাতে পেরেছে তারাই বেঁচে গেছে, বাকীরা সবাই গণপটুনির শিকার হয়েছে। ঐদিন জামাতের যারা মারা গিয়েছিলো তারা প্রায় সবাই বেলা ১২টার মধ্যে মারা গেছে।
একটা জিনিস এখানে একটু ঠান্ডা মাথায় বোঝা দরকার। ঐদিন ছিলো জোট সরকারের ক্ষমতায় থাকার শেষ দিন। মহাজোটের কর্মীরা এর আগের ৫ বছর ধরে বিভিন্ন হামলা-মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর তারা যে লগি-বৈঠা নিয়ে আসবে এটা কোন গোপন কথা ছিলোনা বরং প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই তারা এসেছিলো। এই সময় তাদেরকে আরো উস্কিয়ে না দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সমাবেশ করতে পারতো জামাত (বা একেবারে না-ও করতে পারতো, পরের দিনও করতে পারতো)। কিন্তু সেটা না করে জামাতের যুদ্ধাপরাধী নেতৃবৃন্দ ঠান্ডা মাথায় কিছু তরুণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে (হয়ত পরবর্তীতে লাশের রাজনীতি করার জন্য)।
হত্যাকান্ড ঘটে যাওয়ার পর পুলিশ উত্তর গেটে অবস্থান নেয় এবং মহাজোট কর্মীদের ওখান থেকে হটিয়ে দেয়। যোহরের নামাজের পর জামাতের নেতা কর্মীদের মূল স্রোত এসে পড়ে উত্তর গেটে। তখন থেমে থেমে খন্ড যুদ্ধ চলে কিন্তু মহাজোট কর্মীরা জামাতের সভাস্থলে আর ঢুকতে পারেনি। মূলত: এই সময় জামাতের কেউই মারা যায়নি বরং তাদের গুলিতে মহাজোটের একজন কর্মী নিহত হন। এই গুলি করার ব্যাপারটাও বেশ ক্রিটিকাল। মহাজোটের কর্মীরা লগি বৈঠা নিয়ে ধাওয়া করে কয়েকবারই ঢুকে পড়তে যাচ্ছিলো জামাতের সমাবেশে। তারা ঢুকতে পারলে হয়ত সেদিন শতাধিক লাশ পড়ে যেত। সংখ্যায় কম থাকায় নিজেদের জান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে জামাত গুলির পথ বেছে নেয়।
এই ঘটনার রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য পরদিন থেকেই লাখ লাখ পোস্টার-লিফলেটে সারা দেশ ছেয়ে ফেলা হয়। কিন্তু চার আনার লাভও হয়নি। এই ঘটনার সবটুকু ফায়দা মইন ইউ গং আর আওয়ামী লীগের ঘরেই গেছে। কারণ এই ঘটনাকে সাক্ষী রেখেই মইন ইউ গং তাদের বিদেশী প্রভুদের কনভিন্স করতে পেরেছিলো যে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের কোন বিকল্প নেই। (শিবির কর্মীদের লাশের মূল্য আর কেউ না দিলেও তারা দিয়েছে)
আজ মতিউর রহমান নিজামী বলেন সেদিন কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা তিনি জানেন না তাহলে এতদিন চার রঙা পোস্টারিং, লিফলেট, ভিডিও প্রচার করে কাদের দায়ী করা হলো? যুদ্ধাপরাধের বিচারের কেবল প্রস্তুতি চলছে, এখনি এই অবস্থা? ব্লগে যারা 'ছাগু' নামে পরিচিত তাদের কি হুঁশ হবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



