somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৮ অক্টোবরের ঘটনায় জামাত নেতৃবৃন্দের দায়

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতদিন জানতাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের লগি-বৈঠাধারী কর্মীরাই এই হত্যাকান্ড ঘটাইছে। কিন্তু এখন নিজামীর কথাবার্তায় সন্দেহে পইড়া গেছি, সত্যিই তো কারা ঘটাইলো এই ঘটনা? ;)...........ছোট করে ছাটা চুল, 'কালা কালা' চেহারা- ভিন গ্রহ থেকে আসা কোন রহস্যময় আগন্তুক (নাকি অদৃশ্য শক্তি?) এসে ঘটিয়ে গেল সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকান্ডটি। এত ফটো, এত ভিডিও, এত সাংবাদিক কেউ দেখলোনা :| খালি আমাগো নিজামী সা'বে দেখলো! (প্রথম আলো, ২৮ অক্টোবর ২০০৯)

সত্য ঘটনা আল্লাহই ভাল জানেন তবে মাঝে মাঝে মনে হয় জামাত নেতৃবৃন্দই জেনেশুনে (বা নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা করে) এই রকম একটা পরিণতির দিকে তাদের কর্মীদের ঠেলে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে পরিচয় হওয়া কয়েকজনের সাথে কথা বলে এরকমই ধারণা মনে হয়েছে আমার।

২৮শে অক্টোবরের যে হত্যাকান্ড ঘটলো তার একটা বড় কারণ জামাতের সমাবেশের 'টাইমিং', স্থান নির্বাচন, জামাত নেতৃবৃন্দের হঠকারী স্বিদ্ধান্ত আর দূরদর্শিতার অভাব। (কিংবা হতে পারে এমনটাই তারা চেয়েছিলেন)

বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করি। ঐদিন পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিলো সকাল ১১ টায়। আর বিএনপি- জামাতের সমাবেশ ছিলো বিকেল ৩টায় কিন্তু পৃথক পৃথক স্থানে। বিএনপির সমাবেশ তাদের অফিসের সামনে নয়া পল্টনে আর জামাতেরটা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে। একই জোটের শরীক এই দুই দল যদি সেদিন একসাথে সমাবেশ করে তাহলে এরকম একটা ঘটনা হয়ত ঘটেনা। কিন্তু জামাত-শিবির তাদের মাসল (শক্তি) দেখাতে গেছে (এবং ভাল মত ধরাও খেয়েছে)। যদি বিএনপি- জামাতও মহাজোটের মত একই সময়ে, অর্থাৎ সকাল ১১টায় সমাবেশ ডাকতো তাহলেও হয়ত এই ঘটনা এড়ানো যেত।

সকাল ১১টায় সমাবেশ থাকায় ১০টা- ১১টার দিকেই পল্টন ময়দান থেকে শুরু করে মুক্তাঙ্গন, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা তখন আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের নেতাকর্মীদের ভীড়ে লোকারণ্য। উত্তর গেটে জা-শি'র নেতাকর্মীরা তখনো আসেনি কারণ তাদের সমাবেশ আরো কয়েক ঘন্টা পরে। কিন্তু একেবারে খালি ছিলোনা উত্তর গেট। সমাবেশের মঞ্চ আর প‌্যান্ডেল তৈরীর কাজে সহায়তা বা তদারকি করার জন্য তখন শ'দুয়েক জা-শি কর্মী ছিলো। মূলত: এরাই সেদিন 'সাপ মারা' মাইরের শিকার হয়। পল্টন আর দৈনিক বাংলা, দুইদিক থেকেই মহাজোটের হাজার হাজার কর্মী পিষে ফেলে ঐ কয়েকশ জা-শি' কর্মীকে। তখন যারা পল্টনের বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালাতে পেরেছে তারাই বেঁচে গেছে, বাকীরা সবাই গণপটুনির শিকার হয়েছে। ঐদিন জামাতের যারা মারা গিয়েছিলো তারা প্রায় সবাই বেলা ১২টার মধ্যে মারা গেছে।

একটা জিনিস এখানে একটু ঠান্ডা মাথায় বোঝা দরকার। ঐদিন ছিলো জোট সরকারের ক্ষমতায় থাকার শেষ দিন। মহাজোটের কর্মীরা এর আগের ৫ বছর ধরে বিভিন্ন হামলা-মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর তারা যে লগি-বৈঠা নিয়ে আসবে এটা কোন গোপন কথা ছিলোনা বরং প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই তারা এসেছিলো। এই সময় তাদেরকে আরো উস্কিয়ে না দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সমাবেশ করতে পারতো জামাত (বা একেবারে না-ও করতে পারতো, পরের দিনও করতে পারতো)। কিন্তু সেটা না করে জামাতের যুদ্ধাপরাধী নেতৃবৃন্দ ঠান্ডা মাথায় কিছু তরুণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে (হয়ত পরবর্তীতে লাশের রাজনীতি করার জন্য)।

হত্যাকান্ড ঘটে যাওয়ার পর পুলিশ উত্তর গেটে অবস্থান নেয় এবং মহাজোট কর্মীদের ওখান থেকে হটিয়ে দেয়। যোহরের নামাজের পর জামাতের নেতা কর্মীদের মূল স্রোত এসে পড়ে উত্তর গেটে। তখন থেমে থেমে খন্ড যুদ্ধ চলে কিন্তু মহাজোট কর্মীরা জামাতের সভাস্থলে আর ঢুকতে পারেনি। মূলত: এই সময় জামাতের কেউই মারা যায়নি বরং তাদের গুলিতে মহাজোটের একজন কর্মী নিহত হন। এই গুলি করার ব্যাপারটাও বেশ ক্রিটিকাল। মহাজোটের কর্মীরা লগি বৈঠা নিয়ে ধাওয়া করে কয়েকবারই ঢুকে পড়তে যাচ্ছিলো জামাতের সমাবেশে। তারা ঢুকতে পারলে হয়ত সেদিন শতাধিক লাশ পড়ে যেত। সংখ্যায় কম থাকায় নিজেদের জান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে জামাত গুলির পথ বেছে নেয়।

এই ঘটনার রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য পরদিন থেকেই লাখ লাখ পোস্টার-লিফলেটে সারা দেশ ছেয়ে ফেলা হয়। কিন্তু চার আনার লাভও হয়নি। এই ঘটনার সবটুকু ফায়দা মইন ইউ গং আর আওয়ামী লীগের ঘরেই গেছে। কারণ এই ঘটনাকে সাক্ষী রেখেই মইন ইউ গং তাদের বিদেশী প্রভুদের কনভিন্স করতে পেরেছিলো যে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের কোন বিকল্প নেই। (শিবির কর্মীদের লাশের মূল্য আর কেউ না দিলেও তারা দিয়েছে) ;)

আজ মতিউর রহমান নিজামী বলেন সেদিন কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা তিনি জানেন না তাহলে এতদিন চার রঙা পোস্টারিং, লিফলেট, ভিডিও প্রচার করে কাদের দায়ী করা হলো? যুদ্ধাপরাধের বিচারের কেবল প্রস্তুতি চলছে, এখনি এই অবস্থা? ব্লগে যারা 'ছাগু' নামে পরিচিত তাদের কি হুঁশ হবে?
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×