somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা দখলের ভারত-মায়ানমারের অপচেষ্টা প্রতিহতকরণ এবং বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাসসহ মূল্যবান সম্পদ প্রসঙ্গ। এক সমুদ্রসীমা নির্ধারণই বাংলাদেশের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারে।

২৭ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।
সমুদ্রসীমায় মহীসোপানের ৩৯০-৪৬০ কিলোমিটার দাবির স্বপক্ষে যুক্তি-তথ্য উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কমিশন অন ডিলিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল শেলফ (সিএলসিএস)-এর ২৮তম শুনানিতে বাংলাদেশ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে।
বিশ্বের সমুদ্রসীমার মহীসোপানে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আপত্তির মীমাংসা করে জাতিসংঘের অধীনস্ত কমিশন ‘সিএলসিএস।’ সিএলসিএসের ২১ সদস্যের জুরি বোর্ড শুনানি শেষে নিষ্পত্তির রায় ঘোষণা করে।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ স্থলভাগের সীমা থেকে পরবর্তী ৪৬০ নটিক্যাল মাইল নিজেদের অর্থনৈতিক অঞ্চল বলে হিসাব করেছে। বাংলাদেশের এই দাবির সঙ্গে ভারত ও মায়ানমার একমত নয়। মায়ানমারের যুক্তি হলো- বাংলাদেশ ২০০ নটিক্যাল মাইলের পর আর কোনোভাবেই মহীসোপানে দাবি রাখতে পারে না। ভারতও মায়ানমারের এ যুক্তি সমর্থন করে। তবে এর বাইরে তাদের আরও বক্তব্য হলো- বাংলাদেশ পশ্চিম দিকে যে বিন্দু থেকে সমুদ্রসীমা পরিমাপ শুরু করেছে, তা সঠিক নয়। মায়ানমার ২০০৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং ভারত ২০০৯ সালের ১২ মে সমুদ্রসীমার দাবি জাতিসংঘে পেশ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এ সময়সীমা ছিল ২০১১ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত।
এর আগেই ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবির স্বপক্ষে অবস্থানপত্র জমা দেয়া হয়। গভীর সমুদ্রের দাবি উত্থাপনের জন্য বঙ্গোপসাগরে প্রয়োজনীয় সিসমিক সার্ভে করেছে বাংলাদেশ। এই সার্ভে থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত সিএলসিএসে উত্থাপনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। মহীসোপানে বাংলাদেশের দাবিকৃত এলাকার পরিমাণ প্রায় ২১ লাখ ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ তার আঞ্চলিক সমুদ্রে মূল ভূখ-ের মতোই সার্বভৌমত্বের অধিকার রাখে। সমুদ্রসম্পদ ও আকাশসীমার একান্ত অধিকার থাকে সংশ্লিষ্ট দেশের। তবে মহীসোপান এলাকায় যে কোনো দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারলেও সম্পদে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের অধিকার থাকবে।
প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগর হঠাৎ করেই ভারত ও মায়ানমারের কাছে লোভনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিশাল বুক জুড়ে রয়েছে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য। ভারতীয় সমীক্ষায় দেখা যায়, সমুদ্র তলদেশে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং মায়ানমারের অনুসন্ধানে আবিষ্কৃত হয় ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
এছাড়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার তিন দিকে ভারত হলেও প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা, পশ্চিমে রাজমহল উচ্চভূমি, পূর্বে লুসাই পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এই বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর যে বৃষ্টিপাত হয় তা শত শত নদীর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের বুকের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। এই নদীগুলো তাদের প্রবাহের সঙ্গে আনে বিপুল পরিমাণের পলি, যা বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এই পলির একাংশ নদী থেকে উপচে পড়ে ডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী জমি ও নিম্নভূমিকে ভরাট করছে বটে, কিন্তু এর বিরাট অংশ সাগরে গিয়ে পড়ে নতুন নতুন দ্বীপ ও ভূখন্ড জেগে উঠছে। তাই বাংলাদেশের সীমানা ভূখ-ে যেমন নির্দিষ্ট রেখা দিয়ে স্পষ্ট করা যায়, সাগরে তা করা যায় না। সব সাগরেই আছে মহীসোপান, যেখানে ভূমি থেকে আসা পলি ও জৈব পদার্থ গিয়ে জমা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই মহীসোপানের এলাকাও যে দেশ থেকে পলি এসে জমা হচ্ছে সেই দেশের অংশ। এই অংশে বিচরণ করে সামুদ্রিক মাছ এবং থাকে পলির ভেতরে জমে থাকা জৈব পদার্থের জীবাশ্ম জ্বালানি বা তেল ও গ্যাস, অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে নবায়নযোগ্য খাদ্যসম্পদ ও নিঃশেষযোগ্য জ্বালানি সম্পদ।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্রসীমার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য সরকারের আলাদা একটি মন্ত্রণালয় থাকলে ভালো হতো। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের প্রধান একটি জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে সমুদ্রসীমা রক্ষা করা। এ বিষয়ে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী উভয় রাজনৈতিক দলই জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু জাতীয় সংসদে কোনো দলই এ নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা উত্থাপন করেনি।
অথচ জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ অন্যান্য দাবি ও খোঁড়া তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করছে। তাদের এসব যুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টিকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্ত ওই দু’দেশের চেয়ে অনেক বেশি গবেষণামূলক ও বিজ্ঞানভিত্তিক। এ ইস্যুটি রাজনৈতিক নয়, জাতীয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের অর্থনৈতিক ও অস্তিত্বের প্রশ্ন।
দুঃখজনক হলেও এদেশের সংসদে সমুদ্রসীমা নিয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে তেমন আলোচনা করে না। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সমুদ্রসীমা আগ্রাসন থেকে দেশের প্রকৃত সমুদ্র সম্পদ রক্ষার্থে সকল রাজনৈতিক দলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরী।
সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বাংলাদেশকে জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক জনমত গড়তে হবে। ভারত-মায়ানমার যেভাবে বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ সমুদ্রসীমা দাবি করছে তা স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় চিংড়ি, গ্যাস, তেলসহ আরো অনেক সম্পদ পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। কার্যতঃ এক সমুদ্র সম্পদই যে গোটা বাংলাদেশবাসীর ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারে তাও সহজেই অনুমেয়। দেরিতে হলেও সরকার সমুদ্রের প্রতি নজর দিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে শুধু এ ধরনের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। যথার্থ গবেষণা, ডাটা সংগ্রহ, তথ্যানুসন্ধানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ ও উদ্যমের পাশাপাশি ভারত ও মায়ানমারকে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত অনুভূতি ও ঈমানী জজবা।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘যতক্ষণ তোমরা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ আঁকড়ে থাকবে ততক্ষণ উন্নতির শীর্ষে থাকবে। আর যখনই তা থেকে বিচ্যুত হবে তখনই লাঞ্ছিত ও পদদলিত হবে।’
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সীমারেখা সংরক্ষণ, বৃদ্ধি, সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সমৃদ্ধি সবই এ হাদীছ শরীফ-এর আমলের উপর নির্ভর করে। বলাবাহুল্য, এ হাদীছ শরীফ-এর আমলের জন্য চাই খাছ রূহানী ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার নেক ছোহবতেই কেবলমাত্র তা হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×