আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন্ত মানব সত্তার অস্তিত্বই নিঃসন্দেহে মানবের সকল ইতিহাসের প্রথম আরম্ভ...

নারী আমার নারীঃ অথবা আমাদের মেয়েরা

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:১২

শেয়ারঃ
0 0 0






ওস্তাদের নিদানঃ একাদশীতে বার্তাকু ভক্ষন যায়েজ নয়।

আমার বন্ধু গান শেখে, ভাল গায়ও। ফি বছরই তার ডাক আসে আমাদের শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার। সুযোগ পেলে আমরাও সে সব অনুষ্ঠানে সামিল হই, মুগ্ধ হয়ে শুনি তার গান। কিন্তু বিস্ময়, সোমবারে সে হারমোনিয়ামে হাত ছোঁয়াবে না। সেদিন গান হবে খালি গলায়... কারন কি? কোন কারন নাই, ওস্তাদের নিষেধ।

মনে আছে, শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্তের পিসিমা বেগুন খেতেন পঞ্জিকার তিথিক্ষন দেখে, তার নির্দেশিত বিধি নিষেধ মেনে। কোন কোন লগ্নে কি কি দ্রব্য ভক্ষন করা যায়েজ আছে, তার নিদান থাকে পঞ্জিকার পাতায়। এসব বিধি নিষেধের কোন যুক্তি আছে কিনা, বা কোন কার্য কারন সম্পর্ক আছে কিনা, তা অবশ্য আমার জানা নাই। কারন এ ধরনের কেসে সব সময় আমার ওস্তাদ আমার উপর নিষেধ জারী করে সুনির্দিষ্ট কারন দেখিয়ে।

যে কারনে নারীবাদ নিয়ে কোন কিছু আলোচনার ধারে কাছে সাধারনতঃ আমি থাকি না। আমার মতামত দেই না, বড় জোর শুধু শুনে যাই। আমার আলোচনা থেকে নারী সর্বদাই বাদ। ওস্তাদের নিষেধ বলে কথা...!!

শ্রেনী সংগ্রামের ইতিহাসে, প্রলেতারিয়েত শ্রেনী হিসাবে মহান, আধুনিকতম। সমাজ বদলের নতুন দর্শন, চিন্তার ধারক হওয়া একমাত্র তার পক্ষেই ঐতিহাসিক ভাবে সম্ভব। সমাজে নিস্পেষিত এবং শোষিত শ্রেনী হিসাবে ইতিহাসে তার যে মুর্ত নির্দিষ্ট ভুমিকা, তা ব্যাখা এবং তুলে ধরাই সমাজ বিপ্লবের রাজনীতি।

কিন্ত বিষয়টা যদি এমন হয়—প্রলেতারিয়েতের কাছে এ বিষয়ে বিস্তর জ্ঞান লাভের পর তার যদি মনে হয়, অনেক নিস্পেষিত এবং শোষিত হইছি, এবার আমার অনেক কিছু পাওয়া দরকার। আমার বহুত পাওনা জমছে। সে শুরু করলো ধান্ধাবাজি, শুরু করলো চান্দাবাজি...

এই প্রলেতারিয়েত কে লুম্পেন হওয়ার হাত থেকে ঠেকাবে কে?

ওস্তাদের ধারনা নারীবাদ চর্চা নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক না থাকলে, সে চর্চা ক্ষেত্র বিশেষে নারীদের লুম্পেন নারীতে পরিনত করতে পারে। লুম্পেন- যে কিনা তার অধিকার আদায়ের বিষয়ে অতি তৎপর, কিন্ত তার দ্বায়ীত্ব বোধ, কিংবা করনীয় নিয়ে ততটাই বেখেয়াল। আমি অবশ্য এমন কোন হুমায়ুন আজাদ নই, যে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার তেমন মুশকিল হয়। নারীবাদ নিয়ে আমি জানিই বা কি, বলবোই বা কি? তাই নারীবাদ মাথার উপরে তোলা থাক, আমরা ভিন্ন লাইনে আগাই...

নারী আমার নারী
এ দুনিয়ায় নারীরা এমন কোন ভিন্ন ধরনের সৃস্টি নয়, বিশেষ কোন প্রজাতি নয়, যাদের ব্যাখার জন্য পুরুষদের থেকে আলাদা কোন বিজ্ঞান বা শাস্ত্রের প্রয়োজন হবে। শরীরবৃত্তিক বা মনস্তাত্তিক বিশ্লেষনের কোন রহস্যময়তা, আধিদৈবিক বিধির প্রতি আমার পক্ষপাতিত্বও নাই। শুধু বুঝি আমাদের জগতটা ভীষন রকম পুরুষশাসিত, আর পিছিয়ে পড়া মেয়েরা সম অবস্থানে থাকা একটা পুরুষের তুলনায় একসাথে দুইটা লড়াই লড়ে—পুরুষ আধিপত্যের মাঝে নিজের জায়গা আদায় করে নিতে, আর তার পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে রেহাই পেতে। তবে নারীদের নিয়ে কোন আহা উহু দেখানো, কোন লৈঙ্গিক ভেদ রেখা টানা থেকে আমাকে সতর্ক থাকতেই হবে। আত্মবিশ্বাসী এবং মর্যাদাবোধ সম্পন্ন নারীরা নিশ্চয় এ জন্য আমার প্রশংসা করবেন। বুঝতে হবে কিছু নারীবাদী লুম্পেন পয়দা করা আমাদের কারো কোন উপকারে আসবে না। নারীমুক্তি এক ইঞ্চিও এগুবে না।

ফলে কোন তত্ত্ব কথা নয়, নীতি কথা তো নয়ই। সাদা চোখে দেখা আমার চারপাশের নারীদের নিয়ে আমার যা কিছু পর্যবেক্ষন, আর তা থেকে উত্থিত কিছু প্রশ্ন...। সে গুলোই আগামীতে এখানে তুলে ধরতে চাই। তাদের জীবন সংগ্রাম, বেঁচে থাকার লড়াই কিছু একটা প্যাটার্ন যেন নির্দেশ করে। কি সেই বৈশিষ্ট্য? এটা কি বিশেষ কোন ধরনের ঝোঁক? আমার জানা নাই...।

প্রশ্নগুলো আমি তুলতে যাচ্ছি—উঠে আসা সওয়াল গুলোর জবাব খুঁজে পাওয়ার আগেই। ব্যাখা এবং বিশ্লেষনের অভিমুখ কি হতে পারে, তা চিহ্নিত করার আগেই। এমনকি যখন আমার ধারনাও নাই, উত্তর গুলোর ধরন কি হতে পারে!! সবাই কে নিয়ে সেই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খোঁজা—একটা গ্রহন যোগ্য ব্যাখা দাঁড় করানো। আমার মনে হয়েছে, এক্ষেত্রে সেরা পন্থা হবে সেটাই...। আপনাদের অংশগ্রহন চাই।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নারী ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: লুম্পেন নারীবাদীর ধারণাটিতে হয়তো চমক আছে। কিন্তু যে ব্যাখ্যাটি দাঁড় করিয়েছেন তাতে শ্রেণীর প্রশ্নটি যুক্ত না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে মনে হয়। নারীবাদের নামে কোন কোন নারীর বেশি সুবিধা নেয়ার যে প্রবণতা সেটির উপস্থিতি খুউব আছে । কিন্তু এসব নারী অথবা পুরুষ এ সুবিধা নেয়ার কাজ করেন শ্রেণীগত অবস্থানের জোরে। এ ক্ষমতটা সে পায় নারী হিসেবে নয়, নারীবাদী হিসেবে নয়, শ্রেণী হিসেবে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ইস্যুটিকে সে বিক্রি করে। এতে শ্রেণীর নয়া মেরুকরণও ঘটে। এখন লুম্পেন নারীবাদী আছে বলে আমরা নারীবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো কিনা?
ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১১

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: মুনীর ভাই, অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আপনার বক্তব্যের সাথে আমার কোন দ্বিমত নাই। তবে আমার আলোচনা ঠিক নারীবাদের বিরুদ্ধে দাড়ানোর প্রশ্নে নয় বরং আলোচনায় বিশেষ সতর্ক থাকা, যাতে নারীবাদে লুম্পেনগিরি কে উৎসাহিত না করা হয়।

তবে পোস্টে এতক্ষন যা পড়লেন তা মুল প্রশ্নে যাওয়ার আগে ভুমিকা মাত্র। কোন তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং সাধারন পর্যবেক্ষক হিসাবে নারীর কিছু আচরনের প্যাটার্ন, তার কিছু ভুমিকা এখানে তুলে ধরতে চাই পরবর্তী অংশে।

বাকী অংশ হয়ত আজকের মধ্যেই পোস্ট করতে পারব, দয়া করে চোখ রাখেন…

২. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৫
কৌশিক বলেছেন: পড়লাম। আলোচনা চলুক। বার্তাকু কি বস?
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: বার্তাকু কোন একটা সব্জি, সম্ভবত লাউ। শ্রীকান্তে পাবেন আশা করি।

৩. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: তবে পোস্টে এতক্ষন যা পড়লেন তা মুল প্রশ্নে যাওয়ার আগে ভুমিকা মাত্র। কোন তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং সাধারন পর্যবেক্ষক হিসাবে নারীর কিছু আচরনের প্যাটার্ন, তার কিছু ভুমিকা এখানে তুলে ধরতে চাই পরবর্তী অংশে।............................................................
এটি নিয়েও সতর্কতার প্রয়োজন আছে। যদি পরিপ্রেক্ষিত এবং প্রেষণাগুলো বিবেচনায় না আনেন। এ আচরণের স্বাভাবিক কিছু প্যাটার্ন বলতে গেলেই যারা নারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান, খুব সচেতনভাবে তারা মওকা পেয়ে যান। ভয়ের জায়গাটা এখানে। যা আপনার আলোচনাটিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ধন্যবাদ।
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯

লেখক বলেছেন: মুনীর ভাই, আশা করি আপনাদের ভয়ের কারন হয়ে উঠব না, কারন আমার গন্তব্য কখনই নারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মওকা খোজা নয়।

তবুও আপনার আগাম সাবধান বানীর জন্য ধন্যবাদ।

১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:১২

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ, অলস ছেলে।

১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:১৭

লেখক বলেছেন: তনুজাকে ধন্যবাদ।

৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:১৪
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: রাখলাম শোকেসে। পরে পরুম।
১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:২০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আরজু, সেই সাথে পরবর্তী অংশটাও পড়ার অনুরোধ করছি।

১০. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৩৪
দেশী পোলা বলেছেন: লেখক বলেছেন: এই প্রলেতারিয়েত কে লুম্পেন হওয়ার হাত থেকে ঠেকাবে কে?


হাসালেন ভাই, ডাল-ভাত আর মাথার উপর একটা চালা রাখার চেষ্টা হল বাঙালী সমাজের আদি ও অকৃত্রিম চিন্তা। প্রলেতারিয়েত লুম্পেন হল, নাকি লুম্পেন প্রলেতারিয়েত হল, এতটা চিন্তা করে তার সপক্ষে বা বিপক্ষে পদক্ষেপ নেয়ার মত ক্ষমতা দেশের সরকারেরই নেই, জনসাধারণের থাকবে কি ভাবে??

আর নারীরা ক্ষমতায় এসে দ্বায়ীত্ব বোধ, কিংবা করনীয় নিয়ে কতটা বেখেয়াল থাকে, তার উদাহরণ দেখতে বেশিদূর যান কেন? আমাদের দুই নেত্রীকে দেখুন না। এরা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধারী ব্যাক্তি, কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে সেটা তো দেখাই যাচ্ছে, অপরাপর বাঙালী রমণীরা(নেক্সট জেনারেশন) এদের চেয়ে আরও দায়িত্ববান হবেন, সেটা ভাবা অনুচিত।
১১. ০৪ ঠা মে, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭
মাসুদ জাকারিয়া বলেছেন:
পরবর্তী অংশটা পরার জন্য অপেক্ষা করছি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫২৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
jatematal@googlemail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই