দেশে যত আইন সব মেয়েদের জন্য। ছেলেদের জন্য আইন নেই। মেয়েরা অভিযোগ করলে ইভটিজিং বলে গণ্য হয়। মামলা সাথে জেল-জরিমানা। কিন্তু মেয়েরা ছেলেদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কোন ছেলের জীবন ধ্বংস করলেও তার কোন বিচার হয়না। নেশা জাতীয় সামগ্রী তো দূরের কথা আমার জীবনে কখনো সিগারেটে টান দেইনি। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। পবিত্র কুরআনের ৭ পাড়া মুখস্থ করেছি। তাছাড়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দলীয় প্রধান হয়ে কয়েক বার বিতর্ক করেছি এবং বিজয়ীও হয়েছি। প্রেমিকার প্রেমের পূর্ণতা দিতে গিয়ে জীবনে কিছুই বাকি রাখিনি। কিন্তু প্রেমিকার প্রতারণার শিকার হয়ে আজ আমার পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছেনা। তাই তাকে শেষবারের মতো ডেকে দু’টি শর্ত দিয়েছি-আমাকে একটি থাপ্পড় মারতে এবং আমার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দিতে। আমি এ পৃথিবীতে বাঁচতে চাইনা। তাকে ছাড়া আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও করতে চাইনা। আজ (মঙ্গলবার) থেকে এক সপ্তাহ পর আগামী মঙ্গলবার প্রক্টর অফিসে আমি বিয়ের পাঞ্জাবী-টুপি পড়ে আসবো। সেদিন সুরভীর সাথে আমার বিয়ে না হলে আমি এই পৃথিবীর বুকে থাকবো না। আমার মৃত্যুর জন্য আপনারা (প্রশাসন) দায়ী থাকবেন।
দীর্ঘ দু’বছরের প্রেমের সম্পর্ককে অস্বীকার ও অন্য ছেলের সাথে বিয়ের খবর শোনার পর প্রেমিকার সামনেই শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টাকালে উদ্ধার করার পর প্রক্টর অফিসে আবেগ-আপ্লুত হয়ে এসব কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের ছাত্র আশিকুর রহমান। তার বাড়ী নীলফামারী জেলার রহিমাপুর গ্রামে। সে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ২২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করার পর রাবি‘র সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামের ৫ম ব্যাচের ১ম সেমিস্টারের ছাত্রী শুকরিয়া সুলতানা ওরফে সুরভীর সাথে দু’বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক হয় আশিকুর রহমানের। কিন্তু সম্প্রতি পারিবারিক ভাবে সুরভী অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাইলে সে আশিকের সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায়। কিন্তু পাগল প্রেমিক আশিক তাকে ছাড়া বাঁচবেনা বলে জানিয়ে দেয়। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রবীন্দ্র ভবনের ছাদে সুরভীকে ডেকে নিয়ে আশিক তাকে দুটি শর্ত দেয়। আর তা হলো প্রথমত আশিককে ছেড়ে যেতে হলে তাকে থাপ্পড় মারতে হবে এবং তাকে সচক্ষে আশিকের মৃত্যু দেখতে হবে। শর্ত মত সুরভী আশিককে থাপ্পড় মারলে আশিক তার পুরো শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার জন্য সুরভীর হাতে দিয়াশলাই তুলে দেয়। এ ঘটনা দেখতে পেয়ে আশিকের সহপাঠীরা তাদের দু‘জনকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।
সুরভীর উপস্থিতিতেই প্রেমিক আশিক প্রক্টরকে জানান, সুরভীর সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাকে রাবি’র সান্ধ্যকালীন এমবিএতে ভর্তি করানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করে সে তাকে ভর্তি করিয়েছে। এমবিএতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সুরভী তার সাথে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকে। প্রক্টর অফিসে প্রায় ৩ ঘণ্টা ব্যাপী উভয়ের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন প্রক্টর প্রফেসর চৌধুরী মোঃ. জাকারিয়া। আশিক বলেন, সুরভীকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবোনা। এক সপ্তাহের মধ্যে আমার সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা না হলে আমি আত্মহত্যা করবো। আর এর জন্য দায়ী থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সুরভী আশিকের সাথে তার সম্পর্ক অস্বীকার বলেন, সে প্রায়ই আমাকে ফোন করতো। আমি কখনো ফোন না ধরলে সে আত্মহত্যা করবে বলে জানাতো। তবে সুরভী অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান। প্রক্টর প্রফেসর চৌধুরী মোঃ. জাকারিয়া তাদের এ সমস্যার সমাধানের জন্য উভর পরিবারের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এক সপ্তাহের সময় নেন। তবে আশিকের সহপাঠীরা জানিয়েছে সুরভীকে না পেলে যেকোনো মুহূর্তে আশিক আত্মহত্যা করতে পারে।
উল্লেখ্য, একইভাবে গত কয়েকদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো তিনজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এরমধ্যে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে সফল হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


