আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে বিদ্যা-বুদ্ধি অর্জনের স্থান স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। হালে আমরা শিক্ষা লাভের সর্বোচ্চ পীঠস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গীনার যে চিত্র দেখলাম, তাতে আসুন সবাই একবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখি এরকম ডিগ্রী দিয়ে কি হবে? যে লোকটির উপর দায়িত্ব ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মানবীয় গুনাবলীকে জাগ্রত করার,সে জাগ্রত বিবেক জাগানিয়ার মাঝে যদি বাস করে এক মানব রুপি দানবীয়তা (পশুত্ব),একজন ছত্রীকে যদি উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে এসে তার সম্ভ্রম হারাতে হয়,একজন শিক্ষকের হাতে হতে হয় যৌন হয়রানির শিকার, শিক্ষাকদের যৌন কেলেঙ্কারীর কারনে যদি রাষ্ট্রকে নাক গলাতে হয়,যদি আইন করে শিক্ষাকদের নীতি আদর্শ শিখাতে হয় এই অবস্থায় আমাদের আগামী সুদিনের কথা চিন্তা কারা কতটা যুক্তি সংগত? ‘যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত’,এটা সবার জানা। জাতীয় উন্নয়নের মূল মন্ত্র হলো জাতিকে শিক্ষিত করে তোলা, অন্যথায় তিমির কাটবেনা। এ ক্ষেত্রে আরো একটি কথা আছে,আর তা হচ্ছে শিক্ষিত মা পারে শিক্ষিত জাতি গড়তে । কিন্তু সেখানে তো আজ বিষধর সাপের ফোস ফাস! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযুক্ত হন যৌন হয়রানির,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কাঁচা বাঁশের লাঠি হাতে ক্লাস রুম ছেড়ে রাজপথে, অমরন অনশনে , চুয়েটের ছাত্রীরা মানব বন্ধন করে মামু গ্র“পের কুটুক্তির প্রতিবাদে,চিড়াখানা রোড়ে শিক্ষকের বিরোদ্ধে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ হয়! সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হতে হয় ধর্ষনের শিকার। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কি ? হ্যাঁ আমার মত যারা একে হঠাৎ করে বলে মনে করবেন, তাদের ভ্রমটা হয়তো আমার মতই । যৌন হয়রানির ঘটনা বহুদিনের, কিন্তু একজন মেয়ে মানুষ সহসা তার সম্ভ্রম হারানোর কথা প্রকাশ করতে নারাজ। কারন নারীর অহংকার তার সতীত্ব। সবাই চান আত্মসম্মান নিয়ে বেচেঁ থাকতে। কিন্তু বাচাঁর রাস্তাগুলো যখন খুবই সুরু হতে থাকে তখন মানুষ প্রতিবাদ করে আত্ম রক্ষা করতে চায়। কারন অত্ম রক্ষাও ধর্ম। শিক্ষার সজ্ঞা অনুযায়ী এসব নীতি আদর্শ বর্জিত শিক্ষক নামধারী পশুদের মধ্যে যে কি বিরাজ করে তা আজ স্পষ্ঠ সবার কাছে। শুধু মাত্র এটি ’শেষ মহলের’ ছাড়া। হার্বাড বলেছন “শিক্ষা হল সুন্দর নৈতিক চরিত্রের বিকাশ”। কিন্তু এ কোন চরিত্রের বিকাশ ? আর এই ‘বিশাল’ চরিত্রের লোকগুলো এখানে কিভাবে পৌঁছায়। কারা এদের এখানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তাদের পরিচয় কি ? শুধু মাত্র উচ্চ পর্যায়ের লবিং গ্র“পিংয়ের শক্তি না থাকায় দেশের মেধাবী গরীর ছাত্রদের পাশ কাটিয়ে এসব র্দুচরিত্রের শিক্ষক নামধারী পশুদের যারা রাতের আধাঁরে নিয়োগ চুড়ান্ত করেন তাদের বিবেক বলে কি কিছু আছে ? বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানীত শিক্ষক হিসেবে তিনি কি আজ বুকে হাত দিয়ে এই অপরাধ থেকে নিজেকে নিরপরাধী বলে দাবী করতে পারবেন ? আমার মনে হয় কোন বিবেকবান শিক্ষক নিজেকে নিরপরাধ বলতে পারবেন না।যদি এডিসনের দেওয়া শিক্ষার সজ্ঞা ভুল না হয়। এডিসন বলেন “ শিক্ষা যখন মানুষের মনে কাজ করে তখন তার মনের অন্তর্নিহিত প্রদেশ থেকে সমস্ত অব্যক্ত গুনাবলী ও পূর্নতাকে বের করে আনে”। হয়তো তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষক যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করেছেন। প্রকৃত শিক্ষা ছিলো বলেই হয়তো জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বসেই ধর্ষকের বিচার দাবী করার সাহস পেয়েছেন। এসব হয়রানীরে ঘটনাগুলো কি শুধুই ঘটনা ? ক’দিন আগে বয়:সন্ধি কাল পার করা কোন বালকের দ্বারা ঘটানো ঘটনা নয় এ কথাটাও একবার কতৃপক্ষের বিবেচনায় রাখতে হবে।
পাকিস্থান এর সেনারা যখন দেখলো বাংলাদেশ স্বাধীন হবে তখন তারা আমাদের মেধা ধ্বংস করে জাতি হিসেবে আমাদের পঙ্গু করে দিতে আমাদের দেশের বুদ্ধিজিবীদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে একের পর এক যৌন হয়রানি কারা কি কোন মহলের বিশেষ এজেন্ডা নয় তো ? যাতে করে আমাদের অবিভাবকরা তাদের কন্যা সন্তনদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পাঠাতে মনোবল হারায়। তাই একটু বিষদ ভাবে বিষয়টা দেশের বিবেকবান লোকদের দেখা প্রয়োজন। না হলে হয় তো কয়েক বছর পরে দেশের কোন মেয়েকে অভিববকরা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠও মাড়াতে দিবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




