somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বলাকার পায়ে রাক্ষসের কামড়!!!

৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বলাকার পায়ে রাক্ষসের কামড়!!!
আবার দেশে ভাস্কর্যের ওপর হামলা। নাম পরিবর্তন করে হামলাকারীরা নতুন নতুন নামে হামলা করছে। এ যাত্রায় তাও পুলিশ রক্ষা করেছে। জানিনা মতিঝিল থানার পুলিশ তাদের সাধারন দায়িত্বের অংশ হিসেবে কাজ করেছে না উপর মহলের অনুমতি নিয়ে কাজ করেছেন। তবে যে ভাবেই হোক তারা অন্তত একটা ভালো কাজ করেছেন। হামলাকারীরা পুলিশের উপর চড়াও হলেও পুলিশ তাদের কয়েক জনকে আটক করতে পেরেছে। দেশে লালন ভাস্কর্য নিয়ে এখনো নিন্দা চলছে এমন সময় রাজধানীর বুকে রাত সাড়ে ৯ টায় উন্মুক্ত ভাবে আবার এমন হামলা চালাতে পারে যারা তারা যে আরো বড় কিছু করতে পারবে না বা পারে না তা কি করে মানি। ভারতের ভয়াবহ অবস্থার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা জোড়দার করার কথা শোনা গেছে। নিরাপত্তা কেমন জোড়দার করা হয়েছে পরিস্কার বুঝলাম না। কারন রামদা, হাতুড়ি, শাবলসহ আল বাইয়্যেনাত নামে একটি সংগঠন মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে মতিঝিল বিমান অফিসের সামনে ভাস্কর্য বলাকায় হামলা চালায়। মাত্র ক’দিন হলো আমরা দেখেছি ভারতের গোয়েন্দারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা বর্থ্যতার পরিচয় দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগগুলো কি সেই একই পদাঙ্ক অনুকরন করবে কিনা বোধগম্য হচ্ছে না। খোদ রাজধানীর বুকে ভাস্কর্য বলাকায় হামলা করার জন্য হামলাকরীরা নিশ্চয় কোথাও না কোথাও বসে ফন্ধি এটছে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোন অবস্থার পর্যায়ে আল বাইয়্যেনাত নামের এই গ্র“পটির কোন খোঁজ খবর আমাদের গোয়েন্দারা রাখতে পারেননি। জানি না সংস্থার হতে কি অজুহাত তৈরি। সাদা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরা প্রায় এক শ’ লোক আল বাইয়্যেনাতের স্লোগান দিতে দিতে বলাকার সামনে আসে। রাজারবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে এদের আগমন বলে জানা যায়। বরাবরই মাদ্রসার ছাত্রদের ব্যবহার করা হচ্ছে এসব অশুভ কাজে। বিমান বন্দরের সামনের লালন ভাস্কর্যের মত একই স্ট্রাইলে মতিঝিলের দিলকুশায় ১৯৮৯ সালের স্থাপিত বকের গলায় দড়ি বেঁধে টেনে ভাস্কার্যটি ভাঙ্গার চেস্টা করেছে হামলাকারীরা। পার্থক্য শুধু দিনের বেলা আর রাতের বেলা। যে ভাস্কর্যটি ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৮ সালের শুক্রবার রাত ৯ টা পর্যন্ত কারো কোন ক্ষতি করেনি সেই ‘বলাকা’ শনিবার রাতে এই মৌলবাদিদের কি এমন ক্ষতি করলো ছোট মাথায় বুঝে উঠতে পারছিনা।মার্কিন অর্থনীতিতে ধ্বংস,ভারতের অবস্থাও ভালো না,এমন বিশ্ব মন্দার মধ্যে বাংলাদেশর অরাজনৈতিক সরকারের হাতে দেশের অর্থনীতি যা আছে খুব বেশী রকমের খারাপ নয় বা দুর্ভিক্ষ লেগে যায়নি। কিন্তু উগ্রবাদীরা কি চাইছে ? ইসলামের নামে আল্লার হুকুমের দোহাই দিয়ে দেশের সব ভাস্কর্য ভেঙ্গে দিলে কি সব দায়িত্ব পালন হয়ে যাবে? অনাহারী মানুষগুলো কি খেতে পাবে? হানাহানী কি বন্ধ হবে? সাধারন ক্ষমা করতে কি শিখবো আমরা সবাই? যেমন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) চলার পথে নিয়মিত থাকা কাঁটা না পেয়ে বুড়ি অসুস্থ কিনা তার খোঁজ নিতে গেছেন সেভাবে কি হবে? তাহলে আমরাও বলবো চল সব ভাস্কর্য গুড়িয়ে দেই। সব দল মোটামুটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আর উগ্রবাদীরা কী তাই ব্যস্ত তাদের অবস্থান জানাতে। জেএমবির মতো কি বড় না হলে এদের দমন করা হবেনা ? না আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্র এদের সহজে পাত্তা দিতে নারাজ বলেই গোয়েন্দ বিভাগগুলোও খোঁজ খবর রাখেন না। স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমাদের মহারথিদের, মহারথিরা দয়া করে মনে রাখুন হামলাকারীরা যখন হামলা শুরু করে তখন তারা কাউকে রেখে কিন্তু মারে না,কারন আপনাদের সামান্য চাকুরীর ভয় আর তাদের আস্তো একটা জীবনের ভয়। আল্লাহর ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসর ছাত্রদের অতি সহজে ব্রেন ওয়াশ করে যাচ্ছে দেশের একাধিক সা¤প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্টি। এই গোষ্টি মুখে দাড়ি রেখে মাথায় টুপি দিয়ে মাদ্রসার ছাত্রদের খুব সহজে মোটিভেট করছে। এতে দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতিও একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এ যাবত কালের সেরা উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবি নিয়ে যখন প্রশাসনের চোখ কান খোলা (মার্কিনীদের মত যেখানেই হামলা হয় আমেরিকা প্রথমে খোঁজে আল কায়দা জড়িত আছে কিনা, আর বাংলাদেশের কোথাও কোন ছোট বড় বা মাঝাড়ি মানের ঘটনা ঘটলে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ব্যস্ত থাকে জেএমবির কানেকশন আছে কিনা?) তখন কিন্তু জেএমবি’র নাম ব্যবহার না করলেও যে অন্যান্য সম আদর্শের সংগঠনকে নজড়ে রাখা দরকার তা কি সংস্থাগুলো বেমালুম ভুলে থাকেন? এভাবে উদাসিন হলে জাতির কপালে কি আছে কে জানে। এক জেএমবি ছাড়া তো আরো অনেকে থাকতে পারে। ডেকান মুজাহিদ অখ্যাত হলেও তারা বুম্বাই হামলার দায় স্বীকার করেছে।হতে পরে বড় কোন সন্ত্রাসী গোষ্টি কৌশলগত কারনে এই নাম ব্যবহার করছে। তেমনি আমাদের রথি মহারথিদের সবার যখন জেএমবির দিকে চোখ তখন তারও তো কৌশল বদলাতে পারে। গোয়েন্দা বিভাগের কাছ থেকে জাতি আরো তৎপরতা আশা করে। #
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×