আজকে সকালে প্রথম আলো পত্রিকার একটা নিউজ পড়ে হতবাক হয়ে গেলাম। চতুর্থ শ্রেণীর একটা মেয়ে জবাই করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। না, ধর্ষন করে নয়; এমনিতেই- বিনা কারণে। মেয়েটার কোন অপরাধ ছিলো না। কোন একটা সালিস বিচারে মেয়েটির বাবা দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলো। সেই অপরাধে মেয়েটিকে জবাই করে ওরা।
আমাদের সমাজের মানুষগুলো কতটা নৃশংস হয়ে উঠেছে তা দেখে বড়ই দুঃখ লাগে মাঝে মাঝে। কিন্তু আজকে সারাদিনে এ সম্পর্কে ব্লগে কোন পোস্ট আমার চোখে পড়েনি। কেন পড়েনি? কারণ, এ সম্পর্কে ব্লগাররা উৎসাহিত নন। তাদের যত উৎসাহ সব রয়েছে ভারত আর ইসলামের ইস্যু যেখানে রয়েছে সেইখানে।
কিছুদিন আগেই ফেলানী নামক জনৈক মেয়ে বিএসএফ এর গুলিতে প্রাণ হারালো। হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাই। হেনা নামের একটা মেয়ে ফাতোয়ার কারণে মারা গেলো। কোন কোন পত্রিকা মূল ঘটনাকে ধর্ষন বলেছে। আবার কোন কোন পত্রিকা বলেছে যৌনাচার। ঘটনা যাই হোক না কেন, ধর্ষন বা যৌনাচার এবং ফাতোয়ার কারণে মৃত্যু। কোনটাই আমাদের কাম্য নয়।
কিন্তু, এই দুটি ঘটনা নিয়ে এবং এরকম আরো অসংখ্য ঘটনা- যেখানে ভারত কিংবা ধর্মীয় কোন ব্যাপার জড়িত আছে সেখানেই আছে কিছু ভারত-বন্ধু, পাদা, আর নাস্তিক। ফেলানীর ঘটনাকে পূঁজি করে ভারতে চৌদ্দগুষ্ঠি কেউ উদ্ধার করেছেন। আবার হেনার ঘটনাকে পুঁজি করে ধর্মের গুষ্ঠি উদ্ধারে কেউ তৎপর হয়েছেন।
কিন্তু এই যে একটা মেয়ে বিনা দোষে মারা গেল; কই কেউতো তার প্রতিবাদে কোন পোস্ট দিলো না!! কেন দিলো না, তা সহজেই অনুমেয়; এখানে ভারত কিংবা ধর্মকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলার নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মত তাদের কাছেও এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যেন, ধর্ম আর ভারত ছাড়া দেশের আর কোন সমস্যা নেই।
আসলে সমস্ত সমস্যা আমাদের নিজেদের ভিতরে। ধর্মের কোন দোষ নেই। ধর্ম তার নিজস্ব আইন নিয়ে বিদ্যমান। কিন্তু সেই আইনের স্বপ্রণোদিত পরিবর্তন ঘটিয়ে কেউ যদি তা প্রতিষ্ঠিত করে তাতে ধর্মের কী আসে যায়??
ভারতের বিরুদ্ধে আমরা ব্লগেই শুধু ফাল পাড়ি। বাস্তবে কিছু করতে পারি না কারণ আমরা নিজেদের দূর্বল করে রেখেছি। নিজেদের মনকে সংকীর্ণ করে রেখেছি। চতুর্থ শ্রেণীর একটা মেয়েকে জবাই করে হত্যা করাতে আমাদের মানবিকতায় আঘাত লাগে না। আমরা প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে পত্রিকার পাতা উলটে ফেলতে পারি। কিন্তু যেখানে ভারত অথবা ধর্মের ইস্যু আছে সেইখানে আমরা নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে তৎপর। মানবিকাতাতো আমাদের মধ্যেই নেই। কে বলেছে আমরা প্রগতিশীল? আমরাই রয়েছি গভীর অন্ধকারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




