আমার প্রিয় পোস্ট

©Jewel, All Rights Reserved.

ইয়াম ইয়াম চুইংগাম।

০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:১৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

মানুষ যেমন বিচিত্র ধরনের, রুচি যেমন তার বিচিত্র, তেমনি খাবারও আছে বিভিন্ন ধরনের। এর কোনটা চিবিয়ে গিলতে হয়। আবার কোনটা না চিবিয়ে গিলতে হয়। চিবিয়ে গিলে ফেলা হলো খাওয়া, না চিবিয়ে গিলে ফেলা হলো পান করা। কিন্তু যা মুখে নিয়ে আচ্ছাসে চিবানো হলো, কিন্তু সেটা না গিলে ফেলে দেওয়া হলো স্রেফ তার মজাটুকু নিয়ে এমন কি কোনো খাবার আছে?

আছে। অনেক আছে। কিন্তু এর মধ্যে কোনটা তোমাদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের। সবাই নিশ্চয়ই এক শব্দে উত্তর দেবে: চুইংগাম। হ্যাঁ, চুইংগাম আজ সারা বিশ্বের শিশু-কিশোরদের প্রিয় একটি খাবার। শুধু শিশু-কিশোরদের বলি কেন বয়স্করাও পিছিয়ে নেই চুইংগাম খাওয়ায়। দেখো না খেলার মাঠে ক্রিকেটাররা খেলতে খেলতেও কেমন চুইংগাম চিবোয়!

সবার প্রিয় চুইংগাম বর্তমানের রূপ পেতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সেটাও এক মজার গল্প। সেই গল্পই শুনি চলো।

কেমন করে কোথা থেকে এলো চুইংগাম
প্রাচীন গ্রীক জাতি ম্যাসটিক গাছ (mastic tree) এর আঁঠালো উপাদান (কষের মতো) ম্যাসটিচ (Mastiche) খুব পছন্দ করতো। সম্ভবত মানুষের ইতিহাসে সেটাই প্রথম চুইংগাম।

খ্রিস্ট্রিয় প্রথম শতাব্দিতে এক গ্রীক চিকিৎসক ও উদ্ভিদবিদ ম্যাসটিক গাছের আরোগ্য সহায়ক ক্ষমতা বর্ণনা করেন। তবে বর্তমানে কেবল গ্রিকরা নয় মধ্যপ্রাচ্যেও ম্যাসটিক গাছের রস ও মৌমাছির মোম একসাথে মিশিয়ে তৈরি চুইংগাম খাওয়ার ব্যাপক চল রয়েছে।

গ্রিক ভাষায় ম্যাসটিচ শব্দের অর্থ হলো ‘চিবানো’।

এদিকে মধ্য আমেরিকান মায়া জাতির মধ্যেও চুইংগাম চিবানোর প্রথা প্রচলিত ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, তারা স্যাপোডিলা (Sapodilla) গাছের রস থেকে তৈরি চুইংগাম চিবাতো। অবশ্য তাদের ভাষায় এটার নাম ছিলো ‘চিকল’ (Chickle)। একসময় এই শিকল চিবানো তাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে যায়।

৮০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মায়া সভ্যতার উপাসনালয়, নির্মিত রাস্তা, ক্যালেন্ডার, বিশাল বিশাল শহরগুলো অজ্ঞাত কারণে ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও উনবিংশ শতাব্দি পর্যন্ত মায়া জাতির উত্তরসূরিদের মধ্যে একমাত্র ঐতিহ্য হিসেবে এই চুইংগাম খাওয়ার প্রবণতা টিকে ছিলো।

নিউ ইংল্যান্ডে বসবাসকারী আমেরিকান ইনডিয়ানরা স্প্রুস (Spruce) গাছের রস থেকে তৈরি চুইংগাম খেত। আমেরিকার জন্মলগ্ন থেকেই চুইংগাম চিবানোর প্রথা বৃদ্ধি পেতে থাকে। উনবিংশ শতকের শুরু পর্যন্ত স্প্রুসগাম-ই ছিল প্রথম গাম প্রডাক্ট যা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হতো।

এরপর স্প্রুসগামের স্থান দখল করে প্যারফিন মোম গাম। প্যারফিন মোম গাম মুখের উষ্ণতা ও আর্দ্রতাকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করে। একে চিবানোর ক্ষেত্রে মানানসই করে বলেই অন্যান্য গামের পরিবর্তে এ গামই বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানেও মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত প্যারাফিন মোম চুইংগাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমান সময়ের চুইংগামের ব্যবহার শুরু হয় ১৮৬৯ সালে। মেক্সিকান জেনারেল অ্যান্তেনিও লোপেজ ও ডি সান্তা আনরা রাবারের বিকল্প খুঁজছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন চিকল হতে পারে রাবার-এর বিকল্প।। তাই এ বিষয়ে তিনি আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস এডামস এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু এডামস দেখেন যে চিকল রবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়। তাহলে? চিকল রাবারের বিকল্প না হোক অন্য কাজে কি একে ব্যবহার করা যায় না? এডামস সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেন অচিরেই।

একদিন এডামস এক মেয়েকে প্যারাফিন বেইজড গাম চিবাতে দেখেন। তখনই তার মাথায় আসে যে চিকল হতে গাম উৎপন্ন করা যায়। এরপর চিকল হতে গাম উৎপন্ন শুরু হয়। পরে বানিজ্যিকভাবে চুইংগাম তৈরি করতে এই চিকল ব্যবহার শুরু হয়।

সুতরাং বুঝতেই পারছো, বর্তমানের চুইংগাম আসলে মায়া জাতির সেই চিকল চিবানোর কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাই অন্য কথায় বলা যায়, চুইংগাম মায়া জাতির চিকলের পুনঃআবিষ্কার।

হরেক রকম চুইংগাম
চুইংগাম বানিজ্যিকভাবে উৎপাদনের পর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানান রকম ও নানা স্বাদের চুইংগাম তৈরি করতে শুরু করে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হচ্ছে-