শিরোনামটি আমি ধার করেছি।এ শিরোনামটি প্রয়াত একজন জনপ্রিয় লেখকের একটি বইয়ের নাম ছিল।আমার পছন্দের একজন লেখক।আজ থেকে বছর কয়েক আগে তিনি এই নামে একটি বই লিখেছিলেন।নিজের উপলব্ধি আর স্বচোক্ষে অবলোকনে যে টুকু ধরা পড়েছে তাই তিনি এ বইতে তুলে ধরেছেন।তখনকার পরিস্থিতিতে তিনি এবইটি লিখতে বাধ্য হয়েছেন।বছরের ব্যবধান বেশ না হলেও আশানুরুপ পরিবর্তন আমাদের আজো অদেখাই রয়ে গেল।আমরা এখনো সেই জায়গাতেই পড়ে রয়েছি।এখনো আমাদের রাজনীতির মাঠ স্থিতিশীল হয়নি,তখনকার মত অস্থিতিশীলই রয়ে গেল।দুর্নীতির মেধাতালিকা থেকে আমরা এখনো ছিটকে পড়তে পারিনি।সময়ের ব্যবধান আর বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বটে তবে তা স্বাভাবিক-ই বলা চলে।বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে বহির্বিশ্বের সাথে কাধ মিলিয়ে যে তালে এগিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল আমরা তা আগেও পারিনি এখনো পারছিনা।আমাদের অসুস্থ রাজনীতি আর লোক দেখানো দেশপ্রেম আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে।আমরা একমতে একীভুত হতে পারছিনা।সেই ৫২ আর ৭১ ছাড়া আমরা আর কখনো কোন স্বিদ্ধান্তে একীভুত হতে পারেনি।সব ভেদাভেদ ভুলে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য আমরা ৫২ তে মিলিত হয়েছি,দেশের স্বাধীনতার জন্য আবার ৭১ এ একীভুত হয়েছি,রক্ত দিয়েছি এবং আমরা সফলও হয়েছি।কিন্তু কেন আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আবার একীভুত হয়ে এ স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনি(পারছিনা)।পারিনি কারন আমরা একীভুত হতে পারেনি।স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসে আমরা সামাজিকতা ভুলে গিয়েছি,দেশের প্রতি মমত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছি,অসাম্প্রদায়িকতা আমরা হারিয়ে ফেলেছি,এ দেশটা আমাদের, আমরা সকলে যেমন এক হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে নেমেছিলাম,স্বাধীনতা অর্জনের পর তা রক্ষার জন্য এক হয়ে চেষ্টা করিনি,আমরা সব ভুলে গিয়েছি।
আমরা কেবল রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করতে জানি।কিন্তু নিজেরা কতখানি পরিবর্ত্ন হয়েছি মনচক্ষু দিয়ে তা একবারও অবলোকন করি না,করার প্রয়োজনও মনে করছিনা।প্রকৃতপক্ষে কারো উপর দোষ বর্তাবার আগে নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখতে হয়।আমরা নিজেরা আদৌ পরিশুদ্ধ নই।সরকারতো নির্বাচন হয় আমাদের দ্বারা।তারা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বসে কল কাঠি নাড়েন।আমরা অঝোপাড়া গায়ে বাস করে কে কী খাচ্ছি?কীভাবে চলছি? তা তারা জানে না,জানার চেষ্টাও করেনা।একটা সমাজকে সুন্দর করে রাখতে পারে সে সমাজের জনগন,তাদের চলাফেরা আর সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে।অথচ আজ আমাদের প্রত্যেকটি সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে।হিংসা আর ভেদাভেদ প্রধান উপকরন হয়ে অস্থিরতা চড়াচ্ছে।আর চড়াচ্ছি আমরাই।নিজেদের ভিতরকার পরিবর্তন অতীবও জরুরী হয়ে পড়েছে।আমরা যদি প্রত্যেকে বদলাতে পারি তবে সমাজ বদলাবে আর সমাজ বদলালে দেশ বদলাবে।আমরা তখন আবার একীভুত হয়ে উঠবো।আর আমাদের পরিবর্তনটাই আমাদের বলে দিবে আমাদের ভবিষ্যতে করনীয় কী?সুন্দর বাংলাদেশের জন্য নেতৃতে কাকে প্রয়োজন?আমাদের সমাজটা সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের কর্মকান্ড দ্বারাই,এতে অন্ততপক্ষে সমাজে/দেশে শান্তির ছায়া ফিরে আসবে-উপরে বসে উনারা যতই কল কাঠি নাড়ান।
আমি জানি বর্তমানে এমন সভ্যতার তৈরী করা আমাদের জন্য বড় কঠিন কাজ।কিন্তু এ ছাড়া আর যে কোন পথ নেই উত্তোরনের।রবি ঠাকুরের মত-‘কঠিনেরে বাসিলাম ভালো’।সতাতায় বেচে থাকা যদি কঠিন কাজ হয়,আমাদেরও এখন কঠিনকে ভালোবাসতে হবে।সততায় বাচতে হলে অনেক আঘাত সহ্য করে থাকতে হবে।নিরবে সয়ে যেতে হবে সব আঘাত আর আঘাত থেকেই সঞ্চয় করতে হবে বেচে থাকার অদম্য শক্তি।যদিও আমাদের বর্তমান তরুন প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন।আমি আমাদের তরুন প্রজন্মের চোখে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি।আঘাত সহ্য করতে তারা রাজি নয়।তারা আঘাত করতে আগ্রহী।তাদের রক্ত টগবগ করছে।এ আঘাত নির্যাতনের আঘাত নয়।অন্যায়ের বিরুদ্ধে,নতুন দেশ গড়ার পক্ষে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে তাদের এ আঘাত।এ আঘাত হবে মস্তিষ্ক আর সচেতন কর্মের সমন্বয়ে, কোন ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে নয়।অপশক্তি আঘাত করবে সততার উপর আর সততা দিয়ে তাদের তারও বেশি জোরে আঘাত করতে হবে অপশক্তির উপর।যুদ্ধ জয়ের নতুন গল্প তারাই বুনবে।তোমরা একীভুত হও, আমাদের স্বাধীনতা এখনো তলিয়ে যায়নি,একে রক্ষা করা এখনো সম্ভব।বিশ্ব যে এখনো অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে নতুন বাংলাদেশের চেহারা দেখার অপেক্ষায়।আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারি আর না পারি,বিশ্ব যেন এক নিমিষেই বলতে পারে-“ ‘বাংলাদেশ’ একটা শান্তিময় দেশ।ছোট্ট এ দেশের মানুষেরা কী সুন্দরভাবে বাস করছে।যদি এ দেশে একবার যেতে পারতাম!”যেমনটা এখন আমরা কল্পনা করি সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে।
শিরোনামটি যেখান থেকে ধার করেছি সে বইয়ে লেখক নিঃশব্দে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের দেহ ও হৃদয়ের অপার বেদনার প্রকাশের মধ্য দিয়ে।বইটির শেষ পাতাটি তিনি এমন ভাবে লিখেছেন যে এ পাতাটিই পুরো বইটি তুলে ধরেছে।পুরোপাতাটি এখানে তুলে ধরা সম্ভব নয়।অনেক অপকর্মের বর্ননা দিয়ে পরিশেষে লিখেছেন-
‘………
এই আমাদের বাংলাদেশ,এই আমাদের সোনার বাংলা।
কিন্তু আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
এমন দুঃস্থ,দুর্নীতিকবলিত,মানুষের অধিকারহীন,পংকিল,বিপদসংকুল,সন্ত্রাসীশাসিত,অতীতমুখি,প্রতিক্রিয়াশীল,ধর্মান্ধ,সৃষ্টিশীলতাহীন,বর্বর,স্বৈরাচারী বাংলাদেশ,যেখানে প্রতিমুহুর্তে দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়? ’
কিন্তু আর কত????এমন করে কী কালে কালে লেখকেরা বেদনাহত হয়ে শুধু লিখেই যাবেন-আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
এর উত্তর শুধু তরুন প্রজন্মের কাছেই জানা।কেননা তাদের কর্মকান্ডই আগামীর বাংলাদেশের চেহারা বহন করবে।
‘যদি ধ্বংস করতে চাও এখুনি করে দাও,আমি ধ্বংসলীলা দেখে ধুকে ধুকে মরবো আর যদি সৃষ্টি করতে চাও তবে এখুনি সংকল্পবদ্ধ হয়ে শুরু করো আমি যেন সৃষ্টির ঝংকার শুনতে শুনতে মরতে পারি।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



