somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম??

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরোনামটি আমি ধার করেছি।এ শিরোনামটি প্রয়াত একজন জনপ্রিয় লেখকের একটি বইয়ের নাম ছিল।আমার পছন্দের একজন লেখক।আজ থেকে বছর কয়েক আগে তিনি এই নামে একটি বই লিখেছিলেন।নিজের উপলব্ধি আর স্বচোক্ষে অবলোকনে যে টুকু ধরা পড়েছে তাই তিনি এ বইতে তুলে ধরেছেন।তখনকার পরিস্থিতিতে তিনি এবইটি লিখতে বাধ্য হয়েছেন।বছরের ব্যবধান বেশ না হলেও আশানুরুপ পরিবর্তন আমাদের আজো অদেখাই রয়ে গেল।আমরা এখনো সেই জায়গাতেই পড়ে রয়েছি।এখনো আমাদের রাজনীতির মাঠ স্থিতিশীল হয়নি,তখনকার মত অস্থিতিশীলই রয়ে গেল।দুর্নীতির মেধাতালিকা থেকে আমরা এখনো ছিটকে পড়তে পারিনি।সময়ের ব্যবধান আর বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বটে তবে তা স্বাভাবিক-ই বলা চলে।বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে বহির্বিশ্বের সাথে কাধ মিলিয়ে যে তালে এগিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল আমরা তা আগেও পারিনি এখনো পারছিনা।আমাদের অসুস্থ রাজনীতি আর লোক দেখানো দেশপ্রেম আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে।আমরা একমতে একীভুত হতে পারছিনা।সেই ৫২ আর ৭১ ছাড়া আমরা আর কখনো কোন স্বিদ্ধান্তে একীভুত হতে পারেনি।সব ভেদাভেদ ভুলে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য আমরা ৫২ তে মিলিত হয়েছি,দেশের স্বাধীনতার জন্য আবার ৭১ এ একীভুত হয়েছি,রক্ত দিয়েছি এবং আমরা সফলও হয়েছি।কিন্তু কেন আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আবার একীভুত হয়ে এ স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনি(পারছিনা)।পারিনি কারন আমরা একীভুত হতে পারেনি।স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসে আমরা সামাজিকতা ভুলে গিয়েছি,দেশের প্রতি মমত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছি,অসাম্প্রদায়িকতা আমরা হারিয়ে ফেলেছি,এ দেশটা আমাদের, আমরা সকলে যেমন এক হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে নেমেছিলাম,স্বাধীনতা অর্জনের পর তা রক্ষার জন্য এক হয়ে চেষ্টা করিনি,আমরা সব ভুলে গিয়েছি।
আমরা কেবল রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করতে জানি।কিন্তু নিজেরা কতখানি পরিবর্ত্ন হয়েছি মনচক্ষু দিয়ে তা একবারও অবলোকন করি না,করার প্রয়োজনও মনে করছিনা।প্রকৃতপক্ষে কারো উপর দোষ বর্তাবার আগে নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখতে হয়।আমরা নিজেরা আদৌ পরিশুদ্ধ নই।সরকারতো নির্বাচন হয় আমাদের দ্বারা।তারা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বসে কল কাঠি নাড়েন।আমরা অঝোপাড়া গায়ে বাস করে কে কী খাচ্ছি?কীভাবে চলছি? তা তারা জানে না,জানার চেষ্টাও করেনা।একটা সমাজকে সুন্দর করে রাখতে পারে সে সমাজের জনগন,তাদের চলাফেরা আর সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে।অথচ আজ আমাদের প্রত্যেকটি সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে।হিংসা আর ভেদাভেদ প্রধান উপকরন হয়ে অস্থিরতা চড়াচ্ছে।আর চড়াচ্ছি আমরাই।নিজেদের ভিতরকার পরিবর্তন অতীবও জরুরী হয়ে পড়েছে।আমরা যদি প্রত্যেকে বদলাতে পারি তবে সমাজ বদলাবে আর সমাজ বদলালে দেশ বদলাবে।আমরা তখন আবার একীভুত হয়ে উঠবো।আর আমাদের পরিবর্তনটাই আমাদের বলে দিবে আমাদের ভবিষ্যতে করনীয় কী?সুন্দর বাংলাদেশের জন্য নেতৃতে কাকে প্রয়োজন?আমাদের সমাজটা সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের কর্মকান্ড দ্বারাই,এতে অন্ততপক্ষে সমাজে/দেশে শান্তির ছায়া ফিরে আসবে-উপরে বসে উনারা যতই কল কাঠি নাড়ান।
আমি জানি বর্তমানে এমন সভ্যতার তৈরী করা আমাদের জন্য বড় কঠিন কাজ।কিন্তু এ ছাড়া আর যে কোন পথ নেই উত্তোরনের।রবি ঠাকুরের মত-‘কঠিনেরে বাসিলাম ভালো’।সতাতায় বেচে থাকা যদি কঠিন কাজ হয়,আমাদেরও এখন কঠিনকে ভালোবাসতে হবে।সততায় বাচতে হলে অনেক আঘাত সহ্য করে থাকতে হবে।নিরবে সয়ে যেতে হবে সব আঘাত আর আঘাত থেকেই সঞ্চয় করতে হবে বেচে থাকার অদম্য শক্তি।যদিও আমাদের বর্তমান তরুন প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন।আমি আমাদের তরুন প্রজন্মের চোখে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি।আঘাত সহ্য করতে তারা রাজি নয়।তারা আঘাত করতে আগ্রহী।তাদের রক্ত টগবগ করছে।এ আঘাত নির্যাতনের আঘাত নয়।অন্যায়ের বিরুদ্ধে,নতুন দেশ গড়ার পক্ষে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে তাদের এ আঘাত।এ আঘাত হবে মস্তিষ্ক আর সচেতন কর্মের সমন্বয়ে, কোন ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে নয়।অপশক্তি আঘাত করবে সততার উপর আর সততা দিয়ে তাদের তারও বেশি জোরে আঘাত করতে হবে অপশক্তির উপর।যুদ্ধ জয়ের নতুন গল্প তারাই বুনবে।তোমরা একীভুত হও, আমাদের স্বাধীনতা এখনো তলিয়ে যায়নি,একে রক্ষা করা এখনো সম্ভব।বিশ্ব যে এখনো অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে নতুন বাংলাদেশের চেহারা দেখার অপেক্ষায়।আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারি আর না পারি,বিশ্ব যেন এক নিমিষেই বলতে পারে-“ ‘বাংলাদেশ’ একটা শান্তিময় দেশ।ছোট্ট এ দেশের মানুষেরা কী সুন্দরভাবে বাস করছে।যদি এ দেশে একবার যেতে পারতাম!”যেমনটা এখন আমরা কল্পনা করি সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে।
শিরোনামটি যেখান থেকে ধার করেছি সে বইয়ে লেখক নিঃশব্দে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের দেহ ও হৃদয়ের অপার বেদনার প্রকাশের মধ্য দিয়ে।বইটির শেষ পাতাটি তিনি এমন ভাবে লিখেছেন যে এ পাতাটিই পুরো বইটি তুলে ধরেছে।পুরোপাতাটি এখানে তুলে ধরা সম্ভব নয়।অনেক অপকর্মের বর্ননা দিয়ে পরিশেষে লিখেছেন-
‘………
এই আমাদের বাংলাদেশ,এই আমাদের সোনার বাংলা।
কিন্তু আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
এমন দুঃস্থ,দুর্নীতিকবলিত,মানুষের অধিকারহীন,পংকিল,বিপদসংকুল,সন্ত্রাসীশাসিত,অতীতমুখি,প্রতিক্রিয়াশীল,ধর্মান্ধ,সৃষ্টিশীলতাহীন,বর্বর,স্বৈরাচারী বাংলাদেশ,যেখানে প্রতিমুহুর্তে দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়? ’
কিন্তু আর কত????এমন করে কী কালে কালে লেখকেরা বেদনাহত হয়ে শুধু লিখেই যাবেন-আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
এর উত্তর শুধু তরুন প্রজন্মের কাছেই জানা।কেননা তাদের কর্মকান্ডই আগামীর বাংলাদেশের চেহারা বহন করবে।
‘যদি ধ্বংস করতে চাও এখুনি করে দাও,আমি ধ্বংসলীলা দেখে ধুকে ধুকে মরবো আর যদি সৃষ্টি করতে চাও তবে এখুনি সংকল্পবদ্ধ হয়ে শুরু করো আমি যেন সৃষ্টির ঝংকার শুনতে শুনতে মরতে পারি।’

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×