ব্যস্ততার ফিরিস্তি দিয়ে পাঠকের মনে বিরক্তির উদ্রেক করার ইচ্ছে নেই। তবু ইদানিং যে খানিকটা ব্যস্ত থাকি তাও সত্য। সেই ব্যস্ততার মাঝে বই পড়ার বদ অভ্যাসটা কিছুতেই ছোটাতে পারিনি। একটা সময় ছিল সুনীল, শংকর, সমরেশ-এর বই গোগ্রাসে গিলেছি। পাঠক হিসেবে যেহেতু আমি আরশোলা গোত্রীয় সেহেতু পাঠের তালিকায় মোটামুটি অনেকেই থাকেন, এমনকি মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দাও বাদ পরেনা।
ইদানীং মুগ্ধ বিষ্ময়ে পড়ছি ইয়স্তেন গার্ডারের কিছু উপন্যাস। আইজাক অসিমভের অমর সৃষ্টি ফাউন্ডেশন সিরিজ শেষ করে বই হাতরাতে হাতরাতে পেয়ে যাই তাশ রহস্য; এক ছোট বালক কি করে তার হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজে পেল যে ছোটবেলায় ফ্যাশন রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছিল তার গল্প। বাবা আর ছেলের পথচলায় ছেলেটা একটা আঁতস কাচ, একটা রুটির ভেতর ছোট একটা বই খুঁজে পায়। বলা ভাল নিয়তি ছেলেটিকে রুটিওয়ালা আর বামনের হাতধরে এক অজানা কাহিনীকে তুলে ধরে ছেলেটির সামনে। অনেকটা রুপকথার গল্পের মত এগিয়ে চলে কাহিনী।
তাশ রহস্যের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে এর বিভিন্ন সংলাপ। ছেলে আর বাবার কথোপকথনে উঠে এসেছে জীবন সম্পর্কে অসাধারণ কিছু দার্শনিক উক্তি।
তাশ রহস্য শেষে পড়া শুরু করি "লাল সালু" উপন্যাস খ্যাত লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ-র কাঁদো নদী কাঁদো। কাঁদো নদী কাঁদো আমাদের গ্রাম বাংলার গল্প, একটি নদীর গল্প, একটি স্টিমার ঘাটের গল্প, তবারক মিয়া অথবা মুহাম্মদ মুস্তফা-র গল্প, চিরায়ত জীবনের আখ্যান। তবে এখানেও আছে গভীর জীবন দর্শনের কথা।
যাহোক, তাশ রহস্য শেষ করে কাঁদো নদী কাঁদো পাঠের পিছনে মুল কারণ ছিল আমার নিজের "পকেট রহস্য"। বিশেষ কারণে টানাটানির ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম বলে গার্ডারের সোফির জগত আর মায়া বই দু'টো কিনতে একটু বিলম্ব হয়েছে। এখন পড়ছি মায়া। মায়া একটি প্রেম কাহিনী। কিন্তু এই প্রেম কাহিনী খুব সহজ-সরল নয়। গল্পের বুনটে আছে গভীর জীবন বোধের কথা, আছে রহস্য, প্রাণের উদ্ভাবন সংক্রান্ত দর্শন।
সব মিলিয়ে গার্ডারে মুগ্ধ হয়ে আছি আকন্ঠ। সময় সুযোগ থাকলে বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। পাবেন আজিজ সুপার মার্কেটের সন্দেশে।
ফুটনোটঃ
---------------------------------------------------------------------
নরওয়ের লেখক ইয়স্তেন গার্ডার ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি দর্শনের একজন শিক্ষক হলেও বর্তমানে পুরোদস্তুর লেখক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


