সাইবার ক্রাইম, সাইবার আইন, ব্লগ আইন বিষয়গুলো নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। অথচ আদতে জল এতখানি ঘোলা হওয়ার কথা ছিলনা, উচিতও ছিলনা। ৩য় বাংলা ব্লগ দিবসের মুল প্রতিপাদ্যটি ছিল সহজবোধ্য ও সময়োপযোগী। প্রতিপাদ্য বিষয়টিতে স্পষ্টতই সাইবার ক্রাইম ও তার সাথে সাথে সেই ক্রাইম রোধে সাইবার আইনের বিষয়টি ছিল মুল আলোচ্য। অথচ আমরা মুলভাবটিকে এড়িয়ে গিয়ে সেটিকে ব্লগ আইন এবং ব্লগে মুক্তমত প্রকাশে একটি মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
আসুন দেখা যাক ৩য় বাংলা ব্লগ দিবসে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত লেখাটিতে কি ছিলঃ
"সাইবার পরিসরের অবাধ স্বাধীনতার সুযোগে ব্লগের অপব্যবহার এবং সাইবার অপরাধের পরিমাণও লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অপরাধসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—(১) অর্থনৈতিক: সংস্থা/ব্যক্তির অর্থনৈতিক তথ্য/অর্থ চুরি; (২) প্রযুক্তিগত: কোড, কপিরাইট ছিনতাই, হ্যাকিং ও প্রযুক্তিগত ভৌত ও অভৌত স্থাপনার ক্ষতিসাধন; এবং (৩) সামাজিক: হুমকি, যৌন নির্যাতন ও অবমাননা। সামাজিক অপরাধসমূহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে অহরহ সংঘটিত হচ্ছে। ওয়েবে মৃত্যুর হুমকি; যৌন হয়রানি এবং ছবি ও পরিচয় পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহার, প্রোফাইল ও কপিরাইট হ্যাকিং, ব্লগারদের মানবীয় অনুভূতির সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা, ই-মেইল অ্যাড্রেস স্প্যামারকে প্রদান, পাইরেসি, সংবিধানের অবমাননা, সাম্প্রদায়িক নিগ্রহ ইত্যাদি সংগঠিত হলে বাস্তব জীবনের মতোই মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব অপরাধ দমনের জন্য আইন প্রণেতাদের এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একযোগে গবেষণা পরিচালনা করে প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জাতীয় উন্নয়নের পরিবর্তে বাধাগ্রস্ত করবে তথ্যপ্রযুক্তি প্রসার তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বাস্তবতা।"
স্পষ্টতই এখানে পুরো সাইবার পরিসরকেই বোঝানো হয়েছে যার ভেতর যেমন কমিউনিটি ব্লগ পরে, তেমনি ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগস্পট, আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট যেকোন সেবাদান কারী প্রতিষ্ঠান পরবে।
এখানে বলে রাখা ভালো বিভিন্ন কারণে আমাদের ভয় হয় ভবিষ্যতে সাইবার আইনের জন্য প্রযোজ্য যে আইনটি বর্তমান আছে সেটির ৫৭ ধারা সরকার তার প্রয়োজনে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, রিভিউ করতে পারে। সেই প্রক্রিয়াটি যেন সাইবার পরিসরে বিচরণ করেন না, ইন্টারনেটে ইমেইল খোলা ও ইমেইল চেক করতে জানেন না, পেপাল কি বস্তু বোঝেন না, ব্লগ আর পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের মধ্যে পার্থক্য কি বোঝেননা এমন ব্যক্তিবর্গের দ্বারা না হয়, যেন সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিত্ব থাকে তা নিশ্চিৎ হয় এটিই ছিল মুল বক্তব্য।
এ কথা বাংলা কমিউনিটি ব্লগের ছয় বৎসর পার হয়ে যাবার পরে নিশ্চিৎভাবেই বলা যেতে পারে সাইবার পরিসরে ব্লগারদের জ্ঞ্যান তথাকথিত নীতিনির্ধারকদের চেয়ে কম নয়, বরং অনেক বেশি। তাই আমরা মনে করি সরকার যদি এরুপ কোন চিন্তা ভাবনা করেন তবে অবশ্যই আলোচনায় ব্লগারদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করবেন।
আর কমিউনিটি ব্লগ তার স্ব-স্ব নীতিমালা দিয়েই চলতে পারে, সেখানে সরকারী খবরদারির কোন প্রয়োজন দেখিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


