বঙ্গবন্ধুকে হত্যা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিতে চায়নি বরগুনা,
কিশোরগঞ্জ ও খুলনার মানুষ
শেখ মাসুদ ইকবাল ও আক্তার জাহান জলি:
আমাদের সময় (১৬/০৮/২০০৯- প্রথম পৃস্ঠা)
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে হতভম্ব কিংকর্তব্যবিমূঢ় বাঙালির শোকের নীরবতা ভেঙে দেশের কয়েক জায়গায় প্রতিবাদের বজ্রমুষ্টি উঁচিয়ে ধরেছিলেন কিছু অকুতোভয় মানুষ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকে একেবারে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিতে চাননি বরগুনা, কিশোরগঞ্জ আর খুলনার দৌলতপুরের সেই সময়ের এক ঝাঁক তরুণ। সেই পরম্পরায় নভেম্বরে এসে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিলে রাজধানীতেও।
গতকাল দেশ টিভির খবরে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবরে সেই সকালেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে দক্ষিণের জেলা বরগুনার মানুষ। সামরিক ফরমান, মেজর ডালিমের সেই কর্কশ ঘোষণা আর নতুন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা গ্রহণ কোনো কিছুই মেনে নিতে পারেনি বরগুনাবাসী। শুধু মিছিল মিটিং নয়, অবৈধ কেন্দ্রীয় শাসনকে তোয়াক্কা না করে অস্ত্র হাতে কয়েকদিন বরগুনা শহর দখলে রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা। আর সেইসব বিক্ষোভ প্রতিবাদের নেতৃত্বে ছিলেন তখনকার বরগুনার মহকুমা প্রশাসক সিরাজ উদ্দিন। তারা সেখানে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সিরাজ উদ্দিন তার বাসায় শোকসভা এবং মিলাদ মাহফিল করেন।
১৫ আগস্ট প্রত্যুষে মেজর ডালিমের অনভিপ্রেত এক বেতার ঘোষণার পরপরই কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডের রংমহল সিনেমা হল সংলগ্ন ছাত্র ইউনিয়ন কার্যালয়ে সমবেত হন তৎকালীন সিপিবি, ন্যাপ ও গণতন্ত্রী পার্টির নেতাকর্মীরা। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও সামরিক শাসন জারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রস্তাব নিয়ে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে তারা বাকশাল নেতাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বাকশাল নেতাদের মধ্যে ২/৩ জন ঢাকায় অবস্থান করলেও অন্যরা ছিলেন কিশোরগঞ্জে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার সাড়া না পেয়ে ফিরে আসেন ছাত্র ইউনিয়ন অফিসে। তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা ‘মেজর ডালিমের ঘোষণা মানি না মানব না, মুজিব হত্যার পরিণাম বাংলা হবে ভিয়েতনাম, সামরিক আইন তুলে নাও, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের ছাত্র ইউনিয়নের অফিসে গিয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। ওই মিছিলে ছিলেন কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও গণতন্ত্রী পার্টি নেতা অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, সিপিবির সাবেক সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ গোলাম হায়দার চৌধুরী, বীমা কর্মকর্তা সেকান্দর আলী ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান মুক্ত, অলক ভৌমিক, আকবর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সরকার, প্রফেসর ড. হালিম দাদ খান রেজওয়ান, নূরুল হোসেন সবুজ, এনামুল হক ইদ্রিছ, পিযুষ কান্তি সরকার, রফিক উদ্দিন পনির, অরুন কুমার রাউত, আব্দুল আহাদ, নির্মলেন্দু চক্রবর্ত্তী, আলী আকবর স্বপন, সৈয়দ লিয়াকত আলী বুলবুল ও বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক ছাড়াও নাম না জানা বেশ কিছু পথচারী। সম্পাদনা: শাহজাহান কমর

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



