নুরুজ্জামান মানিক
আমাদের উদাসিনতায় জামাত-শিবির মজবুত অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে । বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির এখন বার্ষিক নীট মুনাফা আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা। এ মুনাফার সর্বোস্ত ২৭% আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে আছে ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি ইত্যাদি; দ্বিতীয় সর্বোস্ত ২০.৮% আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে; বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৮%; ঔষধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৪%; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ৯.২%; রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে আসে ৮.৩%, যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৫%; আর সংবাদ মাধ্যম ও তথ্য প্রযু্িক্ত থেকে আসে ৫.৮% ।বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতি যদি বছরে ১২০০ কোটি টাকা নীট মুনাফা সৃষ্টি করে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ মাত্রা যা মৌলবাদের অর্থনীতির শক্তি-মাত্রা নির্দেশ করে- হবে নিম্নরূপ:
(১)দেশের মোট বার্ষিক জাতীয় বিনিয়োগের (চলতি মূল্যে) ১.৫৩% এর সমপরিমাণ,
(২) দেশের মোট বার্ষিক বেসরকারি বিনিয়োগের ২.১% এর সমপরিমাণ,
(৩) সরকারের মোট বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ৩.৩%এর সমপরিমাণ, (৪) দেশের বার্ষিক রপ্তানী আয়ের ৩.৭% এর সমপরিমাণ,
(৫) সরকারের মোট বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ৬% এর সমপরিমাণ,
(৬) সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের অভ্যন্তরীণ সম্পদের ১২% এর সমপরিমাণ।
সেই সাথে বিকাশ-বিস্তৃতির সম্ভাবনা নির্দেশে আরো গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে যেহেতু মৌলবাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (বার্ষিক গড়ে ৭.৫% থেকে ৯%) মূল ধারার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (বার্ষিক গড়ে ৪.৫% থেকে ৫%)-এর তুলনায় অধিক সেহেতু অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে- অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের খুব একটা অবকাশ নেই। অর্থাৎ প্রবণতাটা এমন যে মূলধারার অর্থনীতির মধ্যে মৌলবাদের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে বেশি জায়গা দখল করতে পারে। ফলে রাষ্ট্রের মধ্যে তাদের অংশ আর সরকারের মধ্যে তাদের অংশ বৃদ্ধিতে মৌলবাদী অর্থনীতি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিস্তারিত জানতে পড়ু্ন-অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আবুল বারাকতের প্রবন্ধ পড়ু্ন "মৌলবাদের রাজনৈতিক - অর্থনীতি"
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



