আমার প্রিয় পোস্ট

১৯৭১: জামাত নেতা কামারুজ্জামানের নির্দেশে চলে পাশবিক নির্যাতন

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫২

শেয়ারঃ
0 0 0

Click This Link
ডিসেম্বর ২৩, ২০০৯, বুধবার : পৌষ ৯, ১৪১৬


দুলাল হোসাইন, জামালপুর থেকে :

রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও নিরাপত্তা পেলে পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর যুদ্ধাপরাধী জামালপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা আল-বদর কমান্ডার জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের বিচারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে চান পাকিস্তান গ্যারিসনে সারেন্ডার লেটার বহনকারী ১১ সেক্টরের সাহসী মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী বীরপ্রতীক (বার)। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হলে দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প শুনাতে হবে। আর দেশের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন
প্রতিটি স্কুল-কলেজ তাদের নামানুসারে নামকরণেরও দাবি জানান তিনি।


একাত্তরের উত্তর রণাঙ্গনে পাকিস্তানি হানাদারদের সব চেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি জামালপুরকে মুক্ত করতে মরণপণ লড়াই করেন ১১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। দীর্ঘ ৯ মাস দফায় দফায় সম্মুখ যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর শক্তিশালী কামালপুর ঘাঁটির পতন ঘটান ১১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কামালপুর মুক্ত হওয়ার ৫ দিনের মাথায় জামালপুরে পাকিস্তান বাহিনীর ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টার চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী। ৯ ডিসেম্বর ফ্যাস্ট মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এইচ এস ক্লে স্বাক্ষরিত একটি সারেন্ডার লেটার দিয়ে জহুরুল হক মুন্সীকে পাঠানো হয় জামালপুর পাকিস্তান গ্যারিসনে।

সাদা পতাকা নিয়ে বাইসাইকেলযোগে তিনি সন্ধ্যায় পৌঁছে যান জামালপুর শহরের পিটিআইয়ে অবস্থিত পাকিস্তান গ্যারিসনে। সেখানে পৌঁছার পর তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে পাকিস্তান হানাদাররা। পরে তাকে জিপের চাকায় বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সুলতান মাহমুদের কাছে। সেখানে জামালপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার (বর্তমানে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি) কামারুজ্জামানের নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে তার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে তার দাঁত ভেঙে দেয়া হয়। এরপর বেনয়য়েট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারাত্মক আহত করে সিলিংয়ে পা বেঁধে ৪ ঘণ্টা ঝুঁলিয়ে রাখে পাকিস্তান বাহিনী। রাতে তার কানে একটি বুলেট বেঁধে সারেন্ডারের পরিবর্তে যুদ্ধ ঘোষাণার চিরকুট দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় তাকে। এরপর শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। স্থলপথের পাশাপাশি আকাশ পথে চলে ভারতীয় বোমারু বিমানের হামলা। ভারতীয় বোমারু বিমান থেকে হাজার পাউন্ড ওজনের ২টি বোমা নিক্ষেপ করা হয় ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের হেডকোয়ার্টারে। এরই মধ্যে রাতের আঁধারে ২০০ সেনা নিয়ে পালিয়ে যান ঘাতক লে. কর্নেল সুলতান মাহমুদ। পরে ৩৭৬ জন পাকিস্তান সেনা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। শত্র“ মুক্ত হয় জামালপুর। আর জামালপুর মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সূচিত উত্তরবঙ্গসহ ঢাকাসহ বিজয়ের পথ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীর অভিযোগ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার বর্তমানে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজামান ওরফে কামারুর নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে পিটিআইয়ের পাকিস্তান গ্যারিসনে তার ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। ভয়াঙ্কর এই যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করে জহুরুল হক মুন্সী বলেন, রাষ্ট্র যদি তাকে সহায়তা করে এবং জান-মালের নিরাপত্তা দেয় তা হলে তিনি যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জানের বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নেবেন। তিনি একান্ত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

এ ব্যাপারে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীকে তিনি চেনেন না জানিয়ে বলেন, ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। কাজেই পাকিস্তান বাহিনীর ক্যাম্পে উপস্থিত থাকা তো দূরের কথা আল-বদর বাহিনীর সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী মিডিয়ার কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং তার মনগড়া।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জামাতকামারুজ্জামান ;
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৭
নাভদ বলেছেন: Click This Link

সমকাল

বৃহস্পতিবার | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ | ১ আশি্বন ১৪১৭ | ৬ শাওয়াল ১৪৩১

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ মিলেছে

শেরপুর প্রতিনিধি

জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে শেরপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে কামারুজ্জামানের সহচর, নয়ানি বাজার এলাকার টর্চার কেন্দ্রের পাহারাদার, আলবদর সদস্য মোহন মুন্সীসহ অনেকেই কামারুজ্জামানের বিপক্ষে তদন্ত সংস্থার কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার সকালে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জেলা সদরের বিভিন্ন বধ্যভূমি, আলবদর, রাজাকার টর্চার সেল ও
গণহত্যার স্থান পরিদর্শন করেন। এরপর রাতে তারা শেরপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা অ্যাডিশনাল এসপি মতিউর রহমান বলেন, 'আমরা মুক্তিযুদ্ধকালে শেরপুর অঞ্চলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অনেক অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের সত্যতা পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।' জামায়াত নেতা কামারুজ্জামনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেয়েছেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ এবং সাক্ষ্য এসেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা সকালে শেরপুর শহরের উপকণ্ঠে 'শেরী ব্রিজ' এলাকার বধ্যভূমি, শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকায় শনি বিগ্রহ মন্দিরের পুরোহিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল, সদর থানার সামনের বধ্যভূমি ও আলবদর বাহিনীর ক্যাম্প, নয়ানিবাজার এলাকায় সুরেন্দ্রমোহন সাহার বাসা, সূর্যদি ও ঝাউগড়া, ঝিনাইগাতীর আহম্মদনগর এবং শ্রীবরদীর জগৎপুর গণহত্যাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন। পরে রাতে তারা শেরপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

শেরপুরের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মতিউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নুরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবদুর রেজ্জাক খান, প্রসিকিউটর প্রশাসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান খান, ক্যামেরাম্যান কনস্টেবল প্রবীর ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
২. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:১১
নাভদ বলেছেন:
কালের কন্ঠ
শুক্রবার, ২ আশ্বিন ১৪১৭, ৭ শাওয়াল ১৪৩১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১০


ময়মনসিংহেও গণহত্যার হোতা জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান
নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ

'১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা পরিষদের এই ডাকবাংলো ছিল ময়মনসিংহ জেলাবাসীর কাছে এক আতঙ্কের স্থান। এখানে মুক্তিযোদ্ধাসহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্র-যুবকদের ধরে এনে আটকে রাখা হতো। চলত অমানুষিক নির্যাতন। এরপর আটককৃতদের হত্যা করে তাদের লাশ ডাকবাংলোর পেছনের ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ও পানিতে ফেলে দেওয়া হতো।' গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদল ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমিগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের সময় শহরের থানাঘাট এলাকায় ডাকবাংলোর পেছনে ব্রহ্মপুত্রের তীরে দাঁড়িয়ে সেদিনের কথা বলছিলেন সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

তিনি বলেন, একাত্তরে ডাকবাংলোসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানের টর্চার সেল ও গণহত্যার হোতা ছিলেন জামায়াত নেতা শেরপুরের কামারুজ্জামান।

ময়মনসিংহ শহরের অন্যান্য বধ্যভূমি ও টর্চার সেল পরিদর্শনকালেও জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের নাম উঠে আসে নির্যাতিত পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক কমান্ডার আব্দুর রবসহ মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরাও বলেন, ময়মনসিংহে একাত্তরের গণহত্যার হোতা জামায়াত নেতা কামারুজ্জমান। তদন্তদলের কাছে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা শহরের সুরুজ উকিল, রজব আলী ফকির, এম এ হান্নান, বড় মসজিদের তৎকালীন ইমাম ফয়জুর রহমান, শম্ভুগঞ্জের চেয়ারম্যান মাহবুব ফকির প্রমুখকে একাত্তরের গণহত্যার অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদল গতকাল সকাল থেকেই কাজ শুরু করে। সকালে তদন্তদল যায় মুক্তাগাছা উপজেলায়। এরপর ধাপে ধাপে শহরের সাহেব কোয়ার্টার পার্ক এলাকা, ছোটবাজার বধ্যভূমি, থানাঘাট এলাকার জেলা ডাকবাংলোর বধ্যভূমি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্টহাউসের পেছনের ব্রহ্মপুত্রের তীরসংলগ্ন বধ্যভূমি পরিদর্শন করে তদন্তদল।

বেলা ৩টা থেকে স্থানীয় সার্কিট হাউসে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। এ সময় ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বজন হারানোর ঘটনা তদন্তদলের কাছে তুলে ধরেন। সাক্ষ্য দিতে আসা ফুলপুর উপজেলার পয়ারী গ্রামের সুশান্ত কুমার চৌধুরী (৬১) জানান, একাত্তরের ৩১ জুলাই ও ১২ আগস্ট তাদের পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীসহ মোট ১১ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা। তাঁর বাবা-মা, বোন, বোনজামাইসহ বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয়কে হত্যা করা হয়। ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন হাইস্কুলের শিক্ষক স্বপন ধর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের বাড়ি ছিল মুক্তাগাছা এলাকায় বন বাংরা গ্রামে। তাঁদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল মুসলিম লীগ নেতা কেরামত আলী তালুকদারের। একাত্তরের ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর বাবা সন্তোষ ধরকে কেরামত আলী তালুকদারের নির্দেশে রাজাকার চাঁন মিয়া ব্লেড দিয়ে চামড়া কেটে লবণ দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। সেই রাজাকার চাঁন মিয়া এখনো জীবিত আছে বলে তিনি জানান। সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪৬) বলেন, একাত্তরে তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের ১২ অক্টোবর এলাকার চেয়ারম্যান মাহবুব ফকির তাঁর বাবাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে শম্ভুগঞ্জ স্কুলমাঠে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
শুধু সাক্ষ্য নয়, মুক্তিযুদ্ধ সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকার কাটিং নিয়ে তদন্তদলকে সহায়তা করতে সার্কিট হাউসে ছুটে আসেন মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। তিনি বলেন, তাঁর কাছে যেসব তথ্য রয়েছে এগুলো যুদ্ধাপরাধের বর্তমান তদন্তে কিছুটা হলেও কাজে আসবে। প্রায় ২৫ বছর ধরে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকার রাজাকার, আলবদরসহ মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত ব্যক্তিদের নাম এবং গণহত্যার ঘটনাগুলোর তথ্য সরেজমিনে গিয়ে সংগ্রহ করেছেন ফুলপুর উপজেলার সাংবাদিক এ বি এম রবিউল করিম (৪৬)। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গতকাল তিনি আসেন তদন্তদলকে সহায়তার জন্য। সাংবাদিক এস এ কালাম মুক্তিযুদ্ধের নির্যাতনের ওপর লেখা তাঁর বইয়ের একটি কপিও তুলে দেন তদন্তদলের কাছে। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মতো ব্যক্তি তদন্তদলের কাছে সাক্ষ্য দেন।

সন্ধ্যায় এক প্রেসব্রিফিংয়ে তদন্তদলের কর্মকর্তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রসংঘ ও শান্তি কমিটি ময়মনসিংহে যে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছিল তা তদন্তেই তাঁরা এখানে এসেছেন। এ তদন্তকাজ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে গত বুধবার রাত ১০টায় তদন্তদল ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে পেঁৗছে জেলার শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, আইনজীবী সমিতি, প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান ফকির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডার নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি এ এফ এম রফিকুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত দলের সদস্যরা হলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান ও সহকারী পুলিশ সুপার নূরুল ইসলাম। তদন্তদল এর আগে গত বুধবার শেরপুরে সাক্ষ্য গ্রহণ ও ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে।
৫. ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৭
নাভদ বলেছেন: (প্রথম আলো )

অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ব্রিফিং
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যায় সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে

শেরপুর ও নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি | তারিখ: ৩১-১০-২০১০

জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানসহ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি জেয়াদ-আল-মালুম এ তথ্য জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল গত শুক্রবার রাতে শেরপুরে আসে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত দলে জেয়াদ-আল-মালুম ছাড়াও কৌঁসুলি মোখলেসুর রহমান, তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক খান, জেড এম আলতাফুর রহমান ও মো. ওবায়দুল্লাহ রয়েছেন।

তদন্ত দল গতকাল সকাল ১০টায় নালিতাবাড়ীর সোহাগপুর গ্রামে যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই এই গ্রামের ১৮৬ জন পুরুষকে স্থানীয় আলবদর, রাজাকারদের সহযোগিতায় নৃশংসভাবে হত্যা করে পাকিস্তানের সেনারা। এতে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়লে ‘বিধবা পল্লী’ হিসেবে পরিচিতি পায়। তদন্ত দলের সদস্যরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তদন্ত দল এই গ্রামের আর কয়েকটি গণকবর পরিদর্শন করেন।

পরে তদন্ত দল ভারত সীমান্তের কাছে মায়াঘাষি ফরেস্ট ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মায়াঘাষি গ্রামে আলবদর, রাজাকারদের সহায়তায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় পাকিস্তানি সেনারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জেয়াদ-আল-মালুম বলেন, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের নির্দেশে তাঁর অধীনের স্থানীয় আলবদর ও রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই সোহাগপুর গ্রামে ১৮৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানসহ স্থানীয় আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর আবদুর রহমান, আকরাম হোসেন, আবদল কাদির ও হাসান আলীর সম্পৃক্ত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি জানান, তাঁরা দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন ও ৪০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন।

এর আগে সকাল নয়টায় তদন্ত দলের সদস্যরা নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে স্থানীয় নাগরিক কমিটিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে তদন্ত কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
৬. ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৪৯
নাভদ বলেছেন:
নালিতাবাড়ীতে কামারুজ্জামানের নির্দেশে ১৮৬ জনকে হত্যা করা হয় ॥ প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল

যুদ্ধাপরাধী বিচার

জনকন্ঠ শেষের পাতা(রবিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১০, ১৬ কার্তিক ১৪১৭)


স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সোহাগপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত দলের সদস্যরা। শনিবার বিকেল তিনটায় তদন্তকাজ শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত দলের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) জেয়াদ আল মালুম এ কথা জানান। অন্যদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে আরও সময় প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এ বিচার করা যাবে না। জেয়াদ আল মালুম বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই সোহাগপুর গ্রামে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের নির্দেশে তাঁর অধীনস্থ স্থানীয় আলবদর ও রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৮৬ জন নিরীহ পুরুষকে হত্যা করা হয়। তখন গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর থেকে গ্রামটি সোহাগপুর বিধবাপল্লী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। জেয়াদ আল মালুম আরও বলেন, সোহাগপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরম্নল ইসলাম বলেছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে আরও সময় প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এ বিচার করা যাবে না। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান অসনত্মোষ প্রকাশ করার দুদিন পর প্রতিমন্ত্রী এ কথা বললেন। শনিবার ঢাকা রিপোটর্ার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে কামরম্নল বলেন, তড়িঘড়ি করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করতে ৩৫ বছর লেগেছে। তাই এ বিচার করতেও সময় প্রয়োজন হবে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক আলোচনাসভায় বলেছিলেন, আমরা ভেবেছিলাম ট্রাইবু্যনাল ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে। কিনত্মু এখন দেখছি, তা চলছেই না। তার এ বক্তব্যের পর শুক্রবার আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রয়োজনে ট্রাইবু্যনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ বছরের শুরম্নতে আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল গঠনের পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এখন পর্যনত্ম জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ দু'জনসহ পাঁচ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তদনত্মও চলছে। কামরম্নল শনিবার বলেন, 'সারাদেশে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। তবে গোলাম আযমের মতো যুদ্ধাপরাধীদের আগে বিচার করা হবে। এখানে প্রতীকী বিচারের সুযোগ নেই।'
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারম্নজ্জামানের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদনত্মে শেরপুরে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছে আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের তদনত্ম দল। বুধবার সকালে চার সদস্যের তদনত্ম দল শহরের মাধবপুর এলাকার শনি মন্দিরে ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তারা শহরের গৃদানারায়ণপুর এলাকায় নবারম্নণ পাবলিক স্কুল এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ইমদাদুল হক হীরার বাসায় গণকবর পরিদর্শন করেন। তদনত্ম দল রঘুনাথ বাজারের পুরনো বানথিয়া ভবনে '৭১ সালে বদর বাহিনীর ক্যাম্প ও নয়ানি জমিদারবাড়ির রাজাকার ক্যাম্পের স্থানও পরিদর্শন করে। দুপুরে তাঁরা নয়ানি বাজারে ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাসভবনে ১৯৭১ সালে আলবদর-রাজাকারদের নির্যাতন সেল পরিদর্শন করেন। এ সময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদশর্ীর সাক্ষ্য নেন তাঁরা।

এছাড়া সূর্যদী গণহত্যার স্থান, ঝিনাইগাতীর আহম্মদনগরে পাক হানাদার বাহিনীর সদর দফতর, জগতপুর গণহত্যার ঘটনাস্থলসহ আরও কয়েকটি বধ্যভূমি পরিদর্শন করে তদনত্ম দল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ বিষয়ে তাদের একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা।

তদনত্ম দলের সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মতিউর রহমান বলেন, 'কামারম্নজ্জামানের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তদনত্মের স্বার্থে সে বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।' তদনত্ম দলের অপর তিন সদস্য হলেন- আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) জেয়াদ আল মালুম, সহকারী পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট নূরম্নল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক খান। আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের চার সদস্যের এই তদনত্ম দল মঙ্গলবার শেরপুরে পেঁৗছে। সেদিন বিকেলে তাঁরা জেলা প্রশাসক মোঃ নাসিরম্নজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আনিসুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য, '৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, জেলা আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৮২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি সেই দিন হব শান্ত...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই