জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চাঞ্চল্যকর পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এ টাকা বাদী পূর্ণিমা পাবেন।
সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিষয়ক আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ওসমান হায়দার বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল জলিল (৪০), আলতাফ হোসেন (৩৫), আব্দুল মমিন (২৮), আলতাফ (২৮), জহুরুল ইসলাম (২৮), হোসেন আলী (২৮), লিটন মিয়া (২৮), ইয়াসিন আলী (৩৭), আব্দুর রউফ (৩০), আব্দুল মিয়া (২৮), বাবলু মিয়া (২৮)।
১১ জনের মধ্যে ৫ জন পলাতক এবং বাকিরা জেল-হাজতে রয়েছেন।
পলাতকরা হলেন আব্দুল মমিন, আলতাফ, জহুরুল, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় উল্লিখিত আসামিরা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব দেলুয়া গ্রামের পূর্ণিমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা-মা-ভাইকে বেধড়ক মারপিট করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
পরে পূর্ণিমাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে হাটখোলার পাশে একটি কচুক্ষেতে ফেলে দিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়।
এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল বাদী হয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে ১৭ জনের নামে অভিযোগ পত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ দিনের বিচার কাজ শেষে বুধবার আদালত ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
পূর্ণিমার বাবা মামলার বাদী হলেও তার মৃত্যুর পর পূর্ণিমা নিজেই মামলাটির বাদী হন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৮ ঘণ্টা, মে ০৪, ২০১১
======================================
পূর্ণিমা গণধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন
সিরাজগঞ্জ, ৪ মে (শীর্ষ নিউজ ডটকম): দেশব্যাপী আলোচিত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রাণী শীল ধর্ষণ ও নির্যাতন মামলার রায় দেয়া হয়েছে। রায়ে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পূর্ণিমাকে দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার আজ বুধবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেন- আব্দুল জলিল, আলতাব, আব্দুর রউফ, হোসেন আলী, লিটন, ইয়াসিন আলী, মোমিম, আব্দুল মিঞা, আলতাব (২), জহুরুল ইসলাম ও বাবলু। এর মধ্যে প্রথম ৬ জন জেলহাজতে রয়েছে। বাকিরা পলাতক।
এর আগে মামলার ৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা ও ১ জন চিকিৎসকসহ ১২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে সাবেক পিপি এডভোকেট শামসুল হক এবং বাদিপক্ষে সিনিয়র এডভোকেট জাহিদ হোসেন, নারী ও শিশু আদালতের বিশেষ পিপি শেখ আবদুল হামিদ লাভলু, এপিপি কায়সার আহমেদ লিটন, আনোয়ার পারভেজ লিমন মামলাটি পরিচালনা করেন।
২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের পর পাশবিক নির্যাতের শিকার হয়েছিলো পূর্ণিমা। এ ঘটনায় ওই সময় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে সময় এ নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর উল্লাপাড়া থানায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সে সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে চলে যায়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এটি আবার গতি ফিরে পায়। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ প্রতিনিধি/ এআই/সস/ ১৩.০০ঘ)
======================================
২০০১ সালের নির্যাতন: গণধর্ষণের মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন
সিরাজগঞ্জ, মে ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সিরাজগঞ্জের এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক ওসমান হায়দার বুধবার এ দণ্ডাদেশ দেন।
আসামিদের মধ্যে পাঁচ জন পলাতক। অন্য ছয় জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
২০০১ সালে নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়, তারই অংশ হিসেবে নির্যাতনের শিকার হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা।
ওই ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কয়েকদিন আগেই তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। নির্যাতনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার মদদ ছিলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
==========================
2001 violence on Hindus: 11 get life for raping schoolgirl
Sirajganj, May 4 (bdnews24.com)—A Sirajganj court has handed down life term to 11 people for gang-raping a female school student during the post-elections violence in 2001.
Judge Osman Haider of Sirajganj Woman and Child Repression (Prevention) Tribunal delivered the verdict.
Five of the convicts are on the run while six were present in the dock when the judgment was announced.
Grade-8 student 'Purnima' was one of the Hindus who had been victim of the violent repression the BNP and its allies reportedly unleashed on the minorities and political rivals immediately on winning the Oct 1 national elections.
A judicial inquiry into the attacks said several top BNP and Jamaat-e-Islami leaders had directly incited the grisly attacks.
The report was submitted to the government last month.
bdnews24.com/corr/bd/1319h
=================================
পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন
সিরাজগঞ্জ, ০৪ মে (আরটিএনএন ডটনেট)-- ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার বহুল আলোচিত উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রানী ধর্ষণ মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা বাদীকে দেয়া হবে।
বুধবার দুপুরে ৬ জন আসামির উপস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তছির আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৪০), ফজল আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩৫), সেতল আলীর ছেলে আব্দুল মোমিন (২৮), লালচানের ছেলে আলতাফ হোসেন (২) (২৮), জিল্লার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৮), রহমত আলীর ছেলে হোসেন আলী (২৮), তছির উদ্দিনের ছেলে লিটন সেখ (২৮), দিদার আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী (৩৭), নেজাবত আলীর আব্দুর রউফ (৪০), আজগর আলীর ছেলে আব্দুল মিয়া (২৮), নেজাবত উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়া (২৮)।
এদের মধ্যে আব্দুল মোমিন, আলতাফ (২), জহুরুল ইসলাম, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া পলাতক রয়েছেন। ভিকটিম ও দণ্ডপ্রাপ্তরা সকলেই উল্লাপাড়া উপজেলা বড়হর ইউপির পুর্বদেলুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়লাভের পর ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা রানীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল ১০ অক্টোবর প্রথমে উল্লাপাড়া থানায় ১৭ জনের নামে মামলা করেন।
কিন্তু সকল আসামি তৎকালীন সরকারদলীয় নেতা-কর্মী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিয়ে নানা টাল-বাহানা করে। পরে ২৪ অক্টোবর পুর্ণিমা রানী শীল নিজে বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে ১৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের আদেশে পুলিশ পূর্ণিমাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করায়।
এরপর উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ আতাউর রহমান, ইসরার শামীম দেওয়ান ও উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ৯ মে আদালতে ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেন।
পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশ পেয়ে সিআইডির তৎকালীন ইন্সপেক্টর শেখ শহীদুল্লাহ সম্পূরক চার্জশিট প্রদান করে। এতে মূল আসামিদের রেখে পূর্ণিমাকে সহায়তাকারী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (বর্তমান প্রয়াত) আব্দুল লতিফ মির্জা, আব্দুর রহমান, পৌর মেয়র মারুফ বিন হাবীবসহ ৬ জনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে মামলার বাদী পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল এ সম্পূরক চার্জশিটের বিষয়ে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন।
এমনই অনেক আইনি লড়াই শেষে ২০০৭ সালের নভেম্বরে মামলা মূল ধারায় ফিরে আসে। বাতিল হয়ে যায় সম্পূরক চার্জশিট। এর মধ্যে মূল আসামিরা জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়।
বিচারিক আদালত থেকে ৬ এজাহারভুক্ত আসামির অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলা চলাকালে ৩ তদন্ত কর্মকর্তা, একজন চিকিৎসকসহ মোট ১২জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান রানা, স্পেশাল ট্র্যাইব্যুনালের পিপি আব্দুল হামিদ লাভলু জানান, ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছিল এ রায়ে তা প্রমাণ হলো।
এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেটড শামসুল আলম জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




