সমকাল(রোববার | ১০ জুলাই ২০১১ )

সমকাল প্রতিবেদক
পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের ২৭/১ সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনে অবস্থিত ঢাকা মডেল প্রিক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুল। স্কুলের আড়ালে এখানে চলত শিবিরের কর্মী সংগ্রহ ও জিহাদি প্রশিক্ষণ। স্কুলটিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে পরিষ্কার করা হতো চেয়ার-টেবিল। সেখানে রয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ ওই স্কুলটিতে অভিযান চালিয়ে এমনসব দৃশ্যই দেখেছে। জিহাদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে স্কুলটি সিলগালা করে দেওয়ার পর সেখানকার অধ্যক্ষসহ সাত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন স্কুলটির অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, উপাধ্যক্ষ নূরে আলম সিদ্দিকী, শিক্ষক ইসমাইল খান, সিরাজুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, ওবায়দুল্লাহ ও মোঃ রোস্তম আলী। গ্রেফতার হওয়া সবাই জামায়াত
নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন খান জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই স্কুলটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে কারাবন্দি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিভিন্ন পোস্টার, এ সংক্রান্ত নানা ধরনের বই, নারীনীতিসহ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তবিরোধী বিপুল পরিমাণ উস্কানিমূলক লিফলেট, চাঁদা আদায়ের রসিদ ও দাতা সদস্যদের রসিদ এবং পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা জামায়াত ও শিবিরের স্থানীয় নেতা। অধ্যক্ষ আলমগীর কোতোয়ালি থানা জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক এবং ৭২ নং ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজীব আল মাসুদ সমকালকে জানান, তাদের কাছে তথ্য ছিল ওই স্কুলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এছাড়াও সেখানে বসে হরতালে নাশকতার প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা করা হতো। গ্রেফতার হওয়াদের এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তবে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, জামায়াত করেন বলেই তাদের আটক করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা দিয়ে চেয়ার-টেবিল পরিষ্কারের ব্যাপারে তিনি বলেন, পতাকাটি পুরনো অবস্থায় ছিল। উদ্ধার করা পাকিস্তানের পতাকার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। স্কুলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও তারা কোনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন অধ্যক্ষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



