somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরও হরতাল ডাকুন, প্রয়োজনে টানা এক সপ্তাহ: মুনতাসীর মামুন

১৩ ই জুলাই, ২০১১ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরও হরতাল ডাকুন, প্রয়োজনে টানা এক সপ্তাহ
মুনতাসীর মামুন

জনকন্ঠ (১৩-৭-২০১১)

হরতাল এতদিন সমর্থন করেছি। গত শতকের ষাটের দশক থেকে হরতাল করছি। হরতালে বিএনপির নেতাদের মতো আমাদেরও অসুবিধা হয় না, মানে যাঁরা শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের। অন্যদের অসুবিধা হতে পারে, তাতে আমার কী? জয়নুল আবদিন ফারুকরা হরতাল ডাকেন, হরতালের আগে গাড়ি পোড়ান, যাতে ভয়ে কেউ বের না হয়, সবকিছু বন্ধ থাকে, কিন্তু তাদের কলকারখানা খোলা থাকে। শ্রমিকরা কিভাবে কাজে আসবেন সেটি ফারুকদের জানার বিষয় নয়। না এলে বেতন নেই। বিশ্বাস হয় না এ প্রতারণা। গত দু'দিনের সময় কি জয়নুল আবদিন ফারুকের একটি নয় দু'টি গার্মেন্টস কারখানা খোলা ছিল না?
লালবাগ মাদ্রাসা দখল করে নেয়া এবং তালেবান হওয়ার ঘোষণা দেয়া, ফজলুল হক আমিনী ফারম্নকদের জানি দোস্ত। তিনিও ছিলেন হরতালের সমর্থক। হরতালের দিন তাঁর মাদ্রাসা খোলা ছিল, তিনিও ছিলেন সেখানে। কারণ, পড়াশোনার যাতে ক্ষতি না হয়। অন্যদের হোক তাতে তাঁদের আপত্তি নেই। প্রতারণার এ রকম অজস্র উদাহরণ দেয়া যাবে।
না, এখানেই শেষ নয়। সকালের দিকে টিভি ক্যামেরা যেখানে থাকে, নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটে সেখানে হরতালকর্তারা জড়ো হন। ক্যামেরা চলে গেলে তাঁরাও চলে যান। কর্মীরা বা অতি উৎসাহী কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে রাস্তায়। যাদের ওপর হুকুম থাকে গাড়ি পোড়ানো বা পুলিশকে গালিগালাজ করে ঢিল ছোড়া। এজন্য তারা টাকা পায়। হরতালের আগের দিন এ রকম একজনকে ধরা হয়েছিল যে বাসে আগুন লাগিয়েছিল। সে জানায়, আগুন লাগানোর জন্য তাকে ১০০ টাকা দেয়া হয়েছিল। নেতাদের আকাঙ্ৰা, টিভি সংবাদে যাতে কয়েক সেকেন্ড তাদের দেখানো হয়। ম্যাডাম জিয়া যদি ৰণিকের জন্যও দেখেন, তা হলেই অপার শান্তি। আখেরে কিছু হতেও পারে। এই হচ্ছে এখন হরতাল ও যাঁরা হরতাল ডাকেন তাঁদের চরিত্র। রাজনীতির জন্য যদি হরতাল হতো তাহলে রাস্তায় রাস্তায় লোক থাকত, পুলিশও। লাঠিপেটা, ঢিল ছোড়াছুড়ি হতো, মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকত, গুলি খেত কিন্তু পালাত না। গত শতকের ষাট থেকে নব্বই দশক পর্যনত্ম কি তা হয়নি? কিন্তু এখন তো রাজনীতি মুখ্য নয়, প্রতারণাই মুখ্য। আর বিএনপি হলে প্রতারণায় ঘাটতি থাকবে না, সে কারণেই দৌড়াতে হয়। বিএনপি সাংসদ দৌড়ে পালিয়েই তো দৌড় সালাহউদ্দিন নামে বিখ্যাত হলেন। রেললাইন ধরে বিএনপির আরেক নেতা, না ফাউন্ডার, ডা. বদরম্নদ্দোজা চৌধুরীর রেললাইন ধরে দৌড় তো আমরা প্রত্যৰ করেছি। এবার দেখলাম জয়নুল আবদিন ফারম্নকের।
এ ধরনের মনত্মব্য সুশীলদের আহত করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ট্রাইবু্যনালে যখন বয়োবৃদ্ধ আবদুল আলীমকে হুইলচেয়ারে আনা হলো, তখন টিভিতে তা দেখে অনেকে বলেছিলেন, আহা, বুড়ো মানুষটাকে নিয়ে এত টানাহেঁচড়া কেন করা হচ্ছে? নিজামীকে আদালতে আনা হলে, এ মনত্মব্যও করেছেন সুবেশী অনেকে, এত বছর পর এসব নিয়ে টানাটানি কেন?
এ ধরনের সমবেদনামূলক উক্তি, মনত্মব্য অপরাধের শামিল। ১৯৭১ সালে আবদুল আলীম বাঘের খাঁচায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঢুকিয়ে দিত। কত অত্যাচার, কত হত্যার জন্য সে দায়ী। এ কথাটা কেন মনে হবে না তাকে দেখলে? নিজামী ডেথস্কোয়াড বা হত্যাবাহিনী আলবদরের প্রধান ছিলেন। আমার শিৰকসহ প্রচুর মানুষকে হত্যার জন্য প্রত্যৰ এবং পরোৰভাবে দায়ী। সাকাচৌ, মুজাহিদও। তাদের দেখে সে কথাটা মনে হবে না কেন? যদি না হয় তাহলে ধরে নিতে হবে ঐ খুনখারাবি, লুট-ধর্ষণেরও সমর্থক মনত্মব্যকারী।
প্রশ্ন উঠতে পারে, উপরের বক্তব্যের সঙ্গে হরতালের সম্পর্ক কি? আছে, গত এক সপ্তাহের হরতাল সম্পর্কিত ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলেই তা বোঝা যাবে। গত কয়েকদিন ফারম্নকের ওপর পুলিশী নির্যাতনে সবাই উদ্বেলিত কিন্তু সবাই ভুলে গেলেন ফারম্নক বা ফারম্নকরা কী করেছিলেন কয়েকদিন আগে! সে প্রসঙ্গে আসছি পরে।
(২)
হরতাল কেন করা হতো? হরতাল কেন করেছি স্বতঃস্ফূর্তভাবে? কারণ, হরতাল ছিল শাসকের বিরম্নদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন। এটি ছিল সরকারবিরোধীদের অনত্মিম অস্ত্র। অনশনও। আগে হরতাল ঘোষিত হতো, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে যোগ দিত। হঁ্যা, পিকেটিং হতো, পুলিশের লাঠিবাজিও চলত। রাসত্মাঘাট একদম খালি। একটি রিঙ্াও নামত না। হরতাল সফল হলে বিরাট ব্যাপার মনে করা হতো।
আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মাসুদ আহমেদ মাসুদ ছিল তখন উদীয়মান কবি। লম্বা-চওড়া, হাসিমুখের এই তরম্নণ এসেছিল বরিশাল থেকে। ছাত্র ইউনিয়নের নিবেদিতপ্রাণ কমর্ী। আমার দু'এক ক্লাস নিচে পড়ত। পরে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে বরিশালে মারা যায়।
সময়টা খুব সম্ভব ১৯৬৯-এর শেষ কিংবা ১৯৭০-এর শুরম্ন। মাসুদের একটি কবিতা বেরিয়েছে দৈনিক সংবাদে। কবিতাটির একটি লাইন এখনও মনে আছে আমার এবং আমার অনেক সতীর্থের_ 'আজ বরিশালে হরতাল হয়েছিল।'
হরতাল হয়েছিল বরিশাল কিংবা ঢাকায় কিংবা চাটগাঁয়_ এটি ছিল একটি সংবাদ। শহরগুলো ছিল তখন ছোট, মানুষজনেরও এত আধিক্য ছিল না। অস্ত্রশস্ত্রের প্রকোপ ছিল না। পুলিশের প্রতি প্রধান গালি ছিল 'ঠোলা।' তাতেই তারা ৰিপ্ত হয়ে যেত। হরতাল সফল হওয়া মানে ছিল একেবারে সব সত্মব্ধ, যেন মৃতু্যপুরী, কোন শাসক তো আর মৃতু্যপুরীর রৰক হতে চায় না। সুতরাং তাকে মৃতু্যপুরীর রৰক বানানো ছিল চরম অপমান। অন্যদিকে শাসকদের প্রতি বিরোধীদের অনাস্থা প্রকাশের সর্বশেষ কৌশল ছিল হরতাল। যদ্দুর মনে পড়ে, ১৯৬৯ সালে সরকার পতনের জন্য কয়েকটি হরতালই ছিল যথেষ্ট।
আজ চলিস্নশ বছর পর সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে বদলেছে। রাজনীতিবিদ, সাধারণ মানুষও। বিশেষ করে এখন রাজনীতিবিদদের মান-অপমান জ্ঞানটা অনেক কম। বরং, ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে লাজলজ্জা বেশি থাকলে রাজনীতিবিদ হওয়াই দুরূহ। যে হরতাল ছিল প্রতিবাদের এক অমোঘ অস্ত্র, সে হরতাল এখন বিবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন। বিষয়টা আরও অবাসত্মব হয়ে উঠেছে এ কারণে যে, যিনি ৰমতায় থাকলে হরতালের বিরোধিতা করেন, ৰমতায় না থাকলে তিনিই আবার হরতালের পৰে সাফাই গান।
হরতাল, না-হরতাল। হরতাল ছাড়া বিকল্প নেই। হরতাল খুবই খারাপ। আসলে সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করে কোন পৰ কখন তা বিচার করছে তার ওপর। শুরম্নতে হরতালের যে আন্দোলনের কথা উলেস্নখ করেছিলাম এখন যে তা প্রায় নেই, বলাই বাহুল্য। হরতাল সম্পর্কিত পুরনো ধারণা নষ্ট হওয়া শুরম্ন হয়েছে জেনারেল এরশাদের আমলে।
সে সময় প্রায় সবাই আগ্রহভরে হরতাল ডেকেছে, প্রতিটি হরতালের সময় এরশাদ ও তাঁর মন্ত্রীরা বলতেন_ হরতাল দেশে অরাজক অবস্থা ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, বিনিয়োগ পরিবেশ নষ্ট করছে। তখন আওয়ামী লীগ-বিএনপি বলেছে, রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসাবে হরতালের বিকল্প আর কি হতে পারে? আর হরতালে যদি কখনও শানত্মি বিঘি্নত হয়ে থাকে তবে তা করে সরকার। ঐ সময় আমরাও হরতাল পালন করেছি। কারণ, হরতালকে আমরা বিবেচনা করেছি স্বৈরাচার পতনের হাতিয়ার হিসাবে। কিন্তু অতি ব্যবহারে এর ধারও নষ্ট হতে লাগল। হরতাল ডাকা হলে দেখা যেত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া, সব এলাকায় রিঙ্া চলছে, ছোটখাটো দোকানপাট, ব্যাংক, বেসরকারী-সরকারী অফিস খোলা, গাড়িঅলারা শুধু বাসায় গাড়ি রেখে বের হতো।
গত তিন দশকের হরতাল পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, প্যাটার্নটি এক। অর্থাৎ এ সম্পর্কিত সব রাজনীতিবিদ দু'রকমের কথা বলছেন এবং প্রতিটি হরতাল-চিত্র প্রায় একই রকম।
হরতালকে কি এখন শাসকের কার্যকলাপের অনাস্থা জ্ঞাপনের হাতিয়ার হিসাবে দেখব, নাকি শাসকদের ব্যতিব্যসত্ম করার মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করব? তাহলে এ হিসাবটি পর্যালোচনা করম্নন।
১৯৪৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যনত্ম বাংলাদেশে পূর্ণ দিবস হরতাল ডাকা হয়েছে ৪৯৮ দিন। ১৮৩৪৪ দিনে ৪৯৮ দিন কি খুব বেশি! যেখানে প্রায় সব মানুষ নিষ্পেষিত হয়েছে ঔপনিবেশিক এবং সামরিক শাসক দ্বারা?
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এ সময়ে তুলনামূলক হিসাবে সবচেয়ে কম হরতাল হয়েছে ৬৫ দিন। এ কারণে হরতালের ধার বেশি ছিল সে আমলে।
এ পর্যনত্ম বাংলাদেশ আমলে সবচেয়ে কম হরতাল হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আমলে, মাত্র ৫ দিন। সবচেয়ে বেশি? অনেকের মনে হতে পারে এরশাদ আমলে, না তা নয়। শেখ হাসিনার আমলে। হিসাবটা দেয়া যাক। এরশাদ আমলে ৮ বছরে বা ২৯২০ দিনে হরতাল হয়েছে ১০৪ দিন। এতে সরকারবিরোধী সবাই কমবেশি অংশ নিয়েছিল। বেগম জিয়ার আমলে ১৫৫ দিন। অবশ্যই তা করেছে আওয়ামী লীগ ও বিরোধীরা। আর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ বা শেখ হাসিনার আমলে পূর্ণদিবস ১৯৩ দিন, অর্ধদিবস ৯৫ দিন। মোট ২৮৮ দিন। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন এলাকায় ২৩৩ দিন।
শেখ হাসিনার প্রতি বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত আক্রোশটা বোঝা যায় এ পরিসংখ্যানে।
হরতাল চলাকালীন আহতদের পরিসংখ্যান বুঝতে সাহায্য করবে কোন্ আমলে নিষ্পেষণ বেশি ছিল বা মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বেশি_
১৯৪৭-৭১ সাল পর্যনত্ম আহত হয়েছে ৩৬ জন, ১৯৭২-৭৫ ২ জন। ১৯৭৫-৮২ ৬ জন, ১৯৮২-৯০ ১০৯ জন, ১৯৯১-৯৬ ৬৮ জন, ১৯৯৬-২০০০ ৩৭ জন।
এবার হরতাল বিষয়ে বেগম জিয়ার কিছু মতামত দেখা যাক_ ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যনত্ম তিনি সত্তরটিরও বেশি মনত্মব্য করেছেন হরতালের বিরম্নদ্ধে। তাঁর থেকে উদ্ধৃত করছি_
১. যারা ঘন ঘন হরতাল ডাকে তারা জনগণের বন্ধু নয়। সংগ্রাম, ১১.৩.৯৩
২. বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের ভাষা জানে না। ভোরের কাগজ, ৩০.৪.৯৩
৩. দেশপ্রেমিকরা হরতালের রাজনীতি করে না। ইত্তেফাক, ১০.১০.৯৩
৪. সংসদই গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু। ইত্তেফাক, ২১.১১.৯৩
৫. আন্দোলনের বন্ধুরা আসুন, সংসদেই সব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি। আজকের কাগজ, ৫.৫.৯৪
৬. হরতালের প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। ইত্তেফাক, ৩০.৯.৯৫
৭. হরতাল ও ধর্মঘট কোন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচী নয়। বাংলাবাজার পত্রিকা, ৭.৩.৯৬।
মনত্মব্য নিষ্প্রয়োজন।

হরতালের বিরম্নদ্ধে আইন করার কথা বলছেন অনেকে, এটি অবাসত্মব কথা, পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের আইন নেই। বিএনপি প্রায়ই বলে শেখ হাসিনা হরতাল করবেন না বলেছিলেন। হঁ্যা, বলেছিলেন, ১৫ নবেম্বর ১৯৯৮ সালে। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী তখন ঘোষণা করেছিলেন 'বিরোধী দলে গেলেও আমরা আর কখনও হরতাল করব না।' সঙ্গে সঙ্গে তিনি বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য বিরোধীদলীয় নেতাদেরও একই ধরনের অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বেগম জিয়া পরদিন ঘোষণা করেছিলেন, 'হরতাল হবে, প্রয়োজনে লাগাতার হরতাল দেয়া হবে।' ফলে পরবতর্ীকালে শেখ হাসিনার হরতাল না ডাকার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না।
উপরের সংখ্যাতত্ত্ব ও তথ্য প্রমাণ করে_
১. বেগম জিয়া হরতালবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বেশি।
২. বেগম জিয়া হরতাল ডেকেছেন বেশি।
৩. বেগম জিয়ার আমলে তুলনামূলকভাবে হরতালে দলীয় ও পুলিশ ক্যাডার দ্বারা মানুষ বেশি লাঞ্ছিত হয়েছে।
৪. ঐ সময় জামায়াতে ইসলামীর কার্যকলাপের বিরম্নদ্ধেই হরতাল ডাকা হয়েছে বেশি।
৫. সুতরাং এ পরিপ্রেৰিতে বলতে হয়, বেগম জিয়া মাত্র হরতাল ডাকা শুরম্ন করেছেন। আগামী আড়াই বছর হরতালের মাত্রা বাড়বে। এতে অনেকে বিরক্ত হতে পারেন, বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।
বেগম জিয়ার হরতাল ডাকার পর পুলিশ যা করে তাতে হরতাল অনেকাংশে সফল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ গাড়ি চলাচল করে না, প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর ছেড়ে বেরোয় না, রাসত্মা থাকে তুলনামূলকভাবে ফাঁকা। শুধু তাই নয়, নিরস্ত্র জনতার ওপরে পুলিশের ডান্ডাবাজি কেউই পছন্দ করে না। বিএনপি যখন ৰমতায় ছিল ঠিক একই কাজ করা হয়েছে। বিএনপির কোহিনূর তখন ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে। আর আওয়ামী লীগ নেতারা সমবেদনা কুড়িয়েছেন। [সেই কোহিনূর এখন বোধহয় সরকারী প্রটেকশনে। তার বিরম্নদ্ধে খুনের মামলা থাকলেও তাকে পুলিশ খুঁজে পায় না। কিন্তু জঙ্গীদের ঠিকই খুঁজে পাচ্ছে।] পুলিশের কিন্তু কিছুই হবে না। হরতাল এখন অনাস্থার কোন প্রতীক নয়। হরতালে রিঙ্া, মানুষ চলাচল করে, অফিস আদালতে কাজ চলে, রাসত্মার পাশে শপিংমল বন্ধ থাকে, প্রাইভেট গাড়ি চলে না। শহরের সীমানার বাইরে সব স্বাভাবিক। যদি বিএনপি বলত, হরতাল ডাকা হয়েছে, বিএনপিকে সমর্থন করলে বাসায় থাকুন, গাড়ি-বাস না পোড়ান। তা হলে দেখা যেত হরতাল সফল হয়েছে কিনা। কিন্তু বিএনপি অতীতে যা করেছে তাই করবে, গাড়ি-বাস পোড়াবে, সন্ত্রাস চালাবে, হয়ত দু'একটি লাশও পড়বে। ফলে অনেকে ভয়ে গাড়ি বের করবেন না বা বেরম্নবে না, এতে জনমতের প্রতিফলন ঘটে না। সরকারকে অনুরোধ জানাব, হরতাল ডাকলে মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখাতে। হরতালের আগে মিছিল করতে চাইলে করম্নক না, তাকে পেটাতে হবে কেন? তাহলে অন্যান্য সরকারের সঙ্গে পার্থক্য থাকে কোথায়? যারা গাড়ি পোড়াচ্ছে তাদের পেটাক, ধরম্নক, কেউ কিছু বলতে আসবে না। কিন্তু পুলিশ যা করে তাতে সাধারণ মানুষ বিগড়ে যায়, বিএনপি আমলে হরতালের সময় পুলিশ একই রকম আচরণ করেছে, কোন কোন ৰেত্রে বেশি করেছে, তাতে আওয়ামী লীগই লাভবান হয়েছে। সরকারের বরং ভেবে দেখা উচিত জনমত কিভাবে নিজ পৰে রাখা যায় তা দেখা। এ হরতালে সরকারের পতন হবে না। আগেও কোন সরকারের পতন হয়নি।
(চলবে)
লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×