


গণঅনশনে এসে এ যেন গণভক্ষণ!
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
গণঅনশন চত্বর থেকে: এ যেন গণঅনশনে অংশ নিতে আসা নেতা-কর্মীদের গণভক্ষণ। টানা আট ঘণ্টার অণশনে নেমে অর্ধেক সময় পেরুনোর আগেই বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীকে খাবার খেতে দেখা গেলো। তাদের ভক্ষণ আগ্রাসনে অনশন স্থল ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স চত্বরের পার্শ্ববর্তী প্রায় সব দোকানের খাবার প্রায় ফুরিয়ে যায়। অনশন প্যান্ডেলের মাত্র কয়েক গজ দূরেই খাবার চিবুতে দেখা যায় কাউকে কাউকে।
আবার এদেরই কারো কারো সন্দেহ, কেন্দ্রীয় নেতারাই হয়তো কোন ঘরে গিয়ে খেয়ে আসছেন কিছু না কিছু।
অন্যদিকে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে খাবারের দাম না দিয়ে সরে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক দোকানি।
অনশন স্থলের আশপাশ রমনা পার্ক, সরোওয়ার্দী উদ্যান ও মৎস্য ভবন এলাকায় দেখা গেলো নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দোকান থেকে খাবার এনে গোল হয়ে বসে খাচ্ছেন। ঝালমুড়ি ও আইসক্রিম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকারের কেক, কলা, পানীয়, বিস্কিট আর নানা প্রকারের ফাস্ট ফুড তো আছেই, তেহারি ও বিরিয়ানির প্যাকেটও দেখা গেলো কারো কারো হাতে।
শিল্পকলা একাডেমির পার্শ্ববর্তী আহমদিয়া স্টোরের মালিক মাইনুদ্দিন বাবু বাংলানিউজকে জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় সমাবেশ উপলক্ষে তার বিক্রি তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।
মৎস ভবন সংলগ্ন খাবার ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ বাংলানিউজকে জানান, অন্যান্য দিন এ সময় তার বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে বারোশ’ টাকা। আর আজ (বুধবার) এর মধ্যে তার সাড়ে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়ে গেছে। এর মধ্যে বিস্কিট ছাড়া অন্য সব খাবার শেষ হয়ে গেছে। আরো খাবার আনতে লোক পাঠানো হয়েছে।
আনারস বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, ‘অন্যান্য দিনে দুপুর পর্যন্ত ১৫-২০টা আনারস বিক্রি হলেও আজ দুপুর পর্যন্ত ৬০টি আনারস বিক্রি হয়েছে।’
‘তবে বিক্রি ভালো হলেও অনেকেই দাম না দিয়ে চলে গেছেন’ বলে অভিযোগ আব্দুর রাজ্জাকের।
বাদাম বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, অন্যান্য দিন এক থেকে দেড়শ’ টাকা বিক্রি হলেও আজ এরই মধ্যে ৩শ’ টাকা বিক্রি করেছেন তিনি।
সমাবেশ স্থলে আসা কর্মীরাই তার আজকের ক্রেতা বলেও জানান তিনি।
পানীয় বিক্রেতা মিলন বাংলানিউজকে বলেন, ‘অন্যান্য জনসভায় যেমন বিক্রি হয়, তেমন আজও বিক্রি হচ্ছে। কোনও কমতি নেই।’
যাত্রাবাড়ী থানার বিএনপি কর্মী রুবেলকে পানীয় কেনার সময় গণঅনশনের কথা জিজ্ঞেস করলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘সমস্যা কি, অনেকেই তো খাচ্ছে, তাই আমিও খাচ্ছি।’
তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য মেহেদী হাসানকে (মাস্টার্স শেষ বর্ষর) পানি কেনার সময় ‘গণঅনশন কর্মসূচিতে কেন পানি কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘যারা অনশন ডেকেছেন তারাও রুমের মধ্যে গিয়ে হয়তো বা খেয়ে আসছেন। আমরা তো পানি ছাড়া আর কিছু খাচ্ছি না।’
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০১১
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



