somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক নজরে: কেমন ছিল গাদ্দাফির লিবিয়া

২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্চিমা মিডিয়া যেভাবে গাদ্দাফিকে উপস্থাপন করছে, তাতে মনে হয় গাদ্দাফি ছিলেন ভয়ংকর নিষ্ঠুর এক স্বৈরশাসক। তিনি দেশটিকে একেবারে লুটেপুটে খেয়ে ছাড়খার করেছেন। কিন্তু আসলেই কি তাই?
মাত্র ২৭ বছর বয়সে মুয়াম্মার গাদ্দাফি যখন লিবিয়ার শাসনক্ষমতা দখল করেন, তখন লিবীয়রা ছিল পুরোদস্তুর যাযাবর জাতি, তাদের আধুনিক রাষ্ট্র সম্পর্কে তেমন ধারণাই ছিল না। দেশের সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য নানাভাবে ছিল পশ্চিমাদের দখলে। বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জনগণ ছিল দরিদ্র।
কিন্তু স্বৈরশাসক হওয়া সত্ত্বেও এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সম্পদের পাহাড় গড়লেও গত চার দশকের বেশি শাসনামলে গাদ্দাফি তার দেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। দেশের মানুষের জন্য এনেছেন বিপুল সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন। আসুন দেখে নিই গাদ্দাফির নেতৃত্বে লিবীয়দের অর্জন :


● আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা অন্য কারো কাছে লিবিয়ার এক পয়সাও দেনা নেই।
● উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে স্বাক্ষর দেশ লিবিয়া।
● লিবিয়ায় শিক্ষিত জনসংখ্যার ৮০% লোক পাশ্চাত্যের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত।
● একটি আধা কেজি রুটির দাম লিবিয়ায় পনেরো ইউএস সেন্ট (আমাদের দেশে ৪৫০ গ্রাম ওরিয়েন্ট পাউরুটির দাম পয়তাল্লিশ সেন্ট আর আমাদের মাথাপিছু আয় লিবীয়দের আয়ের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ!)।
● লিবীয়দের জন্য ঋণের সুদের হার শূন্য শতাংশ অর্থাৎ কোনো সুদ নেই।
● লিবিয়া একটি ভিক্ষুকহীন দেশ।
● দেশটিতে ১০০% বেকারের বেকারভাতা নিশ্চিত।
● বিয়ের পর নবদম্পতির জন্য বিনামূল্যে ফ্ল্যাট বা বাড়ি।
● পৃথিবীর যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ। সেজন্য মাসে ২,৫০০ ইউএস ডলার বৃত্তির সাথে গাড়ি ও আবাসনভাতা।
● ন্যাটোর বোমাবর্ষণের আগে পর্যন্ত শূন্য (০) শতাংশ গৃহহীন নাগরিক।
● উৎপাদন মূল্যে (Ex factory price) গাড়ি।
● ছাত্ররা যে বিষয়ে পড়াশোনা করে সে বিষয়ে পড়াশোনা করে চাকরিরতরা গড়ে যে বেতন পেত সে পরিমাণ টাকা তাদের দেওয়া।
● প্রতিটি লিবীয়র জন্যে বিনামূল্যে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা।

যারা ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে গাদ্দাফিকে নিজের দেশের মাটিতে হত্যা করেছে ‌আর যাদের উদ্দেশ্য দেশের বিপুল তেলসম্পদ আর বাজার দখল করা, সেই পশ্চিমাশক্তি এবং তাদের অনুগত শাসকরা কি পারবে নাগরিকদের সেই সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখতে?
এই উত্তরটি জানার জন্য আমাদের হয়তো খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না।



সংবাদ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
Click This Link
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×