আজ আষাঢ়ী পূর্ণিমা,চাঁদ পৃথিবী আর সূর্যের লুকোচুরির এক অপূর্ব সৃষ্টি, তার সাথে যোগ হয়েছে বৃষ্টি।
আহা কি অপূর্ব দৃশ্যই না দেখা যাবে অন্যদিনের মত আজ।
"চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে.....কে আইসা দাঁড়াইছে গো আমার দূয়ারে.... তাহারে চিনিনা আমি সে আমারে চিনে......"
চাঁদের প্রভাব পৃথিবীতে প্রবল,কেন না চাঁদতো আমাদের মামা..... কাছের মামা,সূর্য যদি বড় মামা হয় তো চাঁদ ছোট মামা।তার কাছে আমাদের আবদারের শেষ নেই,নেই তাকে নিয়ে মাতামাতি।
অন্য সবার কি হবে জানি না, আমার মন একই সাথে খারাপ আবার ভাল থাকবে..... আমি আর আমার প্রিয়তমা দুজনে দু জায়গায়..... আজকে যদি মেঘ বৃষ্টি উপেক্ষা করে চাঁদটা উঠে আসে,তবে দুজন বিরোহী প্রেমিক জুটিকে দেখতে পাবে..... যারা দুজনের খুব কাছে,আবার কাছে না.... "কাছে কাছে থেকেও যে কভূ কাছে নয়...." আমি তারে "গোপনে বিরহ ডোরে বাঁধিবো..........বাঁধনও বিহীনও সেই যে বাঁধন" আর প্রিয়কে বলবো.. "পড় পড় চৈতালী,সাজে কুসমি শাড়ি,আজি তোমারো রূপেরও সাথে চাঁদেরও আঁড়ি ...... তুমি রূপ কুমারী...." ভাবতে অবশ্য ভালই লাগে... আমরা দুজনে দু জায়গায় হলেও একই চাঁদ দুজনেই দেখি..... পূর্ণিমায় ভাল করে দেখি...... ও কাঁদে আমিও কাঁদি.... কাছে না পাওয়ার যন্ত্রনায়..... ওকে বলি প্রিয় কেঁদো না........
"বঁধু তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে
তাই যত কাছে পাই,তত এ হিয়ায় কি যেন অভাব রহে।
বারেবারে মোরা কত সে ভূবনে আসি,দেখিয়া নিমেষে দুইজনে ভালোবাসি
দলিয়া সহসা মিলনের সেই মালা,চলিয়া গিয়াছি দোহে!!
আমরা বুঝিগো বাঁধিবোনা ঘর, অভিশাপ বিধাতার ।
শুধু চেয়ে থাকি,কেঁদে কেঁদে ডাকি, চাঁদ আর পারাবার।
মোদের জীবন মন্জরী দুটি হায়,শতবার ফোঁটে,শতবার ঝরে যায়
বঁধু আমি কাঁদি ব্রজে, তুমি কাঁদো মথুরায়(মাঝে) অপার যমুনা বহে!!"
মনের জ্বালায় যুবরাজ সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগ করতে মন চায়..... কিন্তু সংসারিক চাপে বিরাগী মনের মৃত্যু ঘটে...... এভাবে প্রতি পূর্ণিমায় অপেক্ষায় থাকি কবে এক সাথে পূর্ণিমা দেখবো।
আজকের এমনই এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ স্ত্রী পুত্র রাজ্য সব মায়া ত্যাগ করেন.......
বুদ্ধকে বলতে ইচ্ছা করে..... "যদি ভালবেসে বিয়ে করতেন তবে কি পারতেন এভাবে প্রিয়কে ঘুম পড়িয়ে রেখে গৃহ ত্যাগ করতে......" হাহাহাহাহা...... হয়তো পারতেন..... সংসারের সব স্বাদতো তিনি মিটিয়ে ছিলেন...... জানিনা,বিয়ের পর প্রিয়তমার প্রতি আমার আবেগ কেমন থাকবে..... বা আদৌ কি তাকে পাব.....।
আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিল...."দোস্ত অমর প্রেমের দিকে আগাইও না..." আমি বলেছিলাম "কেন??" ও বলেছিল" স্রষ্টা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় প্রেমিক...... উনি নিজে প্রেমিক আর উনি চান প্রেম টিকে থাক.... তাই উনি অমর প্রেমিক জুটিকে মিল দেন না..... কারন প্রেম মিলনে মলিন.... বিরহে উজ্জ্বল"....... আমি খুব হেসেছিলাম ..... কি জানি ওর কথা ঠিক কি না?
যা হোক আপনাদের সবাইকে আষাঢ়ী পূর্ণিমার শুভেচ্ছা..... প্রিয় মানুষটির হাত ধরে .... তার চোখের দিকে তাকিয়ে পূর্ণিমা উপভোগ করুন ..... আশা করি কিছু সময়ের জন্য হলেও আপনাদের জন্য মেঘ সরে যাবে। আর যাদের আমার মত অবস্থা তারা প্রিয় মানুষটিকে কল্পনায় নিয়ে আসুন হৃদয়ের কাছে..... ।ফোনে কথা বলুন..... উচ্চারণ করুন সেই শক্তিশালী শব্দটা....." ভালবাসি.... ভালবাসি...ভালবাসি"।
আর এমনই এক চাঁদনী রাতে আমি লিখি একটা কবিতা..... যার কিছু লাইন ...." আহা চাঁদ, তুমি কেন ব্যাথা বাড়াও..... জোছনার কুয়াশায় পথ ঘাট ভাসালে তুমি .... আমার হৃদয় শুধু শূন্য অপার........"
আবারও সবাইকে শুভ পূর্ণিমা....... আর প্রিয়তমা তোমাকে " ভালবাসি"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

