নারী-পুরষের সমতা নিয়ে গোটা পৃথিবী ব্যাপী মাতামাতি চলছে। আমি এটাকে একটি অহেতুক মাতামাতি মনে করি। নারী এবং পুরুষ কখনো সমান হবে না। সমান করা সম্ভব নয়। অধিকারের প্রসঙ্গে আমার মতে নারীদের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি। নারীদের জন্য কবিরা প্রেমের কবিতা লিখেন, পুরষরা তা হট কেকের মতো লুফে নেন। কই, পুরুষদের নিয়ে তো তেমন প্রেম-কাব্য লেখা হয় না। নারীদের মধ্যে কি কবি নেই?
কোন কোন নারী মনে করেন পুরুষরা যা করে সেটাই আদর্শ বা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। এটা তাদের ভুল। একটা কাজ পুরুষরা করলেই সেটাকে উন্নত আদর্শ বা ভালো বলার অবকাশ নেই। পুরুষরা দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করে। বাংলাদেশের এক মহিলা পত্রিকার কলামে ছেলেদের মতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি এখন দেশছাড়া, বিদেশের পথে পথে ঘুরছেন। প্রায় এক দশক থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেত্রী নারী হলেও ওই মহিলাকে দেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ কেউ নেননি। কোন নারী এখনো ছেলেদের মতো খালি গায়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াবার আব্দার করেন নি। তবে আগামীতে কেউ যে করবেন না তা হলফ করে বলা যায় না। কিন্তু এটা কি বাস্তবে কেউ করতে পারবেন? ইউরোপ-আমেরিকার নারীদের পোষাক বাংলাদেশের মতো নয়। কিন্ত তারা কি গরমের সময় খালি গায়ে চলাফেরা করে? না করে না। এর কারণ শালিনতাবোধ।
আমাদের এক ব্লগার বন্ধু নিজের ব্লগে নারীদের অধিকার নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ঘোমটা বা চুড়ি পরতে চান না। আপনি ঘোমটা দিবেন কি না, চুড়ি পরবেন কি না অথবা বোরখা পরবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার। কেউ আপনাকে তা করতে বাধ্য করছে না। আপনার ব্যক্তি স্বাধীনতায় আমি বিশ্বাস করি। তবে অতীতের মতো আজকালও অনেক পুরুষকে চুড়ি পরতে বা ঘোমটা দিতে দেখা যায়। দুনিয়টা ঘুরে দেখুন। ছেলেরা যে হুডি পরে এটা কি ঘোমটা নয়? মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষরা সব সময় মাথা এক টুকরা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে। এ সকল পুরুষদের নিজস্ব পছন্দ। এর মানে কি এ ভাবে চলার নামই স্বাধীনতা? পুরুষরা যা করে তা করার নাম স্বাধীনতা নয়। পুরুষরা যা করে তা করার মধ্যে কোন আভিজাত্য বা কৃতিত্ব নেই। আপনার জন্য যা শোভন বা যা করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তা-ই আপনি করবেন। সেটা আপনার ব্যক্তি স্বাধীনতা।
আপনি তো কাপড় পরে জন্মাননি, তা হলে কেন কাপড় পরেন? কাপড় আমাদের শালিনতার প্রতীক এবং কাপড় পরলে মানুষকে সুন্দর দেখায়। কারো কাছে কাপড়কে বন্ধন মনে হতে পারে। এটা তাদের নিজস্ব রুচিবোধ। এ ধরণের বেমানান রুচিবোধ যাদের রয়েছে মানুষ তাদের ভিন্ন ভাবে মূল্যায়ণ করে।
কোন নারী যখন পুরুষের সাথে তুলনা করে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিচার করে তখনই বাঁধে বিপত্তি। আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতা আপনি সংরক্ষণ করুন। এ কাজে আপনি আমাদের সহযোগিতা পাবেন। পুরুষদের সাথে নিজেকে তুলনা করবেন না। পুরুষরা অনেক কাজ করতে পারে না, নারীরা পারে। এটা নারীদের শ্রেষ্ঠত্ব। পুরুষ সন্তান ধারণ করতে পারে না, সন্তানকে দুধ খাওয়াতে পারে না। প্রতিদিন তাদের দাড়ি-গোঁফ কাটতে হয়। চট করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মেয়েদের মতো মানুষকে আদর-সোহাগ করতে পারে না। এটা পুরুষদের সীমাবদ্ধতা। এসব নিয়ে কোন পুরষ যদি হায়-হুতাশ করে তা হলে তা হবে তার জন্য হীনমন্যতা। নারীদের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য।
আসল কথা হচ্ছে নারীকে পুরুষ বা পুরুষকে নারী বানানোর চেষ্টা একটা অর্থহীন প্রচেষ্টা। নারী এবং পুরুষ উভয় মানব প্রজাতির অবিভাজ্য অংশ। কাউকে বাদ দিয়ে বা ছোট করে মানব জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


