সাংবাদিকের ওপর হামলা
গফরগাঁওয়ের সাংসদের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করুন
গফরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের সাংসদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের অনুগত সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল আমীনের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মারাত্মক আহত করেছে। তিনি এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুধু তা-ই নয়, সাংসদের সন্ত্রাসীদের ভয়ে অস্থির সেখানকার অন্য সাংবাদিকেরাও। ২৩ জন সাংবাদিক নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গফরগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ-এ যেন শুধু সত্য নয়, এক মহাসত্য। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অনেক আলামত দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। গফরগাঁওয়ের এমনই কিছু দুর্বৃত্তপনার খবর প্রকাশের ‘অপরাধে’ বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০০ দিনের মাথায় সাংবাদিক পেটানোর ঘটনাটি ঘটেছে, যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ আমলে সাংবাদিক নির্যাতনকারী বেশ কিছু সাংসদের বেপরোয়া কার্যকলাপ আমরা দেখেছি, যা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। এই সাংসদ ও তাঁর অনুগত পেটোয়া বাহিনীকে এখনই থামানো প্রয়োজন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার মাত্র ১০০ দিন পার করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ যদি সত্যিকার অর্থেই দিনবদল চায়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে। কিন্তু তাদের সে চাওয়াটা যে সত্য, তা তাদের কর্মে প্রমাণ করতে হবে। এ ধরনের সাংসদ বা তাঁদের বাহিনীর তৎপরতা যেকোনো মূল্যে দমন করতে হবে।
আমরা চাই, গফরগাঁওয়ের এই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। ঘটনার সঙ্গে সাংসদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া এবং আইনের হাত আরও শক্তিশালী করাটাই হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়।
সুত্র: প্রথম আলো

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


