তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
ভারত ভেঙে ভাগ করো !
তার বেলা?
ভাঙছ প্রদেশ ভাঙছ জেলা
জমিজমা ঘরবাড়ী
পাটের আড়ত্ ধানের গোলা
করখানা আর রেলগাড়ী !
তার বেলা ?
চায়ের বাগান কয়লাখনি
কলেজ থানা আপিস-ঘর
চেয়ার টেবিল দেয়ালঘড়ি
পিয়ন পুলিশ প্রোফেসর !
তার বেলা ?
যুদ্ধ জাহাজ জঙ্গী মোটর
কামান বিমান অশ্ব উট
ভাগাভগির ভাঙাভাঙির
চলছে যেন হরির-লুট !
তার বেলা ?
তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
বাঙলা ভেঙে ভাগ করো !
তার বেলা?
পাদটীকাঃ
অন্নদাশঙ্কর রায়ের এ ছড়াটি আমার ভালো লাগে নিছক ছন্দের কারণে নয়। এটা কি ছড়া না ছড়া-কবিতা সেটাও একটা বিবেচনার বিষয়। ছড়ার বক্তব্যটিও প্রণিধানযোগ্য। ভারত ভাগ মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মানুষে মানুষে বিভেদের বীজ অমানুষরা-ই ছড়ায়। যে রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে ভারত ভাগ হয় সেটা নিয়ে মুক্তমনে নতুন বিবেচনার সময় এসেছে। ভারত ভাগ কেন হয়েছে, কে করেছে - এর মীমাংসা এখনো হয়নি।
মাওলানা আজাদ ভারত-ভাগ চাননি। জিন্না-লিয়াকত আলীরা ভারত ভাগ করতে পারতো না যদি কংগ্রেস এবং বাঙালির এতে সমর্থন না থাকতো। ভারত ভাগ হলেও বাংলা ভাগের প্রশ্ন ছিল না। শরৎ-আবুল হাশিম প্রাণপন চেষ্টা করেও বাংলা-ভাগ ঠেকাতে পারেননি। সেটা হয়েছে কংগ্রেসের কারণে। জার্মেনির একীভূত হওয়া, সার্ক গঠন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যূদয় ইত্যাদি সামনে রেখে উপমহাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার। ৭০ সালে পশ্চিমবঙ্গে একটি পরিচয়হীন গোষ্ঠী 'এপার বাংলা ওপার বাংলা - এক বাংলা' শ্লোগান দিয়েছে। ভারতবর্ষের সকল রাষ্ট্র মিলে একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠনের যৌক্তিকতাও উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই। এ সকল চিন্তার প্রেক্ষিতেই অন্নদাশঙ্করের বহুল পঠিত এ ছড়াটি উপস্থাপিত হলো। বিজ্ঞ পাঠকরা এ ব্যাপারে তাদের সুচিন্তিত বিশ্লেষণ নিয়ে এগিয়ে এলে খুশি হবো।
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


