মেলাঘর
মৃত্যুবার্ষিকীর বিজ্ঞাপনে ভাসে চোখ
পুরনো অ্যালবাম ছেড়ে উঠে আসে সুখী ফটোগ্রাফ
দামামা ছাড়াই মেলাঘরে জমা হয় লোক
দুঃখী স্বজন সাথী নগদ পয়সা দিয়ে ছাপে এপিটাফ
খবরের কাগজের উতল দালানে।
দামামা আসলে বেজেছিল,
মেলা তো জমে না তা না হলে
কোন ঘর, নাকি কোন বাড়ির উঠান
উজিয়ে থাকা অশহর
নিরালা মরচে ধরা সুপারি বাগান
মেলাঘরে জমা হয় লোক
শব্দহীন দামামার ডাক, বুকের ভেতরে স্রোত
আগুনের শব্দে তাক করে-
বেহুদাই বিধে থাকে স্মৃতির তিতির।
অগ্রিহোত্রী শান্ত হলে
বয়সী দুঃখ ভুলে কেউ কেউ
ফটোগ্রাফে বাসাটি বোনেন
মেলাঘর যক্ষ হয়, পাহাড়া দেয়
অগুণতি রক্তাক্ত পাখার পিদিম।
জীবন বীমা
বীমার বাথানে বেঁচে থাকি
ধুমপায়ী শ্রাবনের স্রোত
দিবানিশি যাওয়া আসা করে
সমুদ্রের কূলনাশি হাওয়া
কত কি বাঞ্ছা করে রয়।
মানুষের অবোধ উঠানে-
সকরুণ বেনু ফেলে উঠে যায়
নির্জলা মায়াময় পথ।
নীল সহবৎ।
জীবন বীমার পাতা
গুণে গেঁথে স্থির করে
আমাদের মৃদুমন্দ আয়ু
দীর্ঘ পথ, স্বল্প পরমায়ু,
ক্ষয়ক্লান্ত, দাঁত কামড়ে
জপে চলি
শূণ্যে দোলানো কিছু
বায়বীয় প্রাণ
সেই সঙ্গে দৈনন্দিন পাস্তুরিত ভান।
কাঠ করতাল
কাঠ করতাল পানসি বায়
গুটি গলায়, বাটি গলায়
কাঠ করতাল ছড়ায় রোদ
রিরংসায়।
হাস্যে লাস্যে কিশোর তোষ
জানিয়ে দেয়- থাকে কোথায়
বিলের ধারে, ছানবে স্রোত
দু এক শোয়া, মাপবে সকাল
চাখবে সন্ধ্যা, তড়িৎ শীষে
সংগীতায়।
বাদ্য বাজনা ভুস করে
ভাসে, কি মুশকিল
তোড়নহীন পৌঁছে যায়
দীপান্তরে। দিনের শেষে
বাজনাদার নুড়ি কুড়ায়
কাঠ করতালের দেশে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


