ওরা কারা?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকালের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র যুবকের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিবদমান সব পক্ষেরই দাবি, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা শামিল হয়েছিল ছাত্র সংঘর্ষে। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে কেউই স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে রাতেই অবস্থান নিয়েছিল ৮-১০ জনের বহিরাগত সশস্ত্র গ্রুপ। পিস্তল, ককটেলসহ তারা ভোর পর্যন্ত মসজিদেই অবস্থান করে। ফজরের নামাজের পর তারা গেটের কাছাকাছি পৌঁছায়। সকাল সোয়া ৬টার দিকে যখন দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন এসব অস্ত্রধারী
গুলিবর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষেও অংশ নেয়। পুলিশি প্রতিরোধ শুরু হলে তারা দ্রুত সটকে পড়ে। তাদের কেউ কেউ আহত হলেও কাউকে হাসপাতালে অনুসন্ধান করে পাওয়া যাচ্ছে না। ভোর ৫টার দিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে দুটি মাইক্রোবাস থেকে নামে ১২-১৪ জন। তারা উত্তরাঞ্চল থেকে সশস্ত্র অবস্থায় সেখানে পৌঁছায় এবং সংঘর্ষে অংশ নেয়। মাফলার দিয়ে মুখ ঢাকা এসব যুবকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশ সংঘর্ষে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করলেও গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষের শুরুতেই ছাত্রদলের দুই গ্রুপ ভীতি ছড়াতে একে অপরের উদ্দেশে ককটেল নিক্ষেপ করে। বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে অনেকে জানায়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। সেখানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে একজন বহিরাগত আহত হয়। পরে বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা প্রশাসনিক ভবন, জসীমউদ্দীন ও সূর্যসেন হলের আশপাশে অবস্থান নেয়। সেখানেও মুখ ঢাকা কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে দেখেছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা যখন মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের আশপাশে অবস্থান নিচ্ছিলেন, তখন তাঁদের সঙ্গেও বেশ কিছু অপরিচিত মুখ দেখা গেছে।
ছাত্রদলের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক আহসান উদ্দিন খান শিপন বলেন, 'মধ্যরাত পর্যন্ত আমরা কেন্দ্রীয় মসজিদের আশপাশে অনুসন্ধান করেছি, তখন কাউকে দেখিনি। তবে ভোরে কিছু অস্ত্রধারী বহিরাগতের সহায়তায় অবাঞ্ছিতরা ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন সংঘর্ষ হয়।'
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা বলেন, ছাত্রদলের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাই বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আবদুল আহাদ কালের কণ্ঠকে জানান, সংঘর্ষের সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে চাপাতি ও লাঠিসোঁটা। এসব উদ্ধার করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা যায়নি।
সুত্রঃ কালের কন্ঠ
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




