somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় কবিতাঃ শিবানি - ফরহাদ মজহার

০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিবানি বন্দনা - ১
যখন কোনো আর্য নাই, অতএব অনার্য নাই। যখন কোনো আর্যের অধীন পরাধীনতা নাই, যখন মানুষ স্বাধীনতা শব্দ শেখে নি, স্বাধীনতার অর্থ জানে না, কারণ নিজের অধীন হয়ে থাকার কোনো অর্থ হয় না। যখন দেয়াল ছিল না, দেয়ালের লিখন ছিল না, যখন তুলি, তালপাতা, কালি কলম, বেদ, শাস্ত্র, ধর্মগ্রন্থ বিজ্ঞান বিদ্যা কিছুই ছিল না। যখন টেলিভিশান নাই কম্পিউটার নাই, বিজ্ঞাপন বিল বোর্ড কিছুই নাই—ইতিহাসের আগে বৃহৎ বাংলা যখন মেনকার কামে গিরিরাজের ঔরসে কেবলি খোয়াবে ও ঘামে হয়ে উঠছিল, শিবানি, আমি সেই অবিস্মরণীয় স্বপ্নের বন্দনা করি।
যখন কোথাও কোনো ভেদ নাই ভেদবুদ্ধি নাই কোথাও কোন দাগ চিহ্ন পার্থক্যরেখা নাই, জাত পাতের ভেদ নাই স্তর নাই শ্রেণী নাই, কিন্তু ভৃঙ্গরূপে জগতে আছেন শুধু অনাদির আদি সেই অদ্বিতীয় ‘পুরুষ’—আর ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সকলেই যাঁর দাসী—সেই দাসসমাজে কেউ কোথাও আর্যেতর জ্ঞানে অপরকে ‘অনার্য’ বলে ডাকবার দুঃসাহস করে নি, শিবানি, আমি সেই অবিভাজ্য বর্তমানের বন্দনা করি।
ঠিক। আমি মাথা তুলেছি হিমালয়ে, পলিতে কাদায় তোমার লজ্জা হয়ে ছড়িয়ে গিয়েছি সমতলে, কিন্তু বঙ্গোপসাগরে আমিই সেই নুনের ভাণ্ড—ধরে রেখেছি পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র; ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না হয়ে যে কুলকুণ্ডলিনী ধারা তোমার ভূগোলে মিলিত হয়েছে, শিবানি, আমি সেই ত্রিবেণীর বন্দনা করি।
যখন দেশ নাই কাল নাই পাত্র নাই, দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ কিছুই নাই, যখন পরিমাণ বা গুণ সকলি অবিকশিত, নিঃশব্দে সেই অপূর্ব বিন্দুর মধ্যে শব্দ হয়ে ছিলাম আমি শিবানি—আমিই সেই শুক্রবীজ, দেকার্তের বাবা, জ্যামিতির আদি: —কারণ-পদার্থ সেই বিন্দুর আমি বন্দনা করি।
যখন আমি বনবাসী, বনের মধ্যে বাঘ, ভল্লুক আর সিংহের বৃত্তের মধ্যে তৃণভোজী বুনো মোষ, হরিণ কিম্বা হনুমান, যখন খাদ্য ও খাদকের মধ্যে আমার বয়স বাড়ছে, কাটছে আমার দিন, যখন আমি সংগ্রহ করছি সবুজ ও মধুর চাক আর পরস্পরের শরীরে আমরা চাষ করে চলেছি বিশ্বনিখিল; কিম্বা যখন আমি সবে মাত্র শবর কিম্বা ব্যাধ, কাঁধে আমার ধনুক আর তীর—কুড়িয়ে শিকার করে খেয়ে দেয়ে কাটছে প্রকৃতির অক্ষরেখায় প্রাকৃতিক আমার দিন: যখন হয়ে উঠছিলাম কাঠের লাঙল, বোকা বদল আর কৃষকের হুট হাট, তারও আগে তারও বহু কোটি আলোকবর্ষ আগে আমি ছিলাম বাতাসের খুশি, নক্ষত্রের গতি আর বৃক্ষের ফটোসিনথেসিস। সূর্যের আগুন ধারণ করে যিনি সবুজ কিম্বা প্রকৃতি, শিবানি, আমি সেই আলোক সংশ্লেষণের বন্দনা করি।
নাকি ছিলাম মঙ্গলগ্রহে? ছিলাম নাকি ইউরেনাসে কিম্বা প্লুটোয়? কিম্বা ছিলাম বৃহস্পতির বাষ্প, কিম্বা কোথাও বুঝি ঘটেছিল আমাদের এনকাউন্টার অব দ্য থার্ড কাইন্ড—যখন ভেতর ও বাহির উভয় চোখে প্রথম আমাদের চোখ চাওয়া চাওয়ি হয়, সেই আমাদের প্রথম এবং শেষ দেখা, শিবানি, আমি সেই অপলক মুহূর্তের বন্দনা করি।
এরপর এল দেবতাদের যুগ, আর আমরা সকলেই দেবতাদের চোখে অসুর হয়ে উঠলাম। যখন দেবতা ও অসুরের মধ্যে মরণপণ যুদ্ধ হয় আর অসুরদের পরাজিত ও হত্যা করবার জন্য যখন দেবতারা আমাদের ‘জঙ্গি’ বলে চিহ্নিত করতে শুরু করে, শিবানি, আমি সেই ওয়ার এগেইনস্ট টেররের ভেতর থেকে পয়দা হয়ে এসেছি। আমি সেই অসুর। আমিই সেই জঙ্গি। সকল প্রকার বেদ, শাস্ত্র, আইন ও রাষ্ট্রের বাইরে যে গুয়ান্তানামো তার ঘুলঘুলির মধ্যে বসে আছি আমি বাংলাদেশের চড়ুই—সন্ত্রাস কিম্বা শান্তি, রাষ্ট্র কিম্বা নৈরাজ্যের ভেতর ও বাহির উভয় দিকই আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি। কসম শিবানি, সকল প্রকার দেবতার বেদ, শাস্ত্র, ধর্মতত্ত্ব ও টেকনলজির জগৎ ধ্বংস করবার জন্যই আমার জন্ম, আর তুমিই সেই কসম—আমি সেই কসমের বন্দনা করি।
হাঃ হাঃ হাঃ মৃত্যু ভয়ে ভীত দেবতারা অমৃত চেয়েছিল, শিবানি, অথচ তারা নাকি ‘দেবতা’, কিন্তু তারা অমর হতে চায়। যখন সমুদ্রমন্থনে উঠে এল বিষ, ঐ কাগুজে দেবতারা প্রাণভয়ে পালাল, আর তখনই বিষ ও অমৃতের মাঝখানে ঠিকই এসে দাঁড়ালেন তোমার শিব, জগদীশ্বর মহাদেব। জগৎকে বিষ ও বিষপতনের প্রলয় ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য অমৃত জ্ঞানে তিনি পান করলেন সেই গরল। দৃশ্য ও অদৃশ্য সকল প্রাণ ও অপ্রাণীবাচক সৃষ্টি ঊভয় রক্ষার সেই অপূর্ব বিষপানের মুহূর্ত, শিবানি, আমি সেই অমর দৃশ্যের বন্দনা করি।
বিষের জ্বালায় শিব নীলকণ্ঠ, দিশেহারা, তখন নিজের হিমঠাণ্ডা শরীর দিয়ে যে সরিসৃপ তাঁর গলা লতিয়ে ধরে রেখে সেই জ্বালা উপশম করেন, আমি সেই নাগেশ্বরের ফণার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে আছি কোটি বছর, মোহাবিষ্ট। নীলকণ্ঠের গলায় যিনি মালা, শিবানি, আমি সেই শীতলতনু বিষধরের বন্দনা করি।
যখন মিছিল ও মিটিং, বিপ্লব ও রক্তপাত, যখন সকলে ‘মুক্তি’ দাবি করে শিবানি সেখানে আমি দাবি করি দাসত্ব। আমার ব্যানার আমি ঝুলিয়ে দিয়েছি সর্বত্র, আমি মুক্ত, অতএব স্বেচ্ছায় অপরের দাস হতে আমার বাধা কই? মনের মানুষ মনে রেখে অপরের দায় উসুল করতে গিয়ে আমি ভিখারি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতি রাধিকার যে দাসত্ব করে গিয়েছেন, শিবানি, বঙ্গে আমি সেই দাসত্ব আস্বাদনের ফকির, আমি সেই দাসত্বের বন্দনা করি।
কে জানত যে মানুষ একদিন নিজেরই পাপে ‘স্বাধীনতা’ নামটি আবিষ্কার করবে, কিন্তু করবে পরাধীনতার বিপরীতে। কে তাদের বলবে নিজেরা পরাধীন হবার পর, পরাধীনতা-হীনতার যে আকাক্সক্ষা তার মধ্যে স্বাধীনতার সংকল্প নাই, স্বাদ নাই। এই সেই ঐতিহাসিক মানুষ যারা স্বাধীনতাকে পরাধীনতার বিপরীত শব্দ ছাড়া বুঝতে অক্ষম। কে জানত যে প্রাকৃতিকতার গর্ভ থেকে চ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষকে ‘মুক্তি’ ‘মুক্তি’ বলে চিৎকার করতে হবে। যখন মুক্ত ছিল বলে ‘মুক্তি’ শব্দের অর্থ জানত না কোনো মানুষ, ‘শিবানি’, আমি সেই অনৈতিহাসিক অজ্ঞান আনন্দের বন্দনা করি।
আজ ১৪১৫ চৈত্র সংক্রান্তির দিনে জানি না কেন ‘শিবানি’-ই আমার নামমন্ত্র হয়ে উঠছে, হয়ে উঠছে আমার নামাশ্রয়। জানি যে আমি ডানে যাচ্ছি না, বামেও না, উর্ধ্বে নয়, অধোও নয়। যেখানে যাচ্ছি সেখানে আগে কি কারো পা পড়ে ছিল? পড়ে আছে কি কারো পায়ের ছাপ, কোনো চিহ্ন বা দাগ? যাচ্ছি পিছলে, হামাগুড়ি দিয়ে, ডিগবাজি খেয়ে, যেন কেউ আমার পিছু নিতে না পারে। যারা আমাকে অনুসরণ করবে তারা যেন পথের ভয়ে আমাকে ত্যাগ করে, পথের তকলিফ মেপে নিয়ে ফিরে যায় যার যার গোপন গর্তে। যাচ্ছি কারণ এই সেই যাত্রা যা কবি মাত্রেরই একান্ত নিজের। মৃত্যুর মতো ভারি অথচ মধুর এই গমন। যারপরনাই নিঃসঙ্গ অথচ প্রেমে আনন্দিত। আমি যাচ্ছি, শিবানি, আমার চোখে জল, কিন্তু আমি নির্ভয়—আমি সেই অচিহ্নিত গন্তব্যের বন্দনা করি।
বাংলাদেশ নিজেকে নিজে ধ্বংস করবার আগে আমাকে শোনাতে হবে সেই গান যা ছিল অনার্য দেবতা শিবের অপূর্ব ধর্মসঙ্গীত। এই সেই শিব যার কোনো ধর্ম ছিল না, স্যেকুলারিজম ছিল না, ছিল না ফ্যাসিজম, গণতন্ত্র কিম্বা সমাজতন্ত্র; এমনকি শিব শ্মশানবাসী হয়েও কমিউনিজমের অর্থ জানত না, জ্যান্তে-মরা হয়েও মহাদেব সাধুর মতো সাদা পোশাক পরল না শিবানি, বরং গায়ে মাখল ছাই, আর হয়ে রইল দিগম্বর—বৈদিক পুরোহিতগণ তার হাতে ত্রিশূল আর পরনে বাঘছাল তুলে দেবার আগের যে দিকবসন মুহূর্ত, সেই আপাদমস্তক নগ্নতার আমি বন্দনা করি।
আমি শিশুর মতো ন্যাংটা হয়ে তোমার কাছেই ফিরে এসেছি আবার, শিবানি, কী আছে আমার কাব্য ছাড়া! আছে দুই একটি চিহ্নসর্বস্ব শব্দ ও অক্ষর যাদের ভাঁজের মধ্যে আমি বামন হয়ে চাঁদ ধরার সাধ করি, ধরে ফেলতে চাই তোমাকে। তোমার নাম ও অস্পষ্ট সব গল্প শুনে পথে বেরিয়ে পড়েছি আবার। গল্পের ভেতর গল্প হয়ে হেঁটে যাচ্ছি, চলে যাচ্ছি পুরাণ থেকে পুরাণে। আমাকে সংগ্রহ করতে হবে সেই সব রক্ত, হাড় ও করোটির অবশিষ্ট যাতে বাংলাদেশ শতখণ্ডে বিভক্ত হবার আগে তাদের জড়ো করে বানাতে পারি তোমাকে, সবাইকে দেখাতে পারি তোমার ছবি, শোনাতে পারি অখণ্ড এক নিখিলের কেচ্ছা একমাত্র কবির পক্ষেই যা সম্ভব।
তারপর তোমার পদারবিন্দে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ব আমি, ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শিব, একালে যাকে তুমি ‘কবি’ বলে ডাক। ধর্ম, পুরাণ ও ইতিহাস অতিক্রম করে আমাকে ফিরতে হচ্ছে বর্তমানে, যে প্রেমে কাব্যকে সম্মুখ সমরে ধাবিত করো তুমি শিবানি, আমি সেই দিব্যজ্ঞানের বন্দনা করি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×