somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিজিটাল বাংলাদেশের নমুনা!

১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারি ইডেন কলেজের ছাত্রীরা হঠাৎ কেন বিদ্রোহ করলেন? এর সন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে নানা তথ্য। এই ছাত্রীরা বলেছেন, তারা নিঝুম ও তানিয়ার গ্রুপেরই রাজনীতি করতেন। তাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতেই তারা বিদ্রোহ করেছেন। শুক্রবার তারা বিক্ষোভ করলেও বেশ কিছুদিন আগেই তারা এ বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্যাতিত ছাত্রীরা আবেগাপ্লুত হয়ে বর্ণনা করেছেন তাদের ওপর নির্যাতনের কথা।
বিভিন্ন নেতার বাসায় পাঠানো ছাড়াও কলেজের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজের জামা-কাপড় পরিষ্কার করা, শরীর ম্যাসাজ করাসহ তাদের দিয়ে সব ধরনের কাজ করাতেন। ছাত্রীরা জানান, কেউ কথামতো কাজ না করলে বিভিন্ন অভিযোগ এনে হল থেকে বের করে দিতেন। গ্রাম থেকে আসা প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের টার্গেট করতেন নিঝুম ও তানিয়া। মেয়েদের সাজিয়ে বের হতেন রাত ১০টার পর। কখনও সিনেমা আবার কখনও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বের হতেন নিঝুম ও তানিয়া। হলে ফিরতেন সকাল ১০টার পর। এভাবেই চলছে নিত্যদিন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী শর্মিলা বলেন, আমাকে সবসময় নির্যাতন করতেন। আমি টাকা দিয়ে উঠতে পারিনি বলে নানাভাবে অপমান করতেন, আমাকে থাপ্পড় মারতেন। চরিত্র নিয়ে কথা বলতেন। আমার বিরুদ্ধে ব্লেম দিয়েছেন আমি তার কথা ফাঁস করে দিয়েছি। এটা মিথ্যা ব্লেম। আমাকে নানাভাবে অফার করতেন। নেতাদের বাসায় যেতে বলতেন। ফোন নম্বর দিতেন, কথা বলতে বলতেন নেতাদের সঙ্গে মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে কথা বলতে বলতেন। প্রথম বর্ষের মেয়েদের নিঝুম ও তানিয়া টার্গেট করতেন। তাদের সাজগোজ করিয়ে নানা জায়গায় নিয়ে যেতেন। সিনেমা দেখার নাম করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন। যারা তার কথা শুনতো না তাদের জুনিয়র কর্মীদের দিয়ে অপমান করাতেন। আমি প্রতিনিয়ত ঘরে বসে বসে কেঁদেছি। আমাকে বলতেন বিভিন্ন নেতার নম্বর নিয়ে হাই-হ্যালো করতে। আমি মাস্টার্সে পড়ি। মেয়েদের রাত ১০টার পর বাইরে নিয়ে যেতেন, সকালে আসতেন। হয়তো আমাকে ব্যবহার করতে পারেননি। সবসময় টার্গেট নেন প্রথম বর্ষের মেয়েদের। গ্রামের মেয়েরা কি বোঝে? তাদের বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছেন। মেয়েরা ভয়ে কথা বলতে পারছেন না। বাংলা বিভাগের ছাত্রী রিনি বলেন, নিঝুম-তানিয়া হল বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য করে। এমন কোন বাণিজ্য নেই যে তারা করেননি। প্রথম বর্ষের মেয়েরা তার নির্যাতনের ভয়ে কথা বলতেন না। কেননা তারা গ্রাম থেকে এসেছেন। তাদের ঢাকায় যাওয়ার জায়গা নেই। ইতিহাস বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ইয়াসমিন বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনকে ভর্তি বাণিজ্যের ভাগ দিতেন নিঝুম ও তানিয়া। এ বছরও ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। একই বর্ষের ছাত্রী স্বর্ণা বলে, নিঝুম প্রায় দিনই রাত ১০টায় হল থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে আরও মেয়ে থাকেন। অন্যদের বলে যান কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি আমি হলেই আছি। ছেলেদের নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাচল করেন। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মারধর করে বের করে দেন। অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুনা বলেন, নিঝুম-তানিয়া নিজেদের মতো সবাইকে বানাতে চান। তাদের কথামতো না কাজ করলেই চলে নির্যাতন। ইতিহাস বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ফারজানা বলেন, কিছুদিন আগে শিবির অভিযোগ দিয়ে কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন। আসলে তারা শিবির করতেন না। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কথা না শোনায় তাদের বিরুদ্ধে ‘শিবির’ অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী লিজা বলেন, তাদের কথা না শুনলে এমন কোন নির্যাতন নেই তারা করেননি। আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন নেতার মোবাইল ফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে কথা বলতে বলতেন। কথামতো কাজ না করলে হল থেকে বের করে দেয়াসহ নানা নির্যাতন চলে ছাত্রীদের ওপর।
Click This Link

৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×