সরকারি ইডেন কলেজের ছাত্রীরা হঠাৎ কেন বিদ্রোহ করলেন? এর সন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে নানা তথ্য। এই ছাত্রীরা বলেছেন, তারা নিঝুম ও তানিয়ার গ্রুপেরই রাজনীতি করতেন। তাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতেই তারা বিদ্রোহ করেছেন। শুক্রবার তারা বিক্ষোভ করলেও বেশ কিছুদিন আগেই তারা এ বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্যাতিত ছাত্রীরা আবেগাপ্লুত হয়ে বর্ণনা করেছেন তাদের ওপর নির্যাতনের কথা।
বিভিন্ন নেতার বাসায় পাঠানো ছাড়াও কলেজের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজের জামা-কাপড় পরিষ্কার করা, শরীর ম্যাসাজ করাসহ তাদের দিয়ে সব ধরনের কাজ করাতেন। ছাত্রীরা জানান, কেউ কথামতো কাজ না করলে বিভিন্ন অভিযোগ এনে হল থেকে বের করে দিতেন। গ্রাম থেকে আসা প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের টার্গেট করতেন নিঝুম ও তানিয়া। মেয়েদের সাজিয়ে বের হতেন রাত ১০টার পর। কখনও সিনেমা আবার কখনও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বের হতেন নিঝুম ও তানিয়া। হলে ফিরতেন সকাল ১০টার পর। এভাবেই চলছে নিত্যদিন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী শর্মিলা বলেন, আমাকে সবসময় নির্যাতন করতেন। আমি টাকা দিয়ে উঠতে পারিনি বলে নানাভাবে অপমান করতেন, আমাকে থাপ্পড় মারতেন। চরিত্র নিয়ে কথা বলতেন। আমার বিরুদ্ধে ব্লেম দিয়েছেন আমি তার কথা ফাঁস করে দিয়েছি। এটা মিথ্যা ব্লেম। আমাকে নানাভাবে অফার করতেন। নেতাদের বাসায় যেতে বলতেন। ফোন নম্বর দিতেন, কথা বলতে বলতেন নেতাদের সঙ্গে মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে কথা বলতে বলতেন। প্রথম বর্ষের মেয়েদের নিঝুম ও তানিয়া টার্গেট করতেন। তাদের সাজগোজ করিয়ে নানা জায়গায় নিয়ে যেতেন। সিনেমা দেখার নাম করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন। যারা তার কথা শুনতো না তাদের জুনিয়র কর্মীদের দিয়ে অপমান করাতেন। আমি প্রতিনিয়ত ঘরে বসে বসে কেঁদেছি। আমাকে বলতেন বিভিন্ন নেতার নম্বর নিয়ে হাই-হ্যালো করতে। আমি মাস্টার্সে পড়ি। মেয়েদের রাত ১০টার পর বাইরে নিয়ে যেতেন, সকালে আসতেন। হয়তো আমাকে ব্যবহার করতে পারেননি। সবসময় টার্গেট নেন প্রথম বর্ষের মেয়েদের। গ্রামের মেয়েরা কি বোঝে? তাদের বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছেন। মেয়েরা ভয়ে কথা বলতে পারছেন না। বাংলা বিভাগের ছাত্রী রিনি বলেন, নিঝুম-তানিয়া হল বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য করে। এমন কোন বাণিজ্য নেই যে তারা করেননি। প্রথম বর্ষের মেয়েরা তার নির্যাতনের ভয়ে কথা বলতেন না। কেননা তারা গ্রাম থেকে এসেছেন। তাদের ঢাকায় যাওয়ার জায়গা নেই। ইতিহাস বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ইয়াসমিন বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনকে ভর্তি বাণিজ্যের ভাগ দিতেন নিঝুম ও তানিয়া। এ বছরও ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। একই বর্ষের ছাত্রী স্বর্ণা বলে, নিঝুম প্রায় দিনই রাত ১০টায় হল থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে আরও মেয়ে থাকেন। অন্যদের বলে যান কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি আমি হলেই আছি। ছেলেদের নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাচল করেন। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মারধর করে বের করে দেন। অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুনা বলেন, নিঝুম-তানিয়া নিজেদের মতো সবাইকে বানাতে চান। তাদের কথামতো না কাজ করলেই চলে নির্যাতন। ইতিহাস বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ফারজানা বলেন, কিছুদিন আগে শিবির অভিযোগ দিয়ে কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন। আসলে তারা শিবির করতেন না। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কথা না শোনায় তাদের বিরুদ্ধে ‘শিবির’ অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী লিজা বলেন, তাদের কথা না শুনলে এমন কোন নির্যাতন নেই তারা করেননি। আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন নেতার মোবাইল ফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে কথা বলতে বলতেন। কথামতো কাজ না করলে হল থেকে বের করে দেয়াসহ নানা নির্যাতন চলে ছাত্রীদের ওপর।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



