somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি রিজিওনাল ট্রানজিট সই করেছিল ৮০ সালে

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রানজিট ইস্যুতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কী? বিএনপি কি ট্রানজিটবিরোধী? সরাসরি উত্তরে কেউ 'না' বলে না। বিএনপি বলে, যে কোনো চুক্তি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। এ প্রসঙ্গে সরকারের সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ট্রানজিট নিয়ে বিএনপি কখনোই বিরোধিতা করতে পারবে না। কারণ ১৯৮০ সালে বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে রিজিওনাল ট্রানজিট চুক্তি সই করেছিল। এদিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আসন্ন সফরে ট্রানজিট চুক্তি সই হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। সরকারের সচিব পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা বলেন, রিজিওনাল ট্রানজিট চুক্তিতে জিয়া সরকারের পক্ষে তখন স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তানভীর আহমদ সিদ্দিকী আর ভারতের পক্ষে বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে বিএনপির বর্ষীয়ান সাবেক নেতা তানভীর আহমদ সিদ্দিকী বলেন, রাজনীতির জন্য যে দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা দরকার, প্রেসিডেন্ট জিয়া ও ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে তা ছিল। তারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সরকারিভাবে 'রিজিওনাল ট্রানজিট' চুক্তি হিসেবে তা অবহিত হয়েছিল। তবে সেখানে ভারত-বাংলাদেশ দুটি পক্ষ মাত্র ছিল না। চীন-ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটানকে নিয়ে এই রিজিওনাল ট্রানজিটের পরিকল্পনা হয়েছিল। চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডকে এই ট্রানজিটের অংশীদার করার পরিকল্পনা ছিল। ১৯৮০ সালে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তখন সার্ক গঠিত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছিলাম আমি। মনে আছে, ব্যালেন্স অব ট্রেড কমাতে বাংলাদেশ জিরো ট্যারিফ প্রস্তাব করেছিল। বাংলাদেশের জামাদানি শাড়ি ও চা জিরো ট্যারিফে ভারতে রপ্তানির প্রস্তাব দেওয়া হলো। ওরা প্রশ্ন রেখে বলল, যেহেতু ওদের চা আমাদের চেয়ে ভালো তাহলে তা নেবে কেন। আমি বললাম, আমাদের চা তোমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে আর তোমাদের চা তোমরা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করতে পারবে। ওরা অবাক হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভাবনার দূরদর্শিতায়। এভাবেই আমরা তখন ট্রেড অব ব্যালেন্স অনেকটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। ১৯৮০ সালের রিজিওনাল ট্রানজিট চুক্তি থাকার পরও নতুন করে দ্বিপক্ষীয় ট্রানজিট চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কেন। জানতে চাইলে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, আসলে ভারতের সরকারব্যবস্থা বা আমলাতন্ত্র অনেক শক্তিশালী। সরকার পরিচালনায় তাদের নিজস্ব নীতি রয়েছে। রাজনীতিবিদদের নীতিতে সরকার চলে না। ফলে রাজনীতিবিদদের অনেক সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা সাউথ ব্লকে গিয়ে আটকে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা খুব দুর্বল এবং রাজনীতি প্রভাবিত। বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে পূর্বাপর ঘটনা বিশ্লেষণ করে না। এদিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আসন্ন সফরের সময় কোনো ধরনের ট্রানজিট চুক্তি সই হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতেই ট্রানজিট বিষয়টি ছিল। ফলে নতুন করে আর কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই।
- আহমদ সেলিম রেজা
Click This Link
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×