ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আয়োজিত সাংস্ড়্গৃতিক অনুষ্ঠানে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। দেশে-বিদেশে ঘটা করে ছাত্রলীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের মাত্র একদিন পর সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ কুকীর্তি এ সংগঠনের গায়ে কালিমা লেপন করেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, সারাদেশের মতো সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচিতে সাংস্ড়্গৃতিক অনুষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য খুলনা থেকে এক শিল্পী দম্পতিকে নিয়ে আসা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিল্পী দম্পতি তাদের পারিশ্রমিক চাইলে ওই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের কৌশলে শহরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে ফেলার পর তার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর যদিও ছাত্রলীগের সাতক্ষীরা জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তবে দুষ্ড়্গর্ম সংঘটনকারীরা এক প্রভাবশালীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়ায় পুলিশ তাদের চিরাচরিত বুলিতে আসামিদের খঁুজে পাচ্ছে না বলে প্রচার করছে। যে থানার পুলিশ এরকম কথা বলছে, সেই থানার সন্নিকটেই ওই প্রভাবশালীর বাড়ি অবস্থিত। দুষ্ড়্গর্মের হোতাদের রক্ষা করার জন্য প্রশাসন ও সমাজের প্রভাবশালীরা যদি এরকম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন, তাহলে এ সমাজ থেকে অবক্ষয়-অনাচার কোনদিনই দূর হবে না। ছাত্রলীগের মূল দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের এদিকটি বোধহয় ভাবার সময় এসেছে। এক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শততম ধর্ষণ’ উদযাপনকারী ছাত্রলীগ কর্মী মানিকের ঘটনাটি সামনে এনে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তা কতটা প্রভাব ফেলেছিল, সে কথা তারা ভাবতে পারেন।
বর্তমান সরকারের মেয়াদে ছাত্রলীগ তাদের নানা অনৈতিক ও অপকর্ম সংঘটনের মাধ্যমে বারবার আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে। সারাদেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও শিক্ষাঙ্গনগুলোতে সন্ত্রাস সৃষ্টি ছাড়াও এ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত থাকার কথাও শোনা যায়। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বর্তমান সরকারের সুনাম যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়তে হচ্ছে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’র পদ থেকে পদত্যাগও করেন। ছয় দশকেরও অধিক বয়সী ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের যে কোন সংকটআর ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করায় সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত হলেও সাম্প্রতিককালের নানা ঘটনা আর কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে এর ললাটে এঁকে দেয়া হয়েছে কলংক চিহ্ন। এ বাস্তবতায় যারা নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয়- তাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে ছাত্রলীগ মূল দলের জন্য সংকটের যে বৃত্ত তৈরি করবে- তা থেকে বের হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




