সুন্দরী বালিকাদের যত্ন করে কামড়াই

জরুরি অবস্থার অগল্প

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১০:৩১

শেয়ার করুন:                   Facebook


এটি গল্প হয়ে উঠতে পারতো নিঃসন্দেহে, কিন্তু হয়ে ওঠার পথেই কিভাবে যেন জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়ে ছেদ পড়ে সেই প্রক্রিয়ায়। জরুরি অবস্থায় প্রেম বা কাম সিদ্ধ কি না তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দেয় সর্বত্র। সিদ্ধ হবার জন্য যা একবার চাপানো হয়, তা সিদ্ধ হবার আগে নামিয়ে নেয়া উচিত কি না তা নিয়েও সুশীল মহলে কথাবার্তা চলতে থাকে। কিন্তু আমি বেপরোয়া।

অগল্পের শুরু বৈশাখের অব্যবহিত পরে। আগেও শুরু হতে পারতো, যদি সে গল্প হতো। কিংবা কে জানে আগে শুরু হলে হয়তো সে গল্প হয়ে উঠতে পারতো। কিন্তু সবকিছুতে বাদ সাধে জরুরি অবস্থা।

বৈশাখের শুরুটাই মনোরম, অগল্পের শুরুটা হতে পারতো পহেলা বৈশাখে বটমূলের কয়েক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে, যেখানে বেয়াড়া বাঙালি নিতান্ত নরম মনোরম হয়ে সাজুগুজু করে জড়ো হয় নানা রঙের নিচে, কিন্তু আমার জরুরি অবস্থা আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। জরুরি বাঙালিনীদের সাথে তাই সাক্ষাত ঘটে না আর, গল্পটি অকালপ্রয়াত ব্যাঙাচির মতো মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে সেদিনের ঝড়ের আগ পর্যন্ত।

কিন্তু কেন আমি ঘুমাই, কেনই বা ঘুম থেকে জেগে উঠি, কেন সেদিন ঝড়ের মুখোমুখি পড়ি আমি সে আর আমাদের জরুরি অবস্থা, তা একটি গল্প হয়ে উঠতে পারতো অনায়াসে, কিন্তু তেমন গল্প লেখার অভ্যেস আমার নেই, মাপ করবেন। আমি ঝড় থেকেই শুরু করতে চাই, তা সে গল্পই হোক আর অগল্প।

ঝড়ে অনেক কিছু ওড়ে, কিন্তু সব কিছু ফেলে আমি খুঁজে বার করি খসে পড়া সবুজ রঙের ওড়না। যখন আচ্ছাদনের ডানা গজায়, আমি ভীষণ পুলকিত হয়ে উঠি। একটা কিছু খসে পড়ে একটা কিছু, বা দুইটা কিছু দেখে ফেলার এক ভীষণ আনন্দ দেখে ফেলার আগেই আমার বাড়ন্ত মনে বাসা ভাড়া নেয় অগ্রিম। আমি পটু চোখে কিছুক্ষণ পরই বালিকাকে আবিস্কার করি, সামনেই একটু ঘাড় কাত করে তাকাতে হয় এমন একটি বাড়ির ছাদে। বালিকা তেমন ধামসী নয়, হয়তো হয়ে উঠতে পারে, যেমন ব্যাঙাচি ব্যাঙ হয়ে ওঠে, কিন্তু আমি খুঁজে পাই সেই ঝোড়ো বাতাসের পাল্লায় পড়ে দিশেহারা তার বুক, ওড়নার নিচে যে আপনমনে নিজের মতো করে ছিলো, আচমকা বাতাস আর উদ্বাস্তু জলের ছাঁটে যে বাধ্য হয় কাপড়ের সাথে সেঁটে একদম বাকরুদ্ধ বিস্ফোরণের মতো একটা ব্যাপার হয়ে উঠতে, আমার অগল্প সেখানেই ঘুরপাক খেতে থাকে বুকের ভেতরে হাওয়ার মতো।

প্রথমে ভেবেছিলাম, জরুরি অবস্থা, কিন্তু মূহুর্ত গড়িয়ে যায়, বুঝি ব্যাপারটা নিছক জলপাই উত্থান বা অভ্যূত্থান নয়। জরুরি অবস্থার গিজগিজে হাটেও কেমন যেন ভরভরন্ত সমৃদ্ধির আশ্বাস আমাকে একটু বিশ্রান্ত করে তোলে, আকাশে বেগুনী মেঘের ফোলা পলিথিন ব্যাগের মতো মনে হতে থাকে বালিকাটিকে, মনে হয় যেকোন সময় যেকোন দিকে ভাসতে ভাসতে গলে গলে পড়তে থাকবে বেচারি। জরুরি অবস্থা নয়, আমার শরীরে স্পর্শ করে চারদিক পূর্ণ করে বইতে থাকা হাওয়ার মতো ভালোলাগা। ভালো লাগে এই সমৃদ্ধি দেখে। জরুরি অবস্থা নয়।

অগল্প গল্পের দিকে মোড় নিতে পারতো, কিন্তু আমার ঘরে ফোন বেজে ওঠে, আর বালিকাটিও তার ভেজা বুক নিয়ে সাংঘাতিক ক্লান্ত হয়ে যায় যেন, যেন সে অন্য কারো হাতেই এই পূর্ণতার ভার লাঘব করার দায় চাপানোর জন্যই ত্রস্ত হয়ে ছাদ ছেড়ে নিচে ছুটে যায়। আকাশে মেঘেরা দুলে ওঠে, আমি একটু বিষণ্ন হয় জনান্তিকে গালি দিয়ে উঠি।

 

 

  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ৫৯৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৪ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:৪২
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: গল্প হইসে কি না জানি না , তয় পড়ছি ।
২. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:৪৭
comment by: দৃশা বলেছেন: হুম গল্পটা হইলেও পারতো মাগার হইল না......আফসোস
হইল না কেলা?
৩. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:৫২
comment by: হোসেইন বলেছেন: হিমু ভাই,আমার ধারনা ছিল আপনি খালি হালকা লেখা লেখেন। মাই গড্! এইটা কী লিখলেন।

---------------
এই কে আছিস,দলে দলে ৫ দে।বুইঝা দে,না বুইঝাও দে।এইটা অনেকেরই মাথার উপর দিয়া যাইব গা,তবু ৫ দে। না বুইঝাও তুই একটা ভালো জিনিষ পড়ছস,এ জন্য ৫ দিয়া যা।
৪. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১২:০৭
comment by: হোসেইন বলেছেন: শালার ভালো লেখা কদর পায় কম।কদর পায় হোসেইন আর ত্রিভুজের বালছাল।চ্যাটের এক ব্লগ।
৫. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১২:০৮
comment by: বেন্ড হারাধন বলেছেন: ব্লগ তো চ্যাটেরই হইবো
৬. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:০৫
comment by: আবীর রেজা বলেছেন: বুজঝি ... তোরে বিয়া দেয়োন লাগবো ...
নাইলে তর মাথার মাল-ও নামবো না, আর সিরিয়াস লেখাও বাইরাবো না ...
৭. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:১১
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: ৫ দিলাম।বুঝেই দিলাম।@হোসেইন।
শুধু এই পোস্টের জন্য.আপনার আগাম ৩টা পোস্টে ৫ দিমু।তা যাই লেখেন,কোন অসুবিধা নাই।
৮. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:৫৮
comment by: অমিত বলেছেন: আবীর, বিয়া করলে যদি মাথার মাল নামতো তাইলে তুই আমি পয়দা হইলাম কেমনে ?? মাথায় যার উঠে, তারে বিয়া দিলেও উঠবো, না দিলে তো কথাই নাই..যাই হোক, আমগো হিমু ভাইয়ের মাথার মাল মাথায়ই থাক, যদি নামতেই হয়, ব্লগেই নামুক..
৯. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:৩৪
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: বুইঝা দিলাম কিনা জানি না,তবে মাথার ভিতরে কেমন ঘুরতাসে,৫ দিলাম,তবে ৫০ দিলেও খারাপ হইত না,৫ হইল মারামারির পোস্টের লাইগা,এইটা তো বিশুদ্ধ গল্প নয়তো অগল্প।
১০. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৩:৩১
comment by: হাসান মোরশেদ বলেছেন: 'খাঁচার পাখীটা তার সাহসী ডানার ঝাপ্টায় বলে, এই ঝড় দরকারী'

৫ এর বেশী দেয়ার সুযোগ নাই কেনো?
১১. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:১৫
comment by: স্বরহীন বলেছেন: জরুরী অবাস্থা...নো মন্তব্য
১২. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:৪২
comment by: হযবরল বলেছেন: এত প্রশংসার মাঝে, আলোচনা কিংবা সমালোচনা কোনটাই করা যায় না। জরুরী অবস্থাকে রুপক হিসেবে চমৎকার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এই অগল্পে। শুধু একটি বালিকার নবউন্নত প্রশস্তি গাঁথা গেয়ে একটা সকাল পার করা যায়, আসলেই যায়। চিয়ার্স এন্ড ওয়েলকাম টু বুয়েন্দিয়া ফ্যামিলি।
১৩. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৬:৩০
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: গল্পটা পছন্দের পোস্টে যোগ করালম,যদি অনুমতি দেন!
১৪. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৯:০২
comment by: খনড ত বলেছেন: চলমান.... ৫
১৫. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪
comment by: মুহম্মদ জুবায়ের বলেছেন: গল্পের ছলে ম্যালা কথা। আপনার তোড়ায় যা বাঁধা তা ঘোড়ার ডিম বলে মনে হয় না। লিখে যান।
১৬. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৫
comment by: লাল মিয়া বলেছেন: মাল মাথা থিকা নামা খারাপ।
১৭. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২১
comment by: আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন: হ্যাটস অফ!!
৫।

 



 


পেশায় তড়িৎপ্রকৌশলী, নেশা বই পড়া, গান গাওয়া আর শোনা;একটুআধটু ফোটোগ্রাফির চর্চা করি, অবসরে বন্ধুদের সাথে ট্রেকিঙে বেরোই। নারীলিপ্সু মানুষ, সামান্য...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৬৩২৮৫