আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

এলিজি ঃ মিথিলা

১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:৫৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

ম ৃতু্যর জন্য চমৎকার ছিলো দিনটি
আকাশ থেকে মোলায়েম তুষার ঝড়ে পড়ছিলো অনবরত
রাস্তার উষ্ণ স্নেহে গলে যাচ্ছিলো তার বুকে-
তুমি কি ওম পেয়েছিলে?
তুমি কি স্নেহ চেয়েছিলে, মায়ের বুকের নিরাপদ আশ্রয়?
অবশ্য চমৎকার ছিলো দিনটা
মৃতু্যর জন্য মনোরম দিন ছিলো আজ।

যেকোনো মৃতু্য সংবাদই আমাকে বিষন্ন ও ব্যাথিত করে। কৈশোরের মৃতু্যর মোহমুগ্ধতা কাটিয়ে উঠার পর থেকেই এই চাকচিক্যময় মৃতু্যবরন কিংবা মৃতু্য বিষয়ক ভাবালুতার প্রতি আমার স্পষ্ট বিরাগ। বাস্তবতার নিরিখে এই সামান্য শুন্যতা হয়তো কিছুই নয়- এলেবেলে মানুষের মৃতু্য তেমন আলোড়ন তুলতে পারে না পৃথিবীতে। বউ খুন করে ফাঁসির আগে আগে সংবাদ পত্রের কল্যানে প্রায় নায়কের মর্যাদা পেয়ে যাওয়া মনির খুকুর জীবনাবসান বেশ প্রার্থিত ও আকাংক্ষিত মৃতু্য ছিলো। তাদের মৃতু্যর জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছিলো মানুষ। ছিলো সিটকম কিংবা সোপ ওপেরার মতো ধারাবাহিক মৃতু্য দৃশ্য বর্ণনা। অশোভনতায় জর্জরিত অশ্ল ীল মানুষ মৃতু্য থেকেও যৌনউত্তেজনা পেতে চায়। অগোচরে এমন বর্ন ীল মৃতু্যর প্রতীক্ষা করে।
বাংলাদেশের ানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মৃশংসতার থাবা ফুঁসে ওঠে। কারো ফাঁসি হবে জানলে সংবাদপত্র কর্মিরা ঝাপিয়ে পড়েন- 2 কলাম, 4 কলাম, হেড লাইনসহ 8 কলামে কৎা জান্তব ভাবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ মৃতু্যর বিবরনী ছাপাটে পারবেন এ নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
আহা মরবার আগে তার শেষ ইচ্ছা ছিলো কাশ্মিরি আম খাবে-( জানি না কিভাবে এ ধারনা প্রচারিট হয়েছে ফাঁসির আগে আসামীর শেষ ইচ্ছা পুরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে।)

এলেবেলে মানুষ মরে যায় যেভাবে পুকুর থেকে জল উঠিয়ে নিলে আবার 2-1 ফোঁটা পুকুরে পড়তে থাকে, ধীরে ধীরে সে আন্দোলনও স্থিমিত হয় এবং আমরা ভুলে যাই কোথাও সামান্য শুন্যতা রয়েই গেলো।
প্রায় সবার অগোচরেই একটা মৃতু্য সংবাদ আসলো। নিয়মমফিক তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে ইন্না লিল্লাহে ইন্না ইলাইহে রাজেউন বলা শেষে বলতে হয় তাকে বেহশত নসীব করুন। এমন আনুষ্ঠানিক মৃতু্য সংবাদ লেখকদের কলম থেকে চিরপরিচিত শব্দ আসে হৃদযন্ত্রেক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। যদিও হৃদযন্ত্র কোনো ভাবেই শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে যুক্ত কোনো অঙ্গ না তবুও সংবাদ পত্রের পাতায় মৃত মানুষ উদ্ভট ভাবেই মরে যায়

আমি নিশ্চিত জানি এর পর কোনো শপথ নেই
শপথ নেই প্রজল্যমান কোনো নক্ষত্রের সেই আকাশের সেই ভুমির যা শস্য উৎপাদন করে
সেই স্রোতস্ব ীনির টলটলের জলের শপথ নেই কোনো
কোনো শপথেই আসলে মৃতের পুনরুত্থান সম্ভব নয়।
ডাস্ট উই আর এন্ড ডাস্ট উই উইল বি
আমাদের শরীর সম্পূর্ণ মাটি হয়ে যাওয়ার আগেই আমরা স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবো। আমাদের যা কিছু অর্জন সবটাই স্মৃতি। এবং আমি অস্তিত্ববান বলেই পৃথিবীর অস্তিত্ব আছে- এ সত্য বিস্মৃতি হয়েই মানুষের কৈশোরে মৃতু্যর মোহে পড়ে যায়।
আমরা যেমনটা ভাবি ইশ্বর তাই-আমরা মুর্ত কিংবা বিমুর্ত ধারনা করি বলেই ইশ্বর সেমত মুর্ত হয়ে উঠেন। আমরা ইশ্বর এবং ইশ্বর বিষয়ক পরিকল্পনার সাথে আমাদের অস্তিত্বের সমপ্রসারণ করে যাই
অবশ্য মৃতু্যই বাস্তবতা- অমরত্বের নিদান অনাবিস্কৃত তাই আমরা জরাগ্রস্থ হয়েই মৃতু্য বরন করবো। একটু সাবধানী জীবন যাপন করলে হয়তো বাড়তি 20 বছর-

তবুও আজ চমৎকার দিন ছিলো।
প্রকৃতি অকৃপন তোমার যাওয়ার মঞ্চ সাজিয়েছিলো।
সেন্ট্রাল পার্কের মাঝের পথগুলো সাদা তুষারে ঢেকে ছিলো যেভাবে মৃতু্যর হিমশীতল চাদর জড়িয়ে ধরে তেমন শীতল চাদরে ঢাকা ছিলো নিউ ইয়র্ক।
শুধু হাসপাতালের উষ্ণ কামরায় হয়তো এক বিন্দু স্নেহের অভাবে গলে যেতে পারলে না
তখনও অবিশ্রান্ত তুষার ঝড়ছিলো শহরের উদোম রাস্তায়
আর রাস্তার উষ্ণ আদরে গলে গলে যাচ্ছিলো
আর সেই গলে যাও শীতল পানিতে মিশে গিয়েছিলো অবিকল
তোমার প্রিয়জনের উষ্ণ আঁখিজল

মিথিলা তোমার মৃতু্যর দিনটা খুব চমৎকার ছিলো

 

প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা  বিভাগে ।

 

  • ১৬ টি মন্তব্য
  • ৩৩৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:২৮
comment by: অতিথি বলেছেন: অসাধারন
২. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৩১
comment by: অতিথি বলেছেন: সত্যিই অসাধারণ।
৩. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৩১
comment by: অতিথি বলেছেন: অসাধারণ অভিব্যক্তি!
৪. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৩৯
comment by: হযবরল বলেছেন: In a word '' awesome''

পুকুরের জল উঠিয়ে নেওয়ার উদাহরণটা ঠিক পরিমাণ মত। একেবারে শব্দের বাহুল্যহীন লিখা, অনেকটা মেদহীন নারীর মত।

শুধু হাসপাতালের উষ্ণ কামরায় হয়তো একবিন্দু স্নেহের অভাবে গলে যেতে পারলে না।
৫. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৪১
comment by: হযবরল বলেছেন: তবে দুঃখ হচ্ছে ঠিক এই টাইটেল দিয়ে আমি একটা লিখায় মনে মনে সুর দিচ্ছিলাম। আপনি ঠিক কিভাবে একই টাইটেল দিলেন সেটা বিস্ময়কর।
৬. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৫০
comment by: অতিথি বলেছেন: অসাধারণ কথাগুলো হৃদয়ে বিঁধছে বড়ো...
৭. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:১০
comment by: অতিথি বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে। আসলে ওয়াইজম্যান থিংকস এলাইক হযু।
৮. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:১৯
comment by: মাশীদ বলেছেন: মনটা খুব খারাপ। আগে ওর লেখা তেমন পড়া হত না। কিছুদিন আগেই হুট করে এক পোস্টে কমেন্ট চালাচালি করতে গিয়ে ওর সাথে যোগাযোগ, তারপর একদিন yahoo তে চ্যাট। একদিনেই মনে খুব দাগ ফেলেছিল মিথি। আমাকে yahoo তে রেগুলারলি থাকতে বলেছিল। আমি msn পাবলিক, থিসিস নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, yahoo তে থাকব বলেও আর তেমন একটা থাকা হল না এ ক'দিন। মাঝখানে আর 2-1 দিন হালকা কথা-বার্তা। ভেবেছিলাম আবার কথা হবে। হল না।

ওকে চিনেছিলাম বলেই কষ্টটা খুব তীব্র। অবাক লাগছে খুব এটা কিভাবে হল। এভাবে হুট করে চলে গেলই বা কেন আর এত ব্লগার থাকতে কেনই বা হুট করে ওর সাথেই এভাবে হঠাৎ যোগাযোগ হল ক'দিন আগে।

আমি মানতে পারছি না একদম। খুব অদ্ভুত লাগছে।
৯. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:২৫
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: জেনে ভালো লাগলো , দিনটা চমৎকার ছিলো , আপনার কবিতার মতই।

মিথি , নিজের বাড়িতে , বিছানায় , হয়ত একদম একাই বিদায় জানিয়েছে তার প্রিয় জানকে , জানি না সেখানে কোন অপ্রত্যাশিত ওম ছিলো কি না।

একটা অসাধারন সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।
১০. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪৬
comment by: অতিথি বলেছেন:
১১. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:৫৩
comment by: সারিয়া তাসনিম বলেছেন: ভালো লাগলো রাসেল ভাই
১২. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:০৪
comment by: সুর বাংলা বলেছেন: পারফেক্টো!
মন্তব্যগুলা!!!
১৩. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:১৬
comment by: অতিথি বলেছেন: :)
১৪. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৪৬
comment by: অতিথি বলেছেন: দারুন!!
১৫. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৫৩
comment by: অতিথি বলেছেন: কি বলব ? .......................................
১৬. ০৮ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: অসাধারন

 



 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১১২৮২৩